মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় বিএলও-র প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়েছে, অভিযোগ শুভেন্দুর
শনিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই দাবি করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷

Published : November 8, 2025 at 5:07 PM IST
কলকাতা, 7 নভেম্বর: এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ তাঁর দাবি, কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী যেখানে থাকেন, সেই পাড়ায় ঢুকতে গেলে বাধা দেওয়া হয় বিএলও-কে৷
শনিবার বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ সেখানে তিনিই এই দাবি করেন৷ পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সবার আগে এসআইআর মেনে নিয়েছে৷ অথচ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে৷ হিন্দু শরণার্থীদের ভয় দেখাচ্ছে৷
এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর এলাকায় মানুষজন রীতিমতো বন্দী জীবন কাটান। সেখানে বিএলও গেলে তাঁকে আটকানো হয়। পরবর্তীতে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই এসআইআর ফর্ম দিয়ে আসেন। পরের দিন সেই খবর তৃণমূলের মুখপত্রে প্রকাশিতও হয়।’’ এই বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রমাণ হিসেবে এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে তুলেও ধরেন বিরোধী দলনেতা৷
ভোটার তালিকার এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস অসহযোগিতা করছে৷ মানুষকে বিভ্রান্তও করছে তৃণমূল৷ তাঁর আরও দাবি, 31 অক্টোবর সর্বদল বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস যোগদান করে এবং তারা SIR-এর পক্ষে সম্মতি জানায়৷ প্রয়োজনীয় নথিতে সইও করে। তার পরও তৃণমূল শুধু মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে বলে তিনি দাবি করেছেন৷
বিরোধী দলনেতার আরও দাবি, এসআইআর নিয়ে শুধু বিভ্রান্তিই ছড়াচ্ছে না তৃণমূল৷ পাশাপাশি ধমক-চমক দিচ্ছেও৷ তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস 27 ফেব্রুয়ারি থেকে লাগাতার ধমক-চমক দিয়ে আসছে সরকারি কর্মীদের। কখনও বিএলও-দের প্রশিক্ষণ নিয়ে, কখনও নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে, কখনও বদলি করে দেওয়া, ধমকি, চমকি-সহ একাধিক অসহযোগিতা করেছে। এরা জ্ঞানেশ কুমারকেও কটাক্ষ করেছে৷ সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করা, হিন্দু শরণার্থীদের ভয় দেখানোর কাজ করে চলেছে তৃণমূল।
তবে হিন্দু শরণার্থীরা ভয় পাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু৷ কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে হিন্দু শরণার্থীদের ভারতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে৷ তিনি হিন্দু শরণার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বিরুদ্ধে৷ বিরোধী দলনেতা বলেন, "শুক্রবার একটি জনস্বার্থ মামলা আমরা করেছি। তাতে জানতে চাওয়া হয়েছে 31 ডিসেম্বর, 2024 পর্যন্ত কতজন হিন্দু শরণার্থীদের জেলে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা সবাইকে জেল থেকে মুক্ত করব।" এদিন তিনি আবারও হিন্দু শরণার্থীদের সিএএ-তে আবেদন করার জন্য আহ্বান করেন।
মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর-এর ফর্ম নিয়েছেন, সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দুর দাবি, করোনা কালে যখন ভারতে ভ্যাকসিন তৈরি হতে শুরু করল, তখন সবার প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অখিলেশ যাদব। অথচ এঁরাই আবার মানুষকে ভ্যাকসিন নিতে বারণ করেছিলেন। এসআইআর-এর ক্ষেত্রেও একই জিনিস করছেন। নিজে ফর্ম নিচ্ছেন, অথচ মানুষকে বারণ করছেন। এভাবেই বারবার এঁরা মিথ্যাচার করেছেন। তৃণমূল মানুষকে এসআইআর-এর বদলে এনআরসি-র ভয় দেখাচ্ছে৷ তারাই বিএলএ-2 নিয়োগ করছে।’’
তিনি নির্বাচন কমিশনের কাজের প্রশংসা করেন৷ একই সঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের উচিত এআই দিয়ে ফর্মগুলি স্ক্যান করানো যাতে কোনও ডাবল এন্ট্রি না-থাকে।’’ তিনি দেদার হারে জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টিও তোলেন। তিনি এদিন তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘বাংলাদেশি রোহিঙ্গা খুঁজতে বেশি পরিশ্রম করতে হবে না। প্রতি রোহিঙ্গা পিছু 500 টাকা করে দিলেই তৃণমূলের লোকজনই সব রোহিঙ্গা ধরিয়ে দেবে।’’
সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে আক্ষেপ শোনা গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর গলায়৷ তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সব সুবিধা পেলেও ভারতীয় সংখ্যালঘুরা ভোট দিতে চান না। তারা বিজেপিকে হিন্দুদের দল বলে। তৃণমূলকে ভোট দিলেও তাঁদের উন্নতিতে তৃণমূল কোনও কাজ করে না। আমরা মনে করি সমস্ত ভারতীয় মুসলিমদের নাম থাকবে এসআইআর-এ।’’
একই সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘একদম নিচুতলা থেকে উপরের মাথা পর্যন্ত সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত। এর সঙ্গে রয়েছে অনুন্নয়ন, চরম বেকারত্ব, অর্থনৈতিক মন্দা, কৃষকদের সমস্যা, সেচের করুন হাল, শিক্ষার দুরবস্থা, বিদ্যালয়গুলোর বেহাল দশা এবং সীমাহীন তোষণ।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘শাসক দলও তাই চায় যাতে মূল সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু এই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সমস্যাগুলো বারবার তুলে ধরবে বিজেপি।’’

