ETV Bharat / politics

তপ্ত হচ্ছে বারাবনির মাটি, সুকান্তের সভার পরেই তৃণমূলের বিধানের হুঙ্কার 'বদলা চাই'

কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলের 'গড়ে' পানুরিয়ায় মিছিল এবং একটি সভা করেছিলেন ।

Trinamool MLA Bidhan Upadhyay
সুকান্তকে পালটা হুঙ্কার বিধানের (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 10, 2026 at 7:25 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

আসানসোল, 10 জানুয়ারি: 'বদল নয়, বদলা চাই' ৷ পাঁচ বছর পর বারাবনিতে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সভার পরেই হুঙ্কার দিলেন তৃণমূল বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় ৷

মূলত, 2021 সালের পর থেকে আসানসোলের বারাবনি বিধানসভায় তেমন কোনও বড় ধরনের কর্মসূচি নিতে পারেনি বিজেপি । বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি সাংসদ থাকাকালীন বেশ কয়েকবার নানা কর্মসূচিতে গিয়েছেন এবং তৃণমূলের বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ । তারপর থেকে বিজেপি জেলাস্তরে যাই অনুষ্ঠান করেছে, তাতেই তৃণমূল বাধা দিয়েছে বলে বিজেপির নেতৃত্বরা অভিযোগ করেছে । এরপর কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এসেছিলেন বারাবনিতে ৷ একেবারে তৃণমূলের 'গড়ে' পানুরিয়ায় তিনি মিছিল এবং একটি সভা করেন ।

তপ্ত হচ্ছে বারাবনির মাটি, সুকান্তের সভার পরেই তৃণমূলের বিধানের হুঙ্কার 'বদলা চাই' (ইটিভি ভারত)

সুকান্ত মজুমদার বারাবনির সভামঞ্চ দাঁড়িয়ে নাম করেই বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় এবং বারাবনি ব্লকে তৃণমূলের সভাপতি অসিত সিংহকে আক্রমণ করেন । সুকান্ত মজুমদার বলেন, "2021 সালের আমাদের উপর অত্যাচারের পর আমাদেরকে কোনও বড় ধরনের কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি । একবার আমাদের কর্মীরা মার খেয়েছিল । তখন আমি এসেছিলাম রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন । কিন্তু এখানকার বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় এবং ব্লক সভাপতি অসিত সিং বলেছিল আমাদের কোনও কর্মসূচি করতে দেবে না । তাই 26 পর্যন্ত আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা পিচ তৈরি করেছি । রাতের অন্ধকারে আমাদের কর্মীরা চুপিচুপি কাজ করেছে । আমাদের জেলা সভাপতি কাজ করেছেন । এবার পিচ একেবারে রেডি । এবার টি-টোয়েন্টি খেলা হবে । ছয়ের পর ছয় হবে । বল এলেই তা শুধু ওভার বাউন্ডারিতে যাবে ।"

Trinamool MLA Bidhan Upadhyay
বারাবনির তৃণমূল বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় (নিজস্ব ছবি)

তারপর থেকেই বারাবনির মাটি কার্যত তপ্ত হতে শুরু করেছে । সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য উস্কানিমূলক বলেও দাবি করেছেন বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় এবং বারাবনি ব্লক সভাপতি অসিত সিংহ । বিধান উপাধ্যায়ের মতে, এই ধরনের বক্তব্যে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ ভয় পেতে পারে । কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন, "বিধান উপাধ্যায় শুরু থেকে শুরু করে অসিত সিংহ, যারা খাচ্ছেন তারা প্রাণ ভরে খান । কিন্তু লাল ডায়েরিতে লিখে রাখুন হজম হতে দেব না ।"

তিনদিন পর সেই বারাবনিতেই পালটা সভা থেকে বিধান উপাধ্যায় সুকান্ত মজুমদারের উদ্দেশ্যে বলেন, "উনি নাকি শিক্ষার মন্ত্রী । আর এখানে এসে বক্তব্যে বললেন, কে নাকি কয়লা চুরি করছে, কে নাকি বালি চুরি করছে, কে নাকি গরু চুরি করছে । এইতো শিক্ষামন্ত্রীর ভাষা । তিনি নাকি বলছেন হজম হতে দেবেন না । একেবারে মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে টাকা বার করে নিয়ে আসবেন । বড় বড় ডাক্তাররা যা পারে না উনি নাকি তাই করবেন ।"

Trinamool leader
তৃণমূল বারাবনি ব্লক সভাপতি অসিত সিংহ (নিজস্ব ছবি)

এরপরেই বিধান উপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়ে বলেন, "বারাবনির মাটি মানিক উপাধ্যায়ের মাটি । আমি মানিক উপাধ্যায়ের ছেলে বলে বলছি না । কিন্তু এই মানিক উপাধ্যায়কে বারাবনির মাটিতে যারা অপমান করে যান, বারাবনির মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না । দিদি বলেছিলেন বদলা নয়, বদল চাই । 2026 এ আমাদের সরকার বদল হবে না । আমরাই থাকব । কিন্তু দিদির সেই স্লোগানকে আমি একটু পালটে বলতে চাই, বদল নয় এবার বদলা চাই । যারা বারাবনির মাটিতে মানুষকে অপমান করছেন, মানুষকে ছোট করছেন তাদের জন্য বদলা সুনিশ্চিত ।"

Sukanta Majumdar
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সভা বারাবনিতে (নিজস্ব ছবি)

তৃণমূল ব্লক সভাপতি অসিত সিংহ বলেন, "কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উন্নয়ন নিয়ে কথা বলা উচিত ছিল ৷ কিন্তু ওরা উন্নয়ন নয়, মানুষকে গালিগালাজ করে ৷ দলটাই তো সন্ত্রাস কবলিত ৷ আমার এলাকার বিজেপি নেতারা কেউ ছিনতাই, কেউ চুরির মামলায় যুক্ত ৷ যারা দু'তিনবার হেরেছে তারাই বিজেপি করে ৷ সুকান্ত মজুমদারের সভায় এমন গেট করেছে যেন নরেন্দ্র মোদি আসছেন ৷"

দু'পক্ষের এই উত্তেজক ভাষণে কর্মীদের মধ্যেও যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে । ফলে 'অশান্তি প্রবণ' বলে চিহ্নিত বারাবনি বিধানসভা ভোটের আগে অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে অনেকেরই আশঙ্কা ।