ETV Bharat / politics

ভেঙে দেওয়া হল সব কমিটি ! দলে ভাঙনের আবহে এবার বড় সিদ্ধান্ত তৃণমূলের

বৈঠকের মাধ্যমে আত্মবিশ্লেষণ, নিজেদের কাজের পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক মূল্যায়নেরর মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ৷ সোশাল মিডিয়ায় জানালো তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব ৷

TMC Committees Dissolve
তৃণমূলের সমস্ত কমিটি ও সংগঠন ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা শীর্ষ নেতৃত্বের ৷ (ছবি- AITC সোশাল মিডিয়া)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : June 3, 2026 at 2:35 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 3 জুন: বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসে বিরাট ভাঙন-সম্ভাবনা স্পষ্ট হওয়ার পর, এবার শীর্ষ নেতৃত্বের বড় সিদ্ধান্ত ৷ বুধবার তৃণমূলের তরফে তাদের সংগঠনের সমস্ত কমিটিকে ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হল ৷ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই ঘোষণা করেছে ৷ যেখানে বলা হয়েছে, এই মুহূর্ত থেকে তৃণমূলের সমস্ত সংগঠনকে ভেঙে দেওয়া হল ৷

উল্লেখ্য, এ দিন বিধানসভায় শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে 59 জন বিধায়ক পৃথকভাবে বিরোধীদল হিসাবে নিজেদের তুলে ধরেছেন ৷ আর তার পরপরই সোশাল মিডিয়ায় তৃণমূলের তরফে এই পোস্ট করা হয়েছে ৷

ওই পোস্টে বলা হয়েছে, "সুচিন্তিত বিবেচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত কমিটি এবং এর সকল শাখা সংগঠন এই মুহূর্ত থেকে বিলুপ্ত বলে ঘোষণা করা হল ৷"

সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, "দল প্রতিটি স্তরে আত্মবিশ্লেষণ, নিজেদের কাজের পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক মূল্যায়নের একটি ব্যাপক প্রক্রিয়া হাতে নেবে ৷ এই প্রক্রিয়ার ফলাফলগুলির উপর ভিত্তি করে, মূল সংগঠন এবং তার সকল সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে এবং যথাসময়ে তা ঘোষণা করা হবে ৷"

দলের সমস্ত কমিটি ও সংগঠনকে ভেঙে দেওয়ার কারণ হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সোশাল মিডিয়ায় বলা হয়েছে, "দলটি তার সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং নতুন উদ্যম ও লক্ষ্য নিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ৷"

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই তৃণমূলের তরফে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ৷ আর আজ বিধানসভায় মোট 59 জন তৃণমূল বিধায়কের লিখিত সমর্থন জমা দেওয়া হয় ৷ যেখানে সরাসরি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসাবে প্রস্তাব করা হয় ৷ সেই সঙ্গে মুখ্য সচেতক হিসাবে আখরুজ্জামানকে বেছে নেওয়া হয়েছে ৷ বিরোধী দলের 59 জন বিধায়ক এই দুই নামে সমর্থন জানিয়েছেন ৷

পাশাপাশি, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং শিউলি সাহাকে ডেপুটি লিডার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ৷ তৃণমূলের এই বিধায়করা যে চিঠি দিয়েছেন, তা যদি অধ্যক্ষ গ্রহণ করেন এবং সেই চিঠিকে স্বীকৃতি দেন, সেক্ষেত্রে ঋতব্রতই হবেন বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের নেতা এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ৷ তাঁরাই আসল তৃণমূল হিসেবে বিবেচিত হবেন ৷ কিন্তু কালীঘাট সূত্রে জানা গিয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্ব এই প্রস্তাব মানতে রাজি নয় ৷ আর তারই মধ্যে দলের সব সংগঠন ও কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ৷