ETV Bharat / politics

কেন পদ বাতিল হবে না, উত্তর দিতে বিড়লার কাছে 3 সপ্তাহ চাইলেন 20 সাংসদ

লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা নোটিশ পাঠিয়ে সাতদিনের মধ্যে উত্তর চেয়েছিলেন তৃণমূলের 20 জন বিদ্রোহী সাংসদের কাছে ৷

Trinamool rebel MPs
লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা৷ (ফাইল ছবি)
author img

By PTI

Published : September 1, 2026 at 10:31 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 1 সেপ্টেম্বর: দলত্যাগ বিরোধী আইনে কেন সদস্য-পদ বাতিল করা হবে না তৃণমূল থেকে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া 20 জন সাংসদের ? এই প্রশ্নের উত্তরে চেয়ে গত 26 অগস্ট সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিশ পাঠান লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা ৷ সাতদিনের মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছিল ৷ এবার উত্তর দেওয়ার জন্য আরও অতিরিক্ত তিন সপ্তাহ সময় চাইলেন ওই সাংসদরা ৷

ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-এর লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘‘20 জন এনসিপিআই সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় চিঠি দিয়েছিলেন । সেই বিষয়ে আমাদের বক্তব্য জানতে চেয়ে লোকসভা সচিবালয় থেকে 26 অগস্ট একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে । আমরা জবাব দেওয়ার জন্য তিন সপ্তাহ সময় চেয়ে লোকসভা সচিবালয়কে চিঠি লিখেছি ।’’

কেন তাঁরা এই সময় চাইছেন, তার ইঙ্গিত মিলেছে এনসিপিআই-এর আরও এক সাংসদের কথায় ৷ সংবাদসংস্থা পিটিআইকে তিনি জানান, পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার আগে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে ৷ ওই সাংসদের উত্তর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তাঁরা সাত দিনের প্রাথমিক সময়সীমা মেনে তাড়াহুড়ো করতে চাইছেন না ৷ বরং একটি বিস্তারিত আইনি যুক্তি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসের চার তারিখ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয় ৷ দেড় দশক পর তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে জয়ী হয় বিজেপি ৷ তারপর সময় যত এগিয়েছে, তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব তত প্রকাশ্যে চলে এসেছে ৷ লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের 20 জন সাংসদ কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ৷ তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই নামের এক প্রচারের আড়ালে থাকা দলে যোগদান করেন ৷ তাঁরা কেন্দ্রের বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথাও জানান ৷ সেই সংক্রান্ত চিঠিও জমা দেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার কাছে ৷

এদিকে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয় যে এই দলবদল বেআইনি ৷ দলত্যাগ বিরোধী আইনে ওই সাংসদদের সদস্যপদ বাতিল করতে হবে ৷ এই দাবিতে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আবেদন জমা দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় ৷ তিনি এখন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা ৷ 18 জুন তিনি ওই আবেদন জমা দেন ৷ তার পর যদিও অধ্যক্ষের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি ৷ উল্টে 20 জন সাংসদকে লোকসভায় তৃণমূলের থেকে আলাদা করে বসার জায়গা দেওয়া হয় ৷

এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ লোকসভার অধ্যক্ষ যাতে এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন, সেই আবেদনই শীর্ষ আদালতে করেন অভিষেক ৷ মামলাটি গত 25 অগস্ট গ্রহণ করে আদালত ৷ ওই 20 জন সাংসদকে নোটিশ পাঠায় দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনকে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ ৷ লোকসভার অধ্যক্ষকেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত ৷

তাৎপর্যপূর্ণভাবে তার পরই 20 জন এনসিপিআই সাংসদকে নোটিশ পাঠানো হয় লোকসভার সচিবালয় থেকে ৷ সাতদিনের উত্তর চাওয়া হয় ৷ আজ, মঙ্গলবার উত্তর দেওয়ার শেষদিন ছিল ৷ আর সেদিনই উত্তর দেওয়ার জন্য আরও তিন সপ্তাহ চাইলেন ওই 20 জন সাংসদ ৷

অন্যদিকে, তৃণমূলের এই 20 জন সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করার আগে তৃণমূলের নেতৃত্বের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন বিধায়করা ৷ তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল ৷ কিন্তু সেক্ষেত্রে সই জাল করার অভিযোগ তুলে সরব হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ৷ 65 জন বিধায়ক নিজেদের মতো করে ঋতব্রতকে দলনেতা হিসেবে বেছে নেন ৷ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোসের কাছে সেই সংক্রান্ত চিঠি জমা দেন ৷ তার পর ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন অধ্যক্ষ ৷

সেই বিষয়টিও এখন কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন ৷ এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঋতব্রতকে অস্থায়ী বিরোধী দলনেতা বলে হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে ৷ তবে ঋতব্রত শিবির নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে আলাদা জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি করেছে ৷ সেখানে চেয়ারপার্সন করা হয়েছে অরূপ রায়কে ৷ নির্বাচন কমিশনের কাছেও তারা এই দাবি করেছে ৷ পালটা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূলও ৷

ফলে এই আইনি এবং সংসদীয় ও পরিষদীয় জট খোলার পর কারা আসল তৃণমূল হিসেবে বিবেচিত হবে, 20 জন বিদ্রোহী সাংসদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে রাজ্য রাজনীতিতে ৷

আরও পড়ুন -

  1. তৃণমূল-ত্যাগী সাংসদদের পদ খারিজ হবেই, এক বছরের মধ্যে ভোট, দাবি কল্যাণের
  2. সুপ্রিম হস্তক্ষেপের পর 20 তৃণমূল-ত্যাগী সাংসদকে নোটিশ পাঠাল লোকসভার সচিবালয়
  3. তৃণমূল-ত্যাগী 20 সাংসদকে নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট