রবীন্দ্রনাথের ছবি পোড়ানোয় অভিযুক্ত টিএমসিপি নেতার পদোন্নতি৷! ‘অপসংস্কৃতি’র তোপ শুভেন্দুর
গত 12 ফেব্রুয়ারি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয় ৷ তাতে নাম রয়েছে কবিগুরুর ছবি পোড়ানোয় মূল অভিযুক্ত ফাইয়াজ আলমের ৷

Published : February 26, 2026 at 9:16 PM IST
পার্থ দাস
মালদা, 26 ফেব্রুয়ারি : জনসমক্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানোর অভিযোগ ঘিরে যে ছাত্রনেতাকে নিয়ে কয়েক মাস আগে তোলপাড় হয়েছিল, সেই ফাইয়াজ আলমের নামই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) নতুন জেলা কমিটিতে ওঠায় ফের চড়েছে রাজনৈতিক পারদ । নির্বাচনের মুখে এই ঘটনাকে বিরোধীরা বড় ইস্যু করতে চাইছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল । সোশাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । সরব মালদা জেলা বিজেপি নেতৃত্বও ।
ঘটনার সূত্রপাত গত 2 সেপ্টেম্বর । পাঁচ দিন পর, 7 সেপ্টেম্বর, একটি ভিডিয়ো সামনে আসে। অভিযোগ, ধর্মতলায় ভারতীয় সেনা তৃণমূলের মঞ্চ খুলে দেওয়ার প্রতিবাদে চাঁচল কলেজে বিক্ষোভ দেখায় টিএমসিপি । সেই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছবির পাশাপাশি কবিগুরুর ছবিও আগুনে পোড়ানো হয় বলে অভিযোগ । সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা যায়, সেই ছবি পোড়ান টিএমসিপি নেতা ফাইয়াজ আলম ৷ সেদিন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক বাবু সরকার ৷ ফাইয়াজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিএমসিপির চাঁচল কলেজ ইউনিটের সভাপতি নাসিমুল হক সোয়েল, ইউনিটের কোর কমিটির সদস্য বাপি আলি-সহ রকি হোসেন, মেরাজ হোসেন প্রমুখ৷

ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে তোলপাড় পড়ে যায় গোটা রাজ্যে ৷ সরব হন বিজেপির তাবড় নেতারা ৷ পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয় রাজ্যের শাসকদল ৷ চাঁচল কলেজ ইউনিটের তৎকালীন সভাপতিকে গ্রেফতার করে চাঁচল থানার পুলিশ ৷ সংগঠন থেকে চাঁচল কলেজের টিএমসিপি ইউনিট সভাপতিকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য নেতৃত্ব ৷ একই সঙ্গে ভেঙে দেওয়া হয় সংগঠনের চাঁচল কলেজ ইউনিট ৷
গত 12 ফেব্রুয়ারি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয় ৷ দেখা যায়, উত্তর মালদায় সেই কমিটিতে নাম রয়েছে কবিগুরুর ছবি পোড়ানোয় মূল অভিযুক্ত ফাইয়াজ আলমের ৷ এ নিয়ে নিজের সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, ‘‘বাংলা, বাঙালি ও গোটা দেশের গর্ব বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোর পন্থা একমাত্র তৃণমূল অপসংস্কৃতিতেই সম্ভব ৷ কবিগুরুর ছবি পোড়ানোর জন্য ফাইয়াজ আলমকে পুরস্কৃত করা হল ৷’’ কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু আরও লিখেছেন, ‘‘বাঙালি অস্মিতা, বাংলার মনীষীদের সম্মানের জিগির তুলে জনগণকে বোকা বানোনোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায় তৃণমূল ৷ কিন্তু আদপে এদের রাজনৈতিক মূলধর হল ভোট ব্যাংক তোষণ ও একশ্রেণির সমাজবিরোধীদের তোষামোদ করা ৷’’

বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করে বলেন, "এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি ৷ ওরা কথায় কথায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ সমস্ত মনীষীদের নাম নিয়ে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহদের উদ্দেশ্যে কটূক্তি করে ৷ অথচ তাদেরই ছাত্র সংগঠনের নেতারা যখন বিশ্বকবির ছবি পোড়ায় তখন ওদের মুখে কোনও কথা থাকে না ৷ উলটে সেই নেতাকেই উঁচু পদ দিয়ে সম্মান জানায় ! এরা রাজনীতির জন্য সব করতে পারে ৷ এই ঘটনায় নিন্দার কোনও ভাষা নেই ৷"
ভোটের মুখে এই ঘটনায় অস্বস্তিতে শাসকদল ৷ বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব ৷ এই নিয়ে এখনই তাঁদের কেউ সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি নন ৷ বিষয়টিতে দলের ছাত্র সংগঠন নেতৃত্বের কোর্টেই বল ঠেলে দিয়েছেন তাঁরা ৷ এদিকে শুভেন্দুর পোস্টের পর বিষয়টি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়তেই এনিয়ে সতর্ক পদক্ষেপ তৃণমূল ছাত্র পরিষদর ৷ টিএমসিপির জেলা সভাপতি প্রসূন রায় ইটিভি ভারতকে বলেন, "সোশাল মিডিয়া থেকে পাওয়া নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ফাইয়াজ আলমের বিরুদ্ধে একটি সাংগঠনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে ৷ তাঁকে সংগঠনের নতুন জেলা এগজিকিউটিভ কমিটি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে ৷ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাংগঠনিক সমস্ত কাজকর্ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷"
আরও পড়ুন:

