আইপ্যাকে হানা: নেপথ্যে শাহের মন্ত্রক? 'দাদা'র মেসেজ ফাঁস করে বিস্ফোরক কুণাল
এই ঘটনাকে 'বৃহত্তর ষড়যন্ত্র' বলে অভিহিত করেছেন কুণাল ঘোষ ৷ পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি ।

Published : January 11, 2026 at 3:09 PM IST
কলকাতা, 11 জানুয়ারি: আইপ্যাক (I-PAC)-এ ইডি-র (ED) হানা কি নিছকই তদন্ত, নাকি এর পিছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশেই কি বিরোধীদের প্রচারের তথ্য হাতিয়ে নিতে চাইছে তদন্তকারী সংস্থা ? এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ।
একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট (যার সত্যতা যাচাই করেনি ইটিভি ভারত) সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, দিল্লির ইশারায় এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে । এই ঘটনাকে 'বৃহত্তর ষড়যন্ত্র' বা 'লার্জার কন্সপিরেসি' বলে অভিহিত করে পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ ।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে । আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-র হানা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে । স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, তল্লাশির নামে তৃণমূলের প্রচারের তথ্যভাণ্ডার চুরি করার চেষ্টা করছে বিজেপি । সেই অভিযোগের সপক্ষে কার্যত এবার ডিজিটাল প্রমাণ পেশের চেষ্টা কুণাল ঘোষের ।
রবিবার কুণাল ঘোষ একটি ভিডিয়ো বার্তা ও সোশাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে একটি 'ফরওয়ার্ডেড মেসেজ'-এর প্রসঙ্গ সামনে আনেন । তিনি বলেন, "সূত্র মারফত একটি বার্তা আমার হাতে এসেছে । এর সত্যতা আমি যাচাই করতে পারিনি । তবে এটি যদি সত্য হয়, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ।"

কুণালের শেয়ার করা ওই স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, কেউ একজন 'দাদা' বলে সম্বোধন করে ইডি আধিকারিকদের অত্যন্ত গোপনীয় সফরসূচি অপরপ্রান্তে থাকা কাউকে পাঠাচ্ছেন । সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, 13 জন ইডি আধিকারিক, যাঁদের মধ্যে অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ডেপুটি ডিরেক্টর পদমর্যাদার অফিসাররা রয়েছেন, তাঁরা কলকাতা আসছেন । নির্দিষ্ট করে বিমানের নম্বরও (6E 5014 এবং SG 263) উল্লেখ করা হয়েছে ওই বার্তায় ।
কুণাল ঘোষের মূল নিশানায় রয়েছে ওই বার্তার শেষ অংশটি । সেখানে লেখা রয়েছে, সিজিও কমপ্লেক্সে (CGO Complex) একটি জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যা 'কমিউনিকেট' বা যোগাযোগ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Home Minister) পিএস সাকেত কুমারের (Saket Kumar) দফতর থেকে ।
কুণালের প্রশ্ন, "একজন তদন্তকারী আধিকারিক অন্যজনকে 'দাদা' বলে সম্বোধন করবেন না । সাধারণত রাজনৈতিক নেতাদেরই 'দাদা' বলা হয় । আর ইডি অফিসাররা কবে আসবেন, কোথায় বৈঠক করবেন - সেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস কেন ঠিক করে দেবেন ?"

ভিডিয়ো বার্তায় কুণাল ঘোষ আরও দাবি করেন, ওই বার্তায় মহারাষ্ট্র থেকে একজন অফিসারের আসার কথা এবং গুলশন রাই (Gulshan Rai) নামে এক সাইবার এক্সপার্টের রাতে শহরে পৌঁছনোর কথাও উল্লেখ রয়েছে । তৃণমূল নেতার অভিযোগ, আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশির অছিলায় তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারের ডেটাবেস এবং কৌশল জেনে নিয়ে তা বিজেপির হাতে তুলে দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য । তিনি বলেন, "যদি এই মেসেজ সত্যি হয়, তবে বুঝতে হবে এর পিছনে বিরাট বড় চক্রান্ত রয়েছে । পুলিশ ও তদন্তকারীদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত ।"
অন্যদিকে, আইপ্যাক-কাণ্ডে আইনি লড়াইও জোরদার হয়েছে । শুক্রবারই কলকাতা হাইকোর্ট ইডি-র দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দিয়েছে । এরপর কেন্দ্রীয় সংস্থাটি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে । রাজ্য সরকারও সেখানে ক্যাভিয়েট দাখিল করে রেখেছে । এই আইনি জট এবং কুণাল ঘোষের এই নতুন 'তথ্য ফাঁস' বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল ।
তৃণমূলের দাবি, অমিত শাহের দফতর থেকে ইডি-কে রিমোট কন্ট্রোলে চালনা করা হচ্ছে, আর এই মেসেজটিই তার প্রমাণ । এখন দেখার, পুলিশ এই দাবির ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করে কি না ।

