আইএসএলের মডেল বাজেট ঘিরে জটিলতার মধ্যেই মেরামতি শুরু যুবভারতীর
প্রতিযোগিতার 91টি ম্য়াচের সবক'টি গোয়ায় আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তাব থাকলেও বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা চলছে ৷

Published : January 8, 2026 at 4:48 PM IST
কলকাতা, 8 জানুয়ারি: বাজছে আইএসএলের দামামা ৷ সুইস মডেলে দেশের সর্বোচ্চ লিগ শুরু হবে আগামী 14 ফেব্রুয়ারি ৷ 14 দলীয় লিগে অংশগ্রহণের জন্য 13টি দল ইতিমধ্যে সম্মতি জানিয়েছে ৷ প্রতিযোগিতার 91টি ম্য়াচের সবক'টি গোয়ায় আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তাব থাকলেও বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা চলছে ৷ কারণ, ফুটবল নিয়ে প্রবল আবেগ জড়িয়ে কলকাতা এবং কেরলেও ৷ ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ঘরের মাঠে খেলার ব্যাপারে আগ্রহী ৷ এমনিতেই লিগ অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় ক্লাবগুলোকে আর্থিক ক্ষতির সামনে পড়তে হবে ৷ এই অবস্থায় ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ হাতাছাড়া করতে নারাজ কলকাতার দুই প্রধান ৷
বাংলার দুই প্রধানের ম্য়াচের জন্য বিবেচিত হবে কিশোরভারতী, কল্যাণী স্টেডিয়াম এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের নাম ৷ কিন্তু যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন কি ম্যাচ আয়োজনের জন্য তৈরি ? গত 13 ডিসেম্বর লিয়োনেল মেসির সফরে বিশৃঙ্খলার জেরে যে লন্ডভন্ড পরিস্থিতি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হয়েছিল, তারপর থেকে তদন্তের স্বার্থে তা বন্ধ রাখা হয় ৷ একমাস অতিক্রান্ত হতে চলল ৷ মেসি সফরের আয়োজক গারদে ৷ তদন্ত চলছে ৷ এরইমধ্যে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারের জন্য পূর্ত দফতর বড় অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করেছে ৷ ফুটবল সমর্থকদের জন্য সুখবর যে, পূর্ত দফতরের সহায়তায় যুবভারতী সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে ৷
উন্মত্ত জনতার রোষানলে পড়ে স্টেডিয়ামের ভালোরকম ক্ষতি হলেও আশার কথা যে, মাঠের বিশেষ ক্ষতি হয়নি ৷ যেটুকু হয়েছে তা প্রয়োজনে মাঝের এক মাসে ঠিক করে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে ৷ বুধবার স্টেডিয়ামের মূল দরজা খোলা হয়েছে ৷ যেটুকু ছবি পাওয়া যাচ্ছে তাতে গ্যালারিতে ভাঙা চেয়ার সরিয়ে নতুন চেয়ার বসানোর কাজ চলছে ৷
এদিকে আইএসএলের দিনঘোষণা হলেও 2025-26 মরশুমের বাজেট ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে একাধিক ক্লাব ৷ প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, আগামী মরশুমে আইএসএল পরিচালনার জন্য মোট খরচ ধরা হয়েছে 24.26 কোটি টাকা ৷ এর মধ্যে ফেডারেশন দেবে 9.70 কোটি টাকা, আর ক্লাবগুলির অবদান ধরা হয়েছে 14.56 কোটি টাকা ৷ পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি-ফি হিসেবে ক্লাবগুলির কাছ থেকে নেওয়া হবে আরও 14 কোটি টাকা ৷
এই হিসেব অনুযায়ী ফেডারেশনের হাতে নগদ থাকবে প্রায় 38 কোটি টাকা ৷ লিগ পরিচালনার প্রস্তাবিত খরচ 24.26 কোটি টাকা ৷ ফলে প্রায় 14 কোটি টাকা যে উদ্বৃত্ত থাকছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে একাধিক দল আর্থিক সংকটে রয়েছে ৷ একাধিক ক্লাব ইতিমধ্যেই ফুটবলারদের বেতন কমানোর অনুরোধ করেছে ৷ কোথাও কোথাও দলের সামগ্রিক বাজেটেও কাটছাট চলছে ৷ এমন অবস্থায় ক্লাবগুলি বাজেট মডেল উদ্বৃত্ত থাকা নিয়ে সঠিক ব্যাখ্যা চেয়েছে ৷
ক্লাবগুলির একাংশের দাবি, ফ্র্যাঞ্চাইজি-ফি কমানো বা পুরোপুরি মকুব করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত ৷ কারণ, ফ্র্যাঞ্চাইজি-ফি ক্লাবগুলির উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে ৷ এই প্রশ্ন ফেডারেশনের অন্দরমহলে উঠেছে বলেও জানা যাচ্ছে ৷ কয়েকটি ক্লাব সরাসরি জানতে চেয়েছে, উদ্বৃত্ত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং এর কোনও অংশ ক্লাবগুলোকে আর্থিক সমস্যা সুরাহার কাজে দেওয়া হতে পারে কি না ৷ ঘটনায় আইএসএল শুরুর আগে এই আর্থিক মডেল নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ল ৷ এখন দেখার ফ্র্যাঞ্চাইজি-ফি মকুব বা ছাড় নিয়ে ফেডারেশন চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় ৷

