ছাব্বিশেও উত্তর কলকাতায় সাতে সাত হবে তৃণমূলের, শাহের ঠনঠনিয়া সফরকে নিষ্ফলা বলে কটাক্ষ সুদীপের
বুধবার কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দেন অমিত শাহ৷ পরে অমিত শাহের সফর নিয়ে কটাক্ষ করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়৷

Published : December 31, 2025 at 8:05 PM IST
কলকাতা, 31 ডিসেম্বর: তিলোত্তমার বুকে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন দলীয় সংগঠনকে চাঙ্গা করার বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর এই সফরকে কার্যত ‘নিষ্ফলা’ বলে দাগিয়ে দিলেন উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে অমিত শাহের পুজো দেওয়া এবং উত্তর কলকাতায় বিজেপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে মুখ খুলে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, যতই পুজো দেওয়া হোক বা সাংগঠনিক বৈঠক হোক, উত্তর কলকাতার মাটিতে বিজেপির ‘খাতা খোলা’র স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
বুধবার সায়েন্স সিটির কর্মসূচি সেরে সোজা উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে যান অমিত শাহ। সেখানে ভক্তিভরে পুজো দেন এবং দলীয় সূত্রে খবর, আসন্ন নির্বাচনে উত্তর কলকাতায় দলকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার বার্তা দেন তিনি। কিন্তু শাহের এই কর্মসূচি শেষ হতে না হতেই টেলিফোনে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘ওরা যাই করুক উত্তর কলকাতায় খাতা খুলতে পারবে না৷’’
কেন তিনি এতটা আত্মবিশ্বাসী? তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতা। সুদীপবাবু পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, উত্তর কলকাতা বরাবরই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। বিধানসভা হোক বা লোকসভা, এখানকার মানুষ বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ওপরই আস্থা রেখেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘‘উত্তর কলকাতায় বর্তমানে সাতটি বিধানসভা আসন রয়েছে। 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে যখন বিজেপির হাওয়া তোলার চেষ্টা হয়েছিল, তখনও এই সাতটি আসনের সবক’টিতেই জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস।’’ সাংসদের দাবি, আগামী 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সেই ফলাফলেরই পুনরাবৃত্তি ঘটবে। ফলাফলে কোনও রদবদল হবে না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অমিত শাহের এই সফর মূলত কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হলেও, তৃণমূল সাংসদের এই শ্লেষাত্মক মন্তব্য বুঝিয়ে দিচ্ছে যে শাসকদল নিজেদের দুর্গ অটুট রাখা নিয়ে কতটা নিশ্চিত। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অমিত শাহ বা দিল্লির নেতারা যতই আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকুন না কেন, উত্তর কলকাতার সাধারণ মানুষের সমর্থন তৃণমূলের সঙ্গেই আছে এবং থাকবে। শাহের পুজো বা সফর - কোনোটাই ইভিএম-এ বিজেপির পক্ষে ভোট বাক্সে ঝড় তুলতে পারবে না।

