অভিষেকের বাংলা সফরে বিজেপি ভয় পেয়েছে বলেই চপার বিভ্রাট, দাবি কুণালের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বঙ্গ-সফর নিয়েও কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ৷

Published : January 6, 2026 at 9:34 PM IST
কলকাতা, 6 জানুয়ারি: অভিষেকের বাংলা সফর শুরু হতেই তাঁকে ভয় পেতে শুরু করেছে বিজেপি। অভিষেকের চপার-কাণ্ড নিয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের।
মঙ্গলবার বীরভুমে একগুচ্ছ কর্মসূচি ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে তাঁর হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি পায়নি। শেষ পর্যন্ত অনেকটা সময় পরে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টারে বীরভূমের উদ্দেশে রওনা দেন অভিষেক। ফলে তাঁর কর্মসূচিতে অনেক দেরি হয়ে যায়।
এই বিষয়টিতেই রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর শুরু হতেই বিজেপি ভয় পেয়েছে। মানছি শীতকাল, কুয়াশা থাকে। কিন্তু দৃশ্যমান্যতা আছে, সেখানে তাঁকে জোর করে আটকে রাখা মানেই বিজেপি উদ্বিগ্ন। ভয় পাচ্ছে বিজেপি।"
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর এই ঘনঘন বঙ্গ সফর। এটাই পরিষ্কার হচ্ছে সারাবছর এঁরা বাংলাকে দেন বৈষম্য, বঞ্চনা। বাংলা, বাঙালি, বাংলা ভাষা, বাংলার ইতিহাসকে দেন অপমান। ভোট এলেই এঁদের যাতায়াত বাড়ে। কিন্তু আমার প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী খালি হাতে আসেন কেন? বাংলার বকেয়া 2 লক্ষ কোটি টাকা নিয়ে আসতে পারেন তো।"
কুণাল ঘোষের দাবি, "এর আগেও হয়েছে। লোকসভায় হয়েছে, বিধানসভায় হয়েছে। এর কোনও প্রভাব ভোটে পড়বে না। যতবার ওরা আসবে, নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের মুখ বাংলার মানুষ যত দেখবে, ততবার তাদের মনে পড়বে এই মানুষগুলো বাংলার বকেয়া টাকা দেয়নি, বাংলাকে বঞ্চনা করেছে, বাংলা ভাষা বললে অপমান করেছে, পিটিয়েছে, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এসআইআর করে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। হেনস্তা করেছে৷ যতবার ওঁরা আসবেন, তত বিজেপির ভোট কমবে।"
নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন থেকে শুরু করে মহম্মদ শামিকে নাকি এসআইআর-এর শুনানিতে ডাকা হয়েছে। তা নিয়ে আরও একবার এদিন নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন থেকে শুরু করে সুপারস্টার দেব, ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, এমনকি ভারত সেবাশ্রম সংঘের একাধিক মহারাজকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে এসআইআর শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। বহু বিশিষ্টজনকে এরকম ডেকে পাঠানো হচ্ছে। তাঁদের হেনস্তা করা হচ্ছে। বহু অসুস্থ মানুষ, বয়স্ক মানুষকে ডেকে লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে৷ অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশে তিন কোটির নাম বাদ দিয়েছে। তা নিয়ে বিজেপি চুপ করে বসে আছে।’’

