ETV Bharat / politics

SIR: জুডিশিয়াল বৈঠকে মনোজ পন্থ! গ্রেফতারের দাবি সুকান্তর, পালটা যুক্তি নবান্নর

সুপ্রিম কোর্টের 20 ফেব্রুয়ারির নির্দেশে স্পষ্ট বলা রয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে হওয়া জুডিশিয়াল বৈঠকে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট প্রতিনিধিরাই থাকতে পারবেন ।

Sukanta majumdar
মনোজ পন্থ ও সুকান্ত মজুমদার (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 24, 2026 at 8:15 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা/বারাসত, 24 ফেব্রুয়ারি: সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত জুডিশিয়াল বৈঠকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক উসকে দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার । তাঁর দাবি, " মনোজ পন্থ এখন আর রাজ্যের মুখ্যসচিব নন। তা হলে কোন পদাধিকার বলে তিনি সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ? এটি অনৈতিক, এমনকী অপরাধের সামিল । অবিলম্বে এফআইআর করে তাঁকে গ্রেফতার করা উচিত ।"

তবে সুকান্ত মজুমদারের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন । নবান্নের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অন্য কারও নয়, খোদ প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমেই ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মনোজ পন্থ ।

মনোজ পন্থকে গ্রেফতারের দাবি সুকান্তর (ইটিভি ভারত)

মঙ্গলবার উত্তর 24 পরগনার বারাসতে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এ ব্যাপারে সরব হন সুকান্ত । তাঁর কথায়, সুপ্রিম কোর্টের 20 ফেব্রুয়ারির নির্দেশে স্পষ্ট বলা রয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে হওয়া জুডিশিয়াল বৈঠকে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট প্রতিনিধিরাই থাকতে পারবেন । সুকান্তর প্রশ্ন, " আদালতের নির্দিষ্ট গাইডলাইনের বাইরে বৈঠকে আর কারও থাকার কথা নয় । বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছি, এসআইআর-এর নথি যাচাই সংক্রান্ত বৈঠকে মনোজ পন্থ উপস্থিত ছিলেন । তা হলে কি আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হল? "

এখানেই না থেমে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, এভাবে ‘অবাঞ্ছিত’ ব্যক্তিকে বৈঠকে ঢুকিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির উপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে রাজ্য সরকার । বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে তদন্তের দাবিও জানান তিনি ।

বিরোধী শিবিরের এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে রাজ্য সরকারের সদর দফতর নবান্ন । প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রাক্তন মুখ্যসচিবের ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ বৈধ । প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, প্রধান বিচারপতির অনুমোদন নিয়েই মনোজ পন্থ ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। কাজেই এই বিতর্ক অর্থহীন ।

উল্লেখ্য, প্রশাসনিক রদবদলের পর বর্তমানে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব হিসেবে কর্মরত । প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতা ও এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণেই, প্রধান বিচারপতির অনুমতি সাপেক্ষে তাঁর এই উপস্থিতি বলে জানা গিয়েছে । এখন দেখার এই বিতর্কের জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায় ।

এদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে অতিরিক্ত জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ নিয়েও রাজ্যকে কাঠগড়ায় তুলেছেন সুকান্ত । তাঁর দাবি, " রাজ্য সরকার সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে সুপ্রিম কোর্টকে এমন নির্দেশ দিতে হত না । তৃণমূল এসআইআর প্রক্রিয়ায় বারবার বাধা দিচ্ছে । সে কারণেই এই দেরি ৷ তবে আমরা অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে বলছি, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হবেই ।"

উল্লেখ্য, এসআইআর এর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে বাংলায় ভোটের প্রশ্নই ওঠে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ৷ অতীতে তিনিও এসআইআর এর কাজে বাধা দেওয়ার জন্য রাজ্যের তৃণমূল সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন ৷ সুকান্তর এদিনের বক্তব্যেও স্পষ্ট, এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর আরও তীব্রতর করার পথে হাঁটবে গেরুয়া শিবির ৷

একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন পুরসভায় অনুন্নয়ন, দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্যের ‘অসহযোগিতা’র অভিযোগও তোলেন সুকান্ত মজুমদার। কটাক্ষের সুরে বলেন, “এটা মামার বাড়ি নয় । যে জুডিশিয়াল বৈঠকে যে খুশি উপস্থিত থাকবে ৷ আইন মেনেই সবটা করতে হবে ।”