ফের নাম বিতর্ক! মনরেগা থেকে 'মহাত্মা' বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ কুণাল
একশো দিনের কাজের এতদিনের নাম ছিল মহাত্মা গান্ধি ন্য়াশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম৷ সেই নাম বদলে হচ্ছে পূজ্য বাপু গ্রামীণ রোজগার যোজনা৷

Published : December 12, 2025 at 9:39 PM IST
কলকাতা, 12 ডিসেম্বর: নাম বদল হচ্ছে একশো দিনের কাজের প্রকল্পের৷ এতদিন এই প্রকল্প সংক্রান্ত আইনের নাম ছিল মহাত্মা গান্ধি জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন। ইংরেজি নামটিকে সংক্ষেপে বলা হতো মনরেগা৷ এই আইনের আওতায় যে প্রকল্পটি চলত, তা ছিল এমজিএনআরইজিএস৷ বাংলায়, মহাত্মা গান্ধি জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প৷
কিন্তু এই প্রকল্পের নাম বদলে দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ নতুন নামে বাদ যাচ্ছে 'মহাত্মা গান্ধি'ও৷ তার বদলে সেখানে আসতে চলেছে 'পূজ্য বাপু' শব্দ দু’টি। নতুন নাম হতে চলেছে, পূজ্য বাপু গ্রামীণ রোজগার যোজনা (Pujya Bapu Gramin Rozgar Yojana)। আর এই নাম বদল নিয়েই ক্ষুব্ধ তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

তাঁর মন্তব্য, "কেন মনরেগা থেকে 'মহাত্মা' শব্দটি বাদ দিতে হবে? এতে বাংলার অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হচ্ছে। কারণ, 'মহাত্মা' শব্দটি গান্ধিজীকে উপাধি দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।"
শুক্রবার তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "বিজেপি সরকার মনরেগার নাম পূজ্য বাপু গ্রামীণ রোজগার যোজনা করে শুধু জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেনি, বরং বিতর্কের একটি নতুন বিষয়ও তৈরি করেছে। মহাত্মা গান্ধির নাম মনরেগার নামের সঙ্গে জড়িত। কীভাবে তা পরিবর্তন করা যেতে পারে? কিই বা প্রয়োজন?"
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, "মহাত্মা গান্ধি শব্দটির সঙ্গে বাংলার অনুভূতি জড়িত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধিকে মহাত্মা উপাধি দিয়েছিলেন, আজ বিজেপি এই শব্দটি সরিয়ে ফেলতে চাইছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া 'মহাত্মা' উপাধি সারা বিশ্ব গ্রহণ করেছে। কিন্তু বিজেপি এই নামটি নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে।"
অন্যদিকে এদিন আবারও 100 দিনের কাজে জব হোল্ডারদের টাকা আটকে রাখা রাখা নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই মুখপাত্র। কুণাল ঘোষ বলেন, "বিজেপি সরকারের কাছে একটি প্রশ্ন আছে, দরিদ্র মানুষেরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের টাকা কখন পাবে? মনরেগার আওতায় দিনরাত উপার্জিত অর্থ কখন তাঁদের দেওয়া হবে?"
তাঁর দাবি, গুজরাত বা উত্তরপ্রদেশে 100 দিনের কাজে দুর্নীতি প্রমাণ হলেও সেখানে তো টাকা আটকে রাখা হয়নি। গুজরাতে দুর্নীতির অভিযোগে মন্ত্রীর ছেলে গ্রেফতার হল। তাও সেখানে টাকা আটকানো হয়নি। সব বঞ্চনা বাংলার জন্য। অথচ বাংলা থেকে ট্যাক্সের টাকা নিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু বাংলার প্রাপ্য টাকা দিতে হলেই নানা অজুহাতে আটকে দেওয়া হচ্ছে।’’

