প্যাটিস-কাণ্ড: মারধরে অভিযুক্তদের সংবর্ধনা! শুভেন্দু ‘ঘৃণার সার্কাসের রিংমাস্টার’, তোপ তৃণমূলের
গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাদের মারধরের অভিযোগ ওঠে৷ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ৷ পরে জামিন পান তাঁরা৷ তাঁদের সংবর্ধনা দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷

Published : December 12, 2025 at 7:11 PM IST
কলকাতা, 12 ডিসেম্বর: চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাদের মারধরে অভিযুক্তদের সংবর্ধনা জানানোকে কেন্দ্র করে এবার বেনজির সংঘাতে জড়াল রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবির। ধৃতদের জামিনের পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের মালা পরিয়ে সম্মান জানানোর পরই রাজনৈতিক উত্তাপ চড়তে শুরু করেছিল। শুক্রবার সেই আগুনে ঘি ঢেলে শুভেন্দুকে সরাসরি ‘ঘৃণার সার্কাসের রিংমাস্টার’ বলে আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস।
শাসক দলের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের সংবর্ধনা দিয়ে বিজেপি বুঝিয়ে দিল যে তারা গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়েছে এবং ‘গুন্ডাতন্ত্র’কেই দলের একমাত্র চালিকাশক্তি বা অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে বেছে নিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের আজকের এই পোস্টটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এতে সরাসরি বিজেপির রাজনৈতিক দর্শন এবং নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শাসক দলের এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যা করেছেন, তা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক লাইন অতিক্রম করা নয়, বরং এর মাধ্যমে বিজেপির আসল মুখোশটা জনসমক্ষে খসে পড়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, যিনি বা যাঁরা গরিব হকার বা বিক্রেতাদের গায়ে হাত তোলে, তাঁদের সম্মানিত করে বিজেপি প্রমাণ করল তাদের দলের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে সন্ত্রাস, নীতিপুলিশি এবং রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরাজের ওপর। বিরোধী দলনেতাকে নিশানা করে তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, শুভেন্দু যখন অভিযুক্তদের সংবর্ধনা দিচ্ছেন, তখন তিনি আসলে সেই ঘৃণার রাজনীতিকেই উস্কানি দিচ্ছেন, যেখানে তাঁর পায়ের তলার কর্মীরা সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। আর শুভেন্দু অধিকারী সেখানে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন, ঠিক যেন এক ‘রিংমাস্টার’।
খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর বিজেপির হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের৷ এই নিয়ে ওই পোস্টে শাসক দলের তরফে লেখা হয়েছে, “বিজেপির ধর্ম ঘৃণা দিয়ে শুরু হয়, ভীতি প্রদর্শনে বেড়ে ওঠে এবং হিংসায় গিয়ে শেষ হয়।” গরিব বিক্রেতাদের মারধর করাকে বিজেপির ‘সংস্কৃতি’ এবং আক্রমণকারীদের সম্মান জানানোকে তাদের ‘নৈতিকতা’ বলে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে।
শাসকদলের দাবি, বিজেপি এখন ঠিক করে দিতে চাইছে সাধারণ মানুষ কী খাবে, কী পরবে বা তাদের জীবন কীভাবে যাপন করবে। কেউ যদি সেই ফতোয়া অমান্য করার সাহস দেখায়, তবে তাঁদের ওপর নেমে আসে আক্রমণ। তবে তৃণমূল হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে বাংলা এই ঔদ্ধত্য মেনে নেবে না। আগামিদিনে বাংলার মানুষ ব্যালট বক্সে বিজেপিকে এমনভাবে পরাজিত করবে যে ভবিষ্যতে কোনও নেতা বা দলনেতা বাংলার সংস্কৃতি ও মর্যাদায় আঘাত করার সাহস পাবে না।
তৃণমূলের এই আক্রমণাত্মক পোস্টের প্রেক্ষাপট অবশ্য তৈরি হয়েছিল গতকালই। বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে প্রশাসনিক সভার মঞ্চ থেকে এই হকার নিগ্রহের ঘটনা নিয়ে প্রথম মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি এই ঘটনার সমালোচনা করেন৷ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার বিষয়টিও তিনি মঞ্চ থেকেই উল্লেখ করেছিলেন৷ বাংলা আর উত্তরপ্রদেশ এক নয় বলেও তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন৷
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুক্রবার সোশাল মিডিয়া পোস্ট ও বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দু’টি বিষয়কে এক সুতোয় বাঁধলে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে ‘বাঙালি অস্মিতা’ এবং ‘খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা’র ওপর আঘাত হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে গরিব হকারের রুজিরুটির পক্ষে এবং আইনের শাসনের পক্ষে সওয়াল করছেন, সেখানে বিরোধী দলনেতার অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়ানোকে ‘সন্ত্রাস ও নীতিপুলিশি’র সমর্থন হিসেবেই দেগে দিচ্ছে তৃণমূল। প্যাটিস-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারীকে ‘রিংমাস্টার’ বলে দাগিয়ে দিয়ে শাসকদল বুঝিয়ে দিল, আগামিদিনে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও বড় রাজনৈতিক প্রচার ও আন্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছে তারা।

