ETV Bharat / politics

বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে মমতার 'দিব্যি', তৃণমূল নেতাদের 'তোলাবাজ' বলে বিতর্কে নরেন

বিধানসভা নির্বাচনের আগে কুলটিতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সক্রিয় হতে নির্দেশ পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়কের ৷ কাজ না-করলে বের করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ৷

TMC EXTORTION CONTROVERSY
পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ৷ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : October 18, 2025 at 5:49 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

আসানসোল, 18 অক্টোবর: ফের বিতর্কে তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমানের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ৷ কুলটিতে তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলীয় নেতাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে 'দিব্যি' দিয়ে বসলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক ৷ শুধু তাই নয়, খোলামেলা ভাবেই তোলাবাজির প্রসঙ্গ টেনে আনলেন তিনি ৷ কুলটির নেতাদের উদ্দেশ্য করে তাঁর বক্তব্য, তিনি 'তোলা' তুলতে আসেন না ৷ আর যা নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ, তৃণমূলের জেলা সভাপতি দলীয় নেতাদের 'তোলাবাজ' বলে স্বীকৃতি দিলেন ৷

পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন ব্লকে তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনী চলছে ৷ মূলত বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজয়া সম্মিলনীর মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে দিকে-দিকে একপ্রকার রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে তৃণমূল ৷ তেমনই শুক্রবার সন্ধেয় কুলটিতেও বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হয়েছিল ৷ উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি তথা কুলটির বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়, ব্লক সভাপতি আদিনাথ পুইতন্ডি-সহ কুলটির সমস্ত স্তরের নেতারা ৷

বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে মমতার 'দিব্যি', তৃণমূল নেতাদের 'তোলাবাজ' বলে বিতর্কে নরেন (ইটিভি ভারত)

সেখানেই শীর্ষ নেতাদের নাম নিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বলেন, "এখানে দলের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন ৷ সবাইকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিব্যি দিয়ে চললাম ৷ যদি এই দলকে ভালোবাসেন, যদি মনে করেন এই দলের জন্য আপনাদের সম্মান, তাহলে এই পাঁচ-ছয় মাস জীবন দিয়ে লড়াই করুন ৷"

নরেন্দ্রনাথের এই বক্তব্য অসন্তোষ তৈরি হয়েছে জেলা তৃণমূলের অন্দরে ৷ একাংশে গুঞ্জন, তবে কি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জেলার নেতাদের ভরসা করেন না ৷ আর তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিব্যি দিতে হচ্ছে তাঁকে ৷ তবে, শুধু মমতার নামে দিব্যি দেওয়া নয় ৷ নাম না-করে কুলটির নেতাদের 'তোলাবাজ' বলে গেলেন জেলা সভাপতি ৷

দলের নেতা-কর্মীদের হুঁশিয়ারির সুরে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, "আমি এখানে গল্প করতে আসি না, তোলা তুলতেও আসি না ৷ যাঁরা দলের সঙ্গে থাকবেন না, সব চাবি মেরে দেব কিন্তু ৷ দলের কাজ করবেন না-আর ফুর্তি করবেন, এটা সম্ভব নয় ৷ সবাইকে দলের জন্য সময় দিতে হবে ৷" সূত্রের খবর, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর এই মন্তব্য সমালোচনার ঝড় উঠেছে তৃণমূলের একাংশে ৷ খোদ দলের অন্দরেই গুঞ্জন, তবে কি কুলটির নেতাদের খোলামেলাভাবেই 'তোলাবাজ' বলে গেলেন নরেন ?

বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিরোধীরাও ৷ বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক ও মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, "নিজের দলের নেতাদের উপরেই ওঁর এত অবিশ্বাস, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে 'দিব্যি' দিতে হচ্ছে ?" তোলাবাজি প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র তিওয়ারির কটাক্ষ, "আপনি তোলা তুলতে আসেন না ? আসলে পাণ্ডবেশ্বরে আপনি এত তোলা তোলেন যে, আর কুলটিতে আসার প্রয়োজন হয় না ৷ যারা তোলা তুলবে, তারাই দল করবে ৷ আর বাকিদের জন্য আপনি চাবি দিয়ে দেবেন, সেটাই বলতে চেয়েছেন ৷ মানে কোন জায়গায় নিয়ে গেলেন আপনি রাজনীতিকে ৷ আপনাদের মতো মানুষেরা যখন নেতা হয়ে যায়, তখন একটা দলের অবস্থা যে কি হয় সেটা আসানসোলের মানুষ দেখছে ৷"