নির্দেশিকা উড়িয়ে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে দেওয়াল লিখন ! নরেন্দ্রনাথকে কটাক্ষ বিজেপির
দেওয়াল যে কথা বলতে শুরু করেছে - তা স্পষ্ট । এখন দেখার, দেওয়ালের এই লিখনই প্রার্থী তালিকায় পাকাপাকি জায়গা পায় কি না !

Published : February 27, 2026 at 4:24 PM IST
দুর্গাপুর, 27 ফেব্রুয়ারি : যেন রাম না জন্মাতেই রামায়ণ ! এখনও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি । প্রার্থীর নামও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি দল । তার আগেই পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়ালে জ্বলজ্বল করছে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নাম ! কেন্দ্রা অঞ্চলে শুরু হওয়া এই দেওয়াল লিখন ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ।
প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি তবে আগাম শক্তিপ্রদর্শন ? নাকি সম্ভাব্য টিকিট নিয়ে চাপ তৈরি ? বিরোধীরা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে টিপ্পনি কাটতে ছাড়েনি । বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, " দল যদি অন্য কাউকে প্রার্থী করে দেয়, সেই আশঙ্কাতেই আগেভাগে নিজের নামে দেওয়াল দখল !" যদিও পাণ্ডবেশ্বরের বর্তমান বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী দাবি করেছেন, কর্মীদের ‘অতি উৎসাহ’-এর ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে ।
2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকদিন আগেই জেলা নেতৃত্বের মাধ্যমে স্পষ্ট নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস । বলা হয়েছিল, যতক্ষণ না আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা হচ্ছে, ততক্ষণ কোনও আসনে ব্যক্তিনির্ভর দেওয়াল লিখন বা প্রচার করা যাবে না । সেখানে পাণ্ডবেশ্বরে এই আগাম নাম-লেখা স্বভাবতই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিনা, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে ।
এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে গত নভেম্বর থেকেই রাজ্যে নির্বাচনের আবহ তৈরি । শাসক-বিরোধী কেউই এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ । পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক তাপমাত্রা এখনই চড়তে শুরু করেছে । বহুল ব্যবহৃত সেই প্রবাদ যেন আবার ফিরে এসেছে, ‘বিনা যুদ্ধে সূচাগ্র মেদিনী’ !
পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর মহকুমার অন্তর্গত পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র বরাবরই হাই-ভোল্টেজ । 2021 সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া জিতেন্দ্র তিওয়ারীকে পরাজিত করেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী । সেই লড়াইয়ের রেশ এখনও টাটকা । এবার ফের নির্বাচনের দামামা বাজতেই 'একুশের বদলা'র ডাক দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন জিতেন্দ্র । পালটা নরেন্দ্রনাথও প্রচারে একচুল জমি ছাড়ছেন না ।
কেন্দ্রা অঞ্চলে যমুনা ধীবরের নেতৃত্বে 'নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে প্রার্থী চাই' স্লোগানে দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে । এ প্রসঙ্গে নরেন্দ্রনাথ বলেন, " ওরা ভুল করছে । লিখতে হবে জোড়া ফুলকেই চাই । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে প্রার্থী করবেন, তিনিই জয়ী হবেন । এভাবে নামোল্লেখ করে দেওয়ার না লেখার জন্য আমি ওদের বলেছি ।"
অন্যদিকে কটাক্ষের সুর চড়িয়ে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির মন্তব্য, " যাঁরা ক্ষমতায় থেকেও মানুষের হৃদয়ে নিজের নাম লিখতে পারেন না, তাঁদের দেওয়ালে নিজের নাম লেখার তাড়া থাকে ! 2011 সাল থেকে ক্ষমতায় থেকেও মানুষের মনে জায়গা করতে পারেননি বলেই এই তাড়াহুড়ো ।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে জল্পনা যত বাড়বে, ততই বাড়বে এই ধরনের 'সাংকেতিক লড়াই'। পাণ্ডবেশ্বরে যদি শেষ পর্যন্ত নরেন বনাম জিতেন দ্বৈরথ হয়, তবে রাজ্যের 294টি আসনের মধ্যে এটি অন্যতম নজরকাড়া কেন্দ্র হয়ে উঠবে— এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল ।
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও, দেওয়াল যে কথা বলতে শুরু করেছে— তা স্পষ্ট। এখন দেখার, দেওয়ালের এই লিখনই প্রার্থী তালিকায় পাকাপাকি জায়গা পায় কিনা !
আরও পড়ুন:
শিলিগুড়িতে নিজের ওয়ার্ডে দেওয়াল লিখন গৌতম দেবের, তুঙ্গে জল্পনা
জেইউপি'র প্রতীক না-মিললেও রেজিনগরে হুমায়ুনের নামে দেওয়াল লিখন শুরু

