ETV Bharat / politics

অমিত শাহ একজন ব্যর্থ রাজনৈতিক জ্যোতিষী, কটাক্ষ কুণাল ঘোষের

মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনায় সরব হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ তারই পালটা জবাব দিয়েছেন কুণাল ঘোষ৷

Kunal Ghosh
কুণাল ঘোষ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 30, 2025 at 9:18 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 30 ডিসেম্বর: অমিত শাহকে ফ্লপ জ্যোতিষী ঘোষণা করে তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষের ভবিষ্যৎবাণী, ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপি বঙ্গে 30টির বেশি আসন পাবে না৷ একই সঙ্গে এদিন তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গেরুয়া শিবিরের নম্বর টু’কে তুলোধনা করেছেন৷ তবে ভরতপুরে নির্মীয়মান বাবরি মসজিদ নিয়ে অমিত শাহের বক্তব্যের স্পষ্ট বিরোধিতা এদিন কুণালের মুখে শোনা যায়নি৷ যা আশ্চর্য করেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের৷

আসন্ন নির্বাচনের রণকৌশল ঠিক করতে এই মুহূর্তে রাজ্যে রয়েছেন অমিত শাহ৷ এদিন সল্টলেকে সাংবাদিক বৈঠক করে সেই রণকৌশলের কিছু অংশ সামনেও এনেছেন তিনি৷ জানিয়ে দিয়েছেন, অনুপ্রবেশের অস্ত্রকে হাতিয়ার করে ছাব্বিশের নির্বাচনের ময়দানে নামতে চলেছে বিজেপি৷ দাবি করেছেন, এবার রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী৷ বঙ্গে এবার ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে৷

অমিত শাহের সাংবাদিক বৈঠকের পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কুণাল৷ তিনি বলেন, “অমিত শাহের মতো বিজেপির নেতারা ভোট এলেই পরিযায়ী পাখির মতো এখানে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করেন৷ এঁরা ফ্লপ জ্যোতিষী৷ একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, আব কি বার, দোশো পার৷ সাতাত্তরে গিয়ে আটকে গিয়েছিলেন৷ চব্বিশের নির্বাচনে তাঁরা বললেন, বাংলায় তাঁদের লোকসভা আসন বাড়বে৷ কিন্তু আসন উলটে কমে গেল৷ এবারের বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও যা বলছেন, তার উলটো হবে৷ ক্ষমতায় আসা দূরের কথা, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি 30টি আসন পার করার জায়গায় নেই৷ কেন তাঁর জ্যোতিষীপনা মিলল না, একুশ কিংবা চব্বিশের নির্বাচনের পর অমিত শাহ কি কৈফিয়ত দিতে এসেছিলেন? এভাবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ, নেতিয়ে পড়া বাংলা বিরোধী সংগঠনকে অক্সিজেন দেওয়া যায় না৷”

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কুণাল বলেন, “অনুপ্রবেশ শব্দটি অমিত শাহের মুখ থেকে যতবার বেরোবে, ধরে নেবেন তিনি আত্মঘাতী গোল করে দিয়েছেন৷ কারণ, সীমান্তে অনুপ্রবেশ অমিত শাহেরই দেখার কথা৷ তাঁর হাতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, তাঁর হাতেই বিএসএফ৷ শুধুমাত্র সীমান্তরেখা নয়, আইন সংশোধন করে সীমান্ত থেকে 50 কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা বিএসএফ নিয়ে রেখেছে৷ তাহলে তিনি এখন কাঁদুনি গাইছেন কেন? ক’দিন আগে ত্রিপুরায় আগরতলা স্টেশন থেকে রোহিঙ্গা-সহ অবৈধ বাংলাদেশি ধরা পড়েছে৷ এখন অমিত শাহের মুখে রোহিঙ্গা শব্দটি কোথায়? কারণ, তাঁদের রোহিঙ্গা শব্দের গ্যাস বেলুনে পিন ফুটে গিয়েছে৷’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের এসআইআর তালিকা থেকে বাদ যাওয়া 58 লক্ষের মধ্যে একজনও রোহিঙ্গা খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে৷ কিছু কিছু জায়গায় জমির মালিক, আদালতের মতো সমস্যা থাকে৷ কিন্তু আপনি পাহারা বাড়াচ্ছেন না কেন? পশ্চিমবঙ্গের এসব নেতা আর আধা নেতাদের পিছনে কেন্দ্রীয় বাহিনী না-দিয়ে যেখানে কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে পাহারায় দিয়ে দিলেই তো পারেন? কে বারণ করেছে?”

শিল্প ইস্যুতেই এদিন কেন্দ্রীয় সরকারকে বেঁধেন কুণাল৷ বলেছেন, “গত পাঁচ বছরে সারা দেশে কতগুলি কোম্পানি বন্ধ হয়েছে, কতগুলো কোম্পানি এদেশ থেকে চলে গিয়েছে, সেই হিসাবটা ক্ষমতা থাকলে বলুন৷ সেসব তো আমরা সবার সামনে এনে দিয়েছি৷ 34 বছরের ভাটা কাটিয়ে বাংলায় শিল্পের জোয়ার এসেছে৷ বড় ও ভারী শিল্প স্থাপন হচ্ছে৷ বহুজাতিক সংস্থা আসছে৷ তথ্যপ্রযুক্তি-সহ মাঝারি, হস্ত ও কুটির শিল্প, কৃষিভিত্তিক শিল্পে পশ্চিমবঙ্গ মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে৷” যদিও গত 15 বছরে বাংলায় কোন কোন বড় ও ভারী শিল্প স্থাপিত হয়েছে, তার একটিও নাম উচ্চারণ করেননি কুণাল৷

অমিত শাহ এদিন জানিয়েছেন, মতুয়ারা যেন নির্ভয়ে থাকেন৷ তাঁর আশ্বাস, শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেবে কেন্দ্রীয় সরকার৷ রাজ্য আটকাতে পারবে না৷ এনিয়ে কুণালের প্রতিক্রিয়া, “রাজ্যই তো মতুয়াদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দিতে বলছে৷ অমিত শাহ অবান্তর কথাবার্তা বলছেন৷ মতুয়াদের বিপদে ফেলেছে বিজেপি৷ মুখে আশ্বাস না দিয়ে নোটিফিকেশন করান উনি৷ প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে মতুয়াদের বিপদ নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি৷ এখন অমিত শাহ শুধু মৌখিক আশ্বাস দিচ্ছেন৷ কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ করেননি৷”

নারী নির্যাতন নিয়ে অমিত শাহের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কুণালের মন্তব্য, “অমিত শাহের লজ্জা লাগে না! উন্নাও, হাথরাস, প্রয়াগরাজ, বিলকিস, ওড়িশা, মনিপুর, উনি মুখ লুকোবেন কোথায়? আপনার সাংসদ ব্রিজভূষণ আমাদের মেয়ে কুস্তিগীরদের শ্লীলতাহানি করেছেন৷ মেয়েরা তাঁর শাস্তি চেয়ে রাস্তায় বসলে আপনার পুলিশ তাদের উপর দমন পীড়ন চালিয়েছে৷ আপনার লজ্জা করে না? বিজেপির বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার, উন্নাও-এ নির্যাতিতার বাড়ির লোকদের হত্যা করা, একের পর এক ঘটনা ঘটে গিয়েছে৷ ওড়িশায় সমুদ্র সৈকতে পর্যটককে নির্যাতন করা হচ্ছে৷ তারপর বড় বড় কথা বলছেন? পশ্চিমবঙ্গ ব্যতিক্রম৷ এখানে কোনও সামাজিক বিকৃতির ঘটনা ঘটলে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে৷ রাজ্য পুলিশের হাতে তদন্ত থাকলে 40-60 দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করে ফাঁসির রায় আদায় করে আনে৷”

এদিন অমিত শাহ দাবি করেছেন, তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা এক বিধায়ক এবং তৃণমূল এখন মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করছে৷ বিজেপির এর সঙ্গে নেই৷ কুণাল তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিলেও অমিত শাহের এই দাবি পুরোপুরি খণ্ডন করেননি৷ যা আশ্চর্য করেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের৷ তিনি বলেছেন, “বিজেপি উগ্র, বিকৃত এবং ভেজাল হিন্দুত্বের রাজনীতি করে৷ তাই অমিত শাহ এবিষয়ে কী বললেন আর কী বললেন না, তাতে কিছু এসে যায় না৷ বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি সকলে জানেন৷ বিজেপির ডিএনএতেই এসব রয়েছে৷ তৃণমূল এটা করে না৷ আমরা সংবিধান মানি৷ আমরা মন থেকে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি৷ হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান সহ সব ধর্ম এখানে সমান৷”

আরও পড়ুন -

  1. অপদার্থতম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে অমিত শাহের ব্যর্থতা নিয়ে সরব অভিষেক
  2. শাহের ‘অনুপ্রবেশ’ তোপের পাল্টা মমতার ‘দুঃশাসন’ কটাক্ষ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী
  3. ছাব্বিশে অনুপ্রবেশই মূল ইস্যু, বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া দিতে দিচ্ছে না তৃণমূল: শাহ