ETV Bharat / politics

মৌসমের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন কি আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের কাঁটা ? কী বলছে রাজনীতির হিসেব

মৌসমের কংগ্রেসে ফেরাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে তৃণমূলের একাংশ ৷ উল্টোদিকে বেপরোয়া মনোভাব আবদুর রহিম বকসির ৷

MAUSAM NOOR RETURN TO CONGRESS
কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের পর শনিবার মালদা জেলায় ফিরলেন মৌসম বেনজির নুর ৷ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 11, 2026 at 6:18 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 11 জানুয়ারি: মৌসম বেনজির নুরের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন কি আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের কাছে কোনও ফ্যাক্টর হবে ? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মালদা জেলার রাজনৈতিক মহলে ৷ মৌসমের কংগ্রেসে ফেরা নিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি যাই বলুন না-কেন, দলের অন্দরমহলে কিন্তু এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ৷ তৃণমূলের সুরেই সুর মিলিয়েছে বিজেপিও ৷

গত 3 জানুয়ারি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিল্লিতে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন মৌসম ৷ শনিবার তিনি ফিরে এসেছেন মালদায় ৷ জেলায় পা রেখেই জানিয়ে দিয়েছেন, ছাব্বিশের নির্বাচনে বিশেষ কোনও কেন্দ্র নয়, জেলার 12টি কেন্দ্রেই নজর থাকবে তাঁর ৷ কোনও শর্ত দিয়ে বা নিয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেননি ৷ তাই তাঁকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়েও তাঁর কোনও মাথাব্যথা নেই ৷ যদিও হাত শিবিরের খবর, আসন্ন নির্বাচনে সুজাপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হচ্ছে মৌসমকে ৷ যে কেন্দ্র থেকে জিতে এসেছেন তাঁর প্রয়াত মামা বরকত গনি খান চৌধুরী এবং মা রুবি নুর ৷

Mausam Noor Return to Congress
মালদা জেলা তৃণমূলের সভাপতি আবদুর রহিম বকসি ৷ (ইটিভি ভারত)

তৃণমূলে থাকাকালীন মৌসমের নেতৃত্বেই একুশের নির্বাচনে লড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস ৷ সেবারই প্রথম রাজ্যের শাসকদল মালদা জেলায় বলার মতো ফলাফল করে ৷ 12টির মধ্যে আটটি আসন পায় তারা ৷ তখন মৌসম দলের জেলা সভানেত্রী ৷ নির্বাচনের কিছুদিন পর হঠাৎ করেই তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ৷ নিয়ে আসা হয় আবদুর রহিম বকসিকে ৷

পরবর্তীতে মৌসমকে রাজ্যসভার সাংসদ করে দিল্লি পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তবে, রহিম দলের জেলা সভাপতি পদে আসার পর থেকেই মৌসমের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে ৷ তাঁকে নাম কা ওয়াস্তে জেলা কমিটিতে রাখা হয় ৷ তেমনটাই জানাচ্ছেন জেলা তৃণমূলের এক নেতা ৷ তিনি আরও জানান, সম্প্রতি দলের সঙ্গেও দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন মৌসম ৷ অবশেষে তিনি দল ছেড়ে পুরনো দলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ৷

শাসকদলের ওই নেতার বিশ্লেষণ, "এবারের নির্বাচন মালদা জেলায় দলের জন্য একটু যে সমস্যার, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই ৷ এখনও জেলার বেশ কিছু জায়গায় মৌসমের প্রভাব রয়েছে ৷ বিশেষত সুজাপুরে ৷ গতকালও মৌসমকে স্বাগত জানাতে সুজাপুর থেকে প্রচুর মানুষ নিজেদের উদ্যোগে মালদা টাউন স্টেশনে গিয়েছিলেন ৷"

আর জেলার সংখ্যালঘু ভোটে এবার অনেক ভাগ বসবে বলে আশঙ্কা করছেন ওই নেতা ৷ তিনি বলেন, "শুধু মৌসম নয়, এর সঙ্গে এবার হুমায়ুন কবীর, নওশাদ সিদ্দিকী থেকে শুরু করে আসাউদ্দিন ওয়েইসির দলও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই জেলার দিকে নজর দিয়েছে ৷ তাঁরা হয়তো দাঁত ফোটাতে পারবে না ৷ কিন্তু, দাঁতের দাগ তো বসাতে পারে ৷ একথা ভুললে চলবে না, গত লোকসভা নির্বাচনে মৌসম আমাদের দলে থাকলেও জেলার 12টি বিধানসভা কেন্দ্রেই আমরা পিছিয়ে ছিলাম ৷ তাই আমাদের নতুন করে চিন্তা করতেই হবে ৷ সদ্য মালদা সফর করে গিয়েছেন আমাদের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ আশা করি, তিনি নির্বাচনের নয়া নকশা তৈরি করে আমাদের সেই অনুযায়ী চলার নির্দেশ দেবেন ৷"

এদিনও তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকসি দাবি করেন, "মৌসম নিয়ে আমরা কিছু ভাবছিই না ৷ তিনি অনেকদিন ধরেই রাজনীতি থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ৷ দলের কোনও কর্মসূচিতেও তাঁকে সেভাবে দেখা যায়নি ৷ অথচ তাঁকে আমরা শেষদিন পর্যন্ত যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েছি ৷ এখনও বলছি, ছাব্বিশের নির্বাচনে পুরনো আটটি কেন্দ্র তো বটেই, বাকি চারটি কেন্দ্রেও আমরাই জিতব ৷ আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদার মানুষকে দু’হাত ভরে দিয়েছেন ৷ আসন্ন নির্বাচনে জেলাবাসী আমাদের নেত্রীকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করবেন ৷"

বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, "মৌসম কিংবা অন্য কাউকে নিয়েই আমরা ভাবছি না ৷ আমরা নিজেদের সাংগঠনিক ক্ষমতার জোরে নির্বাচনে লড়ব ৷ কংগ্রেস আর তৃণমূল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ ৷ দুই দলই 'ইন্ডি' জোটে রয়েছে ৷ রাজ্যের মানুষ তৃণমূলের শাসনে ক্ষিপ্ত ৷ তাঁরা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন ৷ বিজেপিকে ভোট দিতে মুখিয়ে রয়েছেন ৷ মালদার মানুষও তার ব্যতিক্রম নয় ৷ সেখানে কংগ্রেস কিংবা মৌসম কোনও ফ্যাক্টরই নয় ৷"