SIR: তালিকা তৈরি করেও লাভ হবে না আইপ্যাক ভাইপোর, অভিষেককে খোঁচা শুভেন্দুর
মঙ্গলবার হুগলির ভদ্রেশ্বরে জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ সেখানে তিনি এসআইআর নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন৷

Published : October 28, 2025 at 8:43 PM IST
ভদ্রেশ্বর (হুগলি), 28 অক্টোবর: কাছের আমলাদের নিয়ে তালিকা তৈরি করেও কোনও লাভ হবে না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতেই হবে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর৷ মঙ্গলবার এভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷
এদিন তিনি হাজির হয়েছিলেন হুগলির ভদ্রেশ্বরের দক্ষিণপাড়া সারদাপল্লিতে৷ সেখানে হওয়া জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন করেন তিনি৷ উদ্বোধনের পর এসআইআর নিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন বিরোধী দলনেতা৷ তবে তিনি অভিষেকের নাম উল্লেখ করেননি৷ বরং অভিষেককে তিনি ‘আইপ্যাক ভাইপো’ বলে কটাক্ষ করেছেন৷
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আইপ্যাক ভাইপো আর ভাইপোর কাছের আইএএস-রা ক্যামাক স্ট্রিটে বসে লিস্ট বানিয়েছে। কোনও লাভ হবে না। নজরদারি কঠিন থাকবে৷ নির্বাচন কমিশনেরও থাকবে আমাদেরও থাকবে।’’ তাঁর দাবি, এসআইআর কেউ আটকাতে পারবে না৷ একমাত্র এসআইআর হলেই ভোটার তালিকাকে ত্রুটিমুক্ত করা যাবে৷
বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘আমার বলেছিলাম এসআইআর হবে। অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে না। যারা ভারতীয় নয়, তারা কেন ভারতে ভোট দেবে? এই তালিকায় কোনও ভারতীয়দের চিন্তা নেই সে যে দলই করুক না কেন। বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের কোনও চিন্তা নেই। বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা কোনও ভারতীয়দেরও চিন্তা নেই। এমনকী, ভারতীয় মুসলমানদেরও চিন্তার কারণ নেই। কোনও ভারতীয় ভয় পাচ্ছে না।’’

একই সঙ্গে হিন্দুদের প্রতি তিনি ভাষা ও জাতির ভিত্তিতে বিভক্ত না-হওয়ার আবেদন করেন৷ গত কয়েক বছরে হুগলিতে হয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি হিংসার ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি বলেন, ‘‘ভাষায় ও জাতের ভিত্তিতে আপনারা বিভক্ত হবেন না। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। এক সঙ্গে থাকলে সুরক্ষিত থাকবেন। তেলিনিপাড়া বা রিষড়া ঘটনার কথা আপনারা সবাই জানেন।’’
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, ‘‘তাই ভাষা ও জাতের ভিত্তিতে রাজনৈতিক কারণে আলাদা না-হওয়ার বার্তা দেব এই জগদ্ধাত্রী পুজোয়। আমি শুধু একটা কথাই বলব, পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের সংখ্যা কমছে। হিন্দুরা নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারছে না। আমাদের হাজার-হাজার বছরের পরম্পরা রাখতে পারছি না। হিন্দুদের আচার-আচরণ পালন করতে বাধা প্রাপ্ত হতে হচ্ছে।’’

তিনি জানান, স্বাধীনতার পর পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বাংলাদেশে 33 শতাংশ হিন্দু ছিল। এখন তা কমে 7 শতাংশ হয়ে গিয়েছে। স্বাধীনতার পর ভারতে প্রথম জনগণনায় পশ্চিমবঙ্গে 85 শতাংশ হিন্দু ছিল। 2031 সালে যখন জনগণনায় হিন্দুরা 65 শতাংশে নেমে আসবে।
এসআইআর নিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়
এসআইআর পর্বে রাজ্যের মানুষকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রাখতে বলেন হুগলির সাংসদ তৃণমূলের রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মঙ্গলবার তিনি চন্দননগর জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে আদি মা-সহ একাধিক পুজো কমিটিতে হাজির হন৷ মা জগদ্ধাত্রীকে পুজো দেন তিনি। পরে এসআইআর নিয়ে বলেন, ‘‘আমরা জানি না কী হতে চলেছে। মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকে, মানুষ যেন ভালো থাকে, এটাই চাই। আমরা মানুষের সঙ্গে রয়েছি। এসআইআর আশা করি মানুষকে বিচলিত করবে না। আশা ভরসায় দিদি আছেন মনে রাখবেন। কেন্দ্রে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তারা এগুলো করেছে।’’

