এসআইআর চাপিয়ে দেওয়া হঠকারি সিদ্ধান্ত, প্রতিবাদে তৃণমূল রাস্তায় নামছে: কুণাল
মঙ্গলবার থেকে এসআইআর-এর জন্য বাড়ি বাড়ি যাবেন বিএলও-রা৷ সেদিনই এই নিয়ে মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷

Published : November 3, 2025 at 9:40 PM IST
কলকাতা, 3 নভেম্বর: আগামিকাল এসআইআর-এর প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহামিছিল। উপস্থিত থাকবেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তার আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের র্যালি সাধারণ মানুষকে নিপীড়ন ও সন্ত্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য।"
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কুণাল বলেন, ‘‘4 নভেম্বর রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই র্যালিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত থাকবেন। নতুন করে ডানকুনিতে এক বাসিন্দার মৃত্যুর খবর এসেছে সোমবার। তাঁর পরিবারের দাবি, এসআইআরের ভয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে৷’’
কুণাল ঘোষ বলেন, "সাধারণ মানুষ আতঙ্কে আছেন। ভয়ের কারণে মানুষ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে। এর জন্য বিজেপি দায়ী। পানিহাটি থেকে কোচবিহার এবং বীরভূমে পর্যন্ত মানুষ এসআইআর-এর ভয়ে আত্মহত্যা করছে। মানুষের মধ্যে এমন ভয় আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
কুণাল ঘোষ জোর গলায় বলেন, "একজনও বৈধ ভোটার, একজনও বৈধ নাগরিক বাদ যাবে না। আবার অবৈধ ভোটারও লিস্টে ঢুকবে না। আমাদের এটাই বক্তব্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই কথাই বলেছেন। মহারাষ্ট্র দিল্লিতে যে গেমটা খেলেছিল বিজেপি, সেটা এ রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরে ফেলেছে। মানুষের ভোট হবে। বিপুল ক্ষমতা নিয়ে তৃণমূল ফিরে আসবে।"
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে বিএলও-রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত কথাবার্তা এই গোটা প্রক্রিয়াটা নির্বাচন কমিশন বিজেপির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাপিয়ে দিয়েছে আচমকা। যে কাজটা 2002 সালে 2 বছর ধরে হয়েছিল, সেটা এই ক’দিনে করতে হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ভোটের মুখে এই এসআইআর করতে হবে বলেছে৷ চাপিয়ে দেওয়া হল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে৷ সমস্যায় অনেকেই পড়ছে। বিজেপি এখন বুঝতে পারছে যে এসআইআর যত এগোচ্ছে, হিন্দুরাও তত বিপদে পড়ছে৷ আর তাই বিভ্রান্তি ছড়াতে এই ধরনের কথাবার্তা বলছে ওরা। নির্বাচন কমিশনকেই তো বিএলওদের নিরাপত্তা দিতে হবে। কারণ তারাই বিএলও নিয়োগ করেছে।’’

