ETV Bharat / politics

‘বন্দে মাতরম’ বনাম ‘জনগণমন’, আবেগের আড়ালে কয়লার ছায়া? বিজেপিকে দ্বিমুখী তোপ কুণালের

বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে সরব হন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ৷

Kunal Ghosh
কুণাল ঘোষ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 11, 2026 at 9:58 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 11 ফেব্রুয়ারি: আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ঘোষণা এখনও হয়নি৷ কিন্তু এসআইআর-কে কেন্দ্র করে বঙ্গ রাজনীতিতে ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে৷ তারই মধ্যে ‘বন্দে মাতরম’ বনাম ‘জনগণমন’ বিতর্কে আবেগের রাজনীতি, অন্যদিকে কয়লা কাণ্ডে ইডির জেরায় বিজেপির এক শীর্ষ নেতার নাম উঠে আসার দাবি। দুই ইস্যুকে পাশাপাশি রেখে ভোটের আবহে এবার বিজেপির বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলল তৃণমূল।

কুণালের বক্তব্য, দেশপ্রেমের আবেগ উসকে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি, আর একই সঙ্গে কয়লা মামলায় ‘প্রোটেকশন মানি’ প্রসঙ্গে উঠছে তাদেরই নেতার নাম।

সোমবার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ, সম্পর্কে মামা-ভাগ্নেকে কয়লাকাণ্ডে গ্রেফতার করেছে ইডি। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, ধৃতদের বয়ানে বিজেপির এক প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, মাসে মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা ‘প্রোটেকশন মানি’ হিসেবে যেত তাঁর কাছে। যদিও এই দাবির সত্যতা ইডির তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।

তৃণমূলের আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইডি। খবর পেয়ে তিনি নাকি দিল্লি গিয়েছিলেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। এই প্রসঙ্গে অতীতে যাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপিই সরব হয়েছিল, পরে দলবদলের পর তাঁদের নিয়ে সুর নরম হয়েছে, এই নজির টেনে কুণালের প্রশ্ন, “ইডি কি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে, না কি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিজেপির দিল্লির নেতারা সংশ্লিষ্ট নেতাকে রাজনৈতিক রক্ষাকবচ দেবে?”

এই আবহেই কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা, সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক। উপস্থিত সকলকে দাঁড়াতে হবে, গাইতে হবে প্রথম ছ’টি স্তবক। বিজেপির দাবি, জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে ‘জনগণমন’ বনাম ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে।

কুণালের কথায়, “রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্র—দু’জনেই বাংলার গর্ব। তাঁদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে৷ তবে বাংলা এই চক্রান্ত বরদাস্ত করবে না।” ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা ও ব্যবহার নিয়ে অতীতে রবীন্দ্রনাথ নিজেই মত প্রকাশ করেছিলেন, স্মরণ করিয়ে কুণালের প্রশ্ন, “তা হলে কি বিজেপির ব্যাখ্যাই চূড়ান্ত? রবিঠাকুরের মত অগ্রাহ্য হবে? ওরা কি নিজেদেরকে রবীন্দ্রনাথের ওপরে ভাবে?”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জাতীয় আবেগের ইস্যু সামনে এলে, তা জনমতকে দ্রুত প্রভাবিত করে। ঠিক সেই সময়েই কয়লা কাণ্ডে বিজেপি নেতার নাম ওঠার দাবি—এই সমাপতনকে হাতিয়ার করেই চাপ বাড়াতে চাইছে তৃণমূল। অন্যদিকে বিজেপির শিবির অবশ্য এই অভিযোগকে ‘মনগড়া’ বলেই উড়িয়ে দিচ্ছে।

আবেগ বনাম অভিযোগ, দুই স্রোত মিলিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। কয়লা মামলার তদন্ত কোনদিকে মোড় নেয় এবং ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক কত দূর গড়ায়, এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।