ETV Bharat / politics

মঙ্গল-সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কংগ্রেসের অধীর, মোদির সঙ্গে কী কথা হল

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে এখন নয়াদিল্লিতে রয়েছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ সেই সুযোগে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেছেন এবং একটি চিঠিও দিয়েছেন৷

Adhir Ranjan Chowdhury
অধীররঞ্জন চৌধুরী (বাঁদিকে)৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (ডানদিকে) (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 30, 2025 at 5:15 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 30 ডিসেম্বর: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে৷ সব রাজনৈতিক দলই কোমর বেঁধে ভোটের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে৷ মঙ্গলবার একগুচ্ছ দলীয় কর্মসূচি নিয়ে কলকাতায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে হয়ে গেল এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক৷ যে বৈঠকের দুই কুশীলবের মধ্যে একজন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী এবং দ্বিতীয়জন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷

মঙ্গলবার সকালে দেশের রাজধানীতে সাত নম্বর লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী৷ সেখানে বেশ কিছুক্ষণ তিনি ছিলেন৷ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও হয় তাঁর৷

মঙ্গল-সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কংগ্রেসের অধীর, মোদির সঙ্গে কী কথা হল (ইটিভি ভারত)

তাঁর এই বৈঠকের খবর সামনে আসতেই হইচই শুরু হয়ে যায় দিল্লি থেকে কলকাতায়৷ অধীর প্রায় আড়াই দশক সাংসদ ছিলেন৷ কয়েক দফায় প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতিত্ব সামলেছেন৷ ইউপিএ-2 সরকারে রেলমন্ত্রী ছিলেন৷ 2019 সাল থেকে 2024 সাল পর্যন্ত লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা (কার্যত বিরোধী দলনেতা) ছিলেন তিনি৷ সেই কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে৷ যেহেতু ভোট আসন্ন, তাই অনেকেই এই বৈঠক ঘিরে নানা অঙ্ক কষতে শুরু করেছেন৷

যদিও সব জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন অধীর নিজেই৷ তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে কথা বলতেই প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দেখা করেন৷ বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে, তা নিয়েই কথা বলতে গিয়েছিলেন৷

অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেছি৷ আমি এখানে (নয়াদিল্লি) এসেছিলাম কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে৷ যখন দিল্লিতেই এলাম, তখন ভাবলাম একবার যদি চেষ্টা করা যায় পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের দুরাবস্থার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা যায়, তাহলে সেটা খারাপ হয় না৷ আমি সেই জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট (দেখা করার সময়) চেয়েছিলাম৷ ঘটনাচক্রে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়ে গিয়েছিলাম৷ এবং পেয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বোঝালাম যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক বাইরের রাজ্যে থাকেন৷ তাঁদের উপর অত্যাচার হচ্ছে৷ সবচেয়ে বড় কথা এগুলো বিজেপি শাসিত রাজ্যে হচ্ছে৷ এটা আপনাদের দেখা দরকার৷’’

বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ আরও বলেন, ‘‘দ্বিতীয়ত আমি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটাধিকারের কথা বলেছি৷ এবং এটাও আপনাদের বলছি, ওড়িশায় আমার জেলার ছেলে জুয়েলকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে৷ আপনারা জানেন কিছুদিন আগে আমি পানিপথেও গিয়েছিলাম, এই পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য৷ আমি আগামিদিনে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ওড়িশাতেও যাব৷’’

অধীর জানান, তিনি হেরে গিয়েছেন৷ কিন্তু হার-জিত তাঁর কাছে বড় নয়৷ যেখানে পরিযায়ী শ্রমিক অত্যাচারিত হবে, তিনি সেখানে যাবেন৷ অত্যাচারের হাত থেকে তাঁদের বাঁচাবেন৷ এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিছু করবে কি না, সেটা তিনি ভাবছেন না বলেও জানান কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতা৷ তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে এটা নির্বাচনী ইস্যু৷ কিন্তু সাধারণ পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে থাকতেই এই কাজ করছেন৷ ওড়িশায় গিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি৷

অধীর জানান, প্রধানমন্ত্রী সবটা জানেন না বলেও জানিয়েছেন৷ তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন৷ এছাড়া মতুয়াদের বিষয়টি নিয়েও গুরুত্ব দেখার অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন অধীর৷ এই সমস্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অধীর চৌধুরী৷

তিনি বলেন, "বছরের পর বছর ধরে, তারা বিজেপি বা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু এসআইআর-এর পর থেকে তাঁদের নাম মুছে ফেলা হতে পারে। তাঁরা আশঙ্কার মধ্যে বাস করছে। সরকারের দায়িত্ব হল এটি খতিয়ে দেখা৷ কারণ, এই সমস্ত নির্যাতিত বাংলাদেশি দলিত এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত৷"

উল্লেখ্য, সামগ্রিক বিষয়টি চিঠি আকারেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দিয়েছেন অধীর চৌধুরী৷ সেখানে বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি৷ সেই চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছেন, "তাঁদের (পরিযায়ী শ্রমিক) একমাত্র অপরাধ হল, তাঁরা বাংলা ভাষায় কথা বলে, যা প্রায়শই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রতিবেশী বাংলাদেশের লোক বলে ভুল বোঝে এবং তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করে।" তিনি এই নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন৷

আরও পড়ুন -

  1. SIR-ইস্যুতে অধীরের দ্বারস্থ মতুয়ারা, পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস কংগ্রেস নেতার
  2. ওড়িশা থেকে গ্রামে ফিরল জুয়েলের দেহ, ভিনরাজ্যে নিরাপত্তা নেই; ফুঁসছে এলাকাবাসী