তপ্ত হচ্ছে বারাবনির মাটি, সুকান্তের সভার পরেই তৃণমূলের বিধানের হুঙ্কার 'বদলা চাই'
কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলের 'গড়ে' পানুরিয়ায় মিছিল এবং একটি সভা করেছিলেন ।

Published : January 10, 2026 at 7:25 PM IST
আসানসোল, 10 জানুয়ারি: 'বদল নয়, বদলা চাই' ৷ পাঁচ বছর পর বারাবনিতে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সভার পরেই হুঙ্কার দিলেন তৃণমূল বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় ৷
মূলত, 2021 সালের পর থেকে আসানসোলের বারাবনি বিধানসভায় তেমন কোনও বড় ধরনের কর্মসূচি নিতে পারেনি বিজেপি । বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি সাংসদ থাকাকালীন বেশ কয়েকবার নানা কর্মসূচিতে গিয়েছেন এবং তৃণমূলের বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ । তারপর থেকে বিজেপি জেলাস্তরে যাই অনুষ্ঠান করেছে, তাতেই তৃণমূল বাধা দিয়েছে বলে বিজেপির নেতৃত্বরা অভিযোগ করেছে । এরপর কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এসেছিলেন বারাবনিতে ৷ একেবারে তৃণমূলের 'গড়ে' পানুরিয়ায় তিনি মিছিল এবং একটি সভা করেন ।
সুকান্ত মজুমদার বারাবনির সভামঞ্চ দাঁড়িয়ে নাম করেই বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় এবং বারাবনি ব্লকে তৃণমূলের সভাপতি অসিত সিংহকে আক্রমণ করেন । সুকান্ত মজুমদার বলেন, "2021 সালের আমাদের উপর অত্যাচারের পর আমাদেরকে কোনও বড় ধরনের কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি । একবার আমাদের কর্মীরা মার খেয়েছিল । তখন আমি এসেছিলাম রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন । কিন্তু এখানকার বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় এবং ব্লক সভাপতি অসিত সিং বলেছিল আমাদের কোনও কর্মসূচি করতে দেবে না । তাই 26 পর্যন্ত আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা পিচ তৈরি করেছি । রাতের অন্ধকারে আমাদের কর্মীরা চুপিচুপি কাজ করেছে । আমাদের জেলা সভাপতি কাজ করেছেন । এবার পিচ একেবারে রেডি । এবার টি-টোয়েন্টি খেলা হবে । ছয়ের পর ছয় হবে । বল এলেই তা শুধু ওভার বাউন্ডারিতে যাবে ।"

তারপর থেকেই বারাবনির মাটি কার্যত তপ্ত হতে শুরু করেছে । সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য উস্কানিমূলক বলেও দাবি করেছেন বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় এবং বারাবনি ব্লক সভাপতি অসিত সিংহ । বিধান উপাধ্যায়ের মতে, এই ধরনের বক্তব্যে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ ভয় পেতে পারে । কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন, "বিধান উপাধ্যায় শুরু থেকে শুরু করে অসিত সিংহ, যারা খাচ্ছেন তারা প্রাণ ভরে খান । কিন্তু লাল ডায়েরিতে লিখে রাখুন হজম হতে দেব না ।"
তিনদিন পর সেই বারাবনিতেই পালটা সভা থেকে বিধান উপাধ্যায় সুকান্ত মজুমদারের উদ্দেশ্যে বলেন, "উনি নাকি শিক্ষার মন্ত্রী । আর এখানে এসে বক্তব্যে বললেন, কে নাকি কয়লা চুরি করছে, কে নাকি বালি চুরি করছে, কে নাকি গরু চুরি করছে । এইতো শিক্ষামন্ত্রীর ভাষা । তিনি নাকি বলছেন হজম হতে দেবেন না । একেবারে মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে টাকা বার করে নিয়ে আসবেন । বড় বড় ডাক্তাররা যা পারে না উনি নাকি তাই করবেন ।"

এরপরেই বিধান উপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়ে বলেন, "বারাবনির মাটি মানিক উপাধ্যায়ের মাটি । আমি মানিক উপাধ্যায়ের ছেলে বলে বলছি না । কিন্তু এই মানিক উপাধ্যায়কে বারাবনির মাটিতে যারা অপমান করে যান, বারাবনির মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না । দিদি বলেছিলেন বদলা নয়, বদল চাই । 2026 এ আমাদের সরকার বদল হবে না । আমরাই থাকব । কিন্তু দিদির সেই স্লোগানকে আমি একটু পালটে বলতে চাই, বদল নয় এবার বদলা চাই । যারা বারাবনির মাটিতে মানুষকে অপমান করছেন, মানুষকে ছোট করছেন তাদের জন্য বদলা সুনিশ্চিত ।"

তৃণমূল ব্লক সভাপতি অসিত সিংহ বলেন, "কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উন্নয়ন নিয়ে কথা বলা উচিত ছিল ৷ কিন্তু ওরা উন্নয়ন নয়, মানুষকে গালিগালাজ করে ৷ দলটাই তো সন্ত্রাস কবলিত ৷ আমার এলাকার বিজেপি নেতারা কেউ ছিনতাই, কেউ চুরির মামলায় যুক্ত ৷ যারা দু'তিনবার হেরেছে তারাই বিজেপি করে ৷ সুকান্ত মজুমদারের সভায় এমন গেট করেছে যেন নরেন্দ্র মোদি আসছেন ৷"
দু'পক্ষের এই উত্তেজক ভাষণে কর্মীদের মধ্যেও যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে । ফলে 'অশান্তি প্রবণ' বলে চিহ্নিত বারাবনি বিধানসভা ভোটের আগে অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে অনেকেরই আশঙ্কা ।

