মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের রায় ঐতিহাসিক, এবার পালা আরও 3 জনের: শুভেন্দু
2021-এ বিজেপির বিধায়ক হন মুকুল রায়৷ যোগ দেন তৃণমূলে৷ তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে মামলা দায়ের হয়৷ বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের রায় দিল৷

Published : November 13, 2025 at 3:54 PM IST
কলকাতা ও শিলিগুড়ি, 13 নভেম্বর: মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট৷ উচ্চ আদালতের এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ হাইকোর্ট রায় দেওয়ার পরই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই নিয়ে পোস্ট করেন বিরোধী দলনেতা৷ সেখানেই তিনি এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন৷ পাশাপাশি আদালতের রায়কে স্বাগতও জানান তিনি৷
হাইকোর্টের রায় নিয়ে শুভন্দু অধিকারীর পোস্ট
এক্স হ্যান্ডেলে করা ওই পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শাব্বার রশিদী যে রায় দিয়েছেন, তা পশ্চিমবঙ্গে প্রথম৷ এই ধরনের রায় ভারতেও সম্ভবত প্রথমবার দেওয়া হল৷ মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের মামলা যে তিনিই দায়ের করেছিলেন, সেই কথাও ওই পোস্টে উল্লেখ করেছেন বিরোধী দলনেতা৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমার দায়ের করা একটি তীব্র বিতর্কিত রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে এই ঐতিহাসিক রায় দেওয়া হয়েছে।’’
ওই পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী আরও লিখেছেন, মুকুল রায়কে বিধায়ক হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করে আদালত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আদেশও বাতিল করে দিয়েছে৷ বিরোধী দলনেতা উল্লেখ করেছেন, মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের জন্য নিয়ম মেনে তিনি প্রথম বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন৷ কিন্তু অধ্যক্ষ সেই নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করেন৷
সোশাল মিডিয়ায় বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়, যদিও তা একটু বিলম্বিত হতে পারে। এই রায়কে তিনি ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন৷ পাশাপাশি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর কথাও উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী৷
আরও তিন বিধায়ককে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
2021 সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপির টিকিটে যাঁরা জিতেছিলেন, তাঁদের মধ্যে মুকুল রায়-সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন৷ বৃহস্পতিবার মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ হয়ে যাওয়ার পর সেই বিধায়কদেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ সেই তালিকায় রয়েছেন, আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল, বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ, হলদিয়ার তাপসী মণ্ডল৷

এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, "কিছুক্ষণ আগেই কলকাতা আদালতের রায় এসেছে দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে। এটা সংবিধানের জয়। সংবিধান অনুযায়ী যাঁরা দল বদল করবেন, তাঁদের তৎক্ষণাৎ পদ চলে যাবে বা পদত্যাগ করতে হবে। যেমন আমি 2020 সালে বিজেপিতে যোগদানের আগে আমি আমার মন্ত্রিত্ব, বিধায়ক ও দলের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ও তাঁর দল এবং স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় 2011 থেকে এখন পর্যন্ত 50-এর বেশি বিধায়কদের দল পরিবর্তন করিয়েছেন। কিন্তু সেই সব বিধায়কদের দলত্যাগ বিরোধী আইনে পদত্যাগ করাননি। এই লড়াইটা অনেক লম্বা লড়াই ছিল। চার বছর চলেছে। অবশেষে সংবিধানের জয় হল।"

বিরোধী দলনেতা আরও সংযোজন, "আমি অত্যন্ত খুশি এই রায়ে। স্পিকার মুকুল রায়কে বলেছিলেন তিনি বিজেপিতেই আছেন। 2021 সালের পর থেকে বিজেপি টার্গেটে ছিল। কংগ্রেস-সিপিএম পারেনি লড়তে। মোট 54 জন বিধায়কদের ভয় দেখিয়ে দল পরিবর্তন করানো হয়েছে। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন ভারতবর্ষের সংবিধান শেষ কথা বলে। এই দলদাস বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবস্থাপনা শেষ কথা বলে না।"
বিরোধী দলনেতা হিসেবে মুকুল রায়ের মতো একইভাবে এইসব দলবদলু বিধায়কদের পদ খারিজের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তৃণমূলকে তোপ শুভেন্দুর
শিলিগুড়িতে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েও একই ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ তখন অবশ্য আদালতের রায় বের হয়নি৷ তবে শুভেন্দু তখন তোপ দেগেছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে৷ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়কদের দলবদল নিয়ে আগাগোড়া মিথ্যাচার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন বিরোধী দলনেতা৷

এছাড়া আরও কয়েকটি ইস্যুতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন৷ তৃণমূলের বিরুদ্ধে তিনি এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত থাকা বিএলও-দের প্রভাবিত করার অভিযোগ করেছেন৷ তাঁর বক্তব্য, যে সমস্ত স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার তুলনায় পড়ুয়াদের সংখ্যা বেশি, তেমন স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষক বিএলও-দের ট্রান্সফার করা হচ্ছে৷ বিএলও-দের প্রভাবিত করা এবং ভয় দেখানোর জন্য এটা করা হচ্ছে৷ ইতিমধ্যে বাঁকুড়াতে অর্থের বিনিময়ে 22টা ট্রান্সফার হয়েছে।
একই সঙ্গে তাঁর দাবি, অধিকাংশ আধিকারিকই নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করছেন৷ তৃণমূল কোনও প্রাথমিক শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে হেনস্তা করলে তিনি পাশে থাকবেন বলে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন৷

অন্যদিকে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রকে ইডি-র তলব প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘45 লক্ষ টাকা সুজিত বসুর ছেলের রেস্তরাঁ থেকে উদ্ধার হয়েছে। কারণ, উনি হিসাব দিতে পারেননি। আসলে উনি হিসাব দেবেন কী করে, এটা তো তোলার টাকা। ওখানে যে দুর্গাপুজোর নামে তোলাবাজি চলে কোটি কোটি টাকা ওঠে, সেটা তোলাবাজির টাকা অন্য কিছু নয়।"
এছাড়া মুর্শিদাবাদে এনআইএ হানা প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, ‘‘মুর্শিদাবাদ তো এদের (জঙ্গি) ঘাঁটি। এর আগেও দু’জন ওখান থেকে ধরা পড়েছিল, যারা তৃণমূলকে ভোট দিত। এই রাজ্যেই তো খাগড়াগড় বিস্ফোরণ হয়েছে৷ আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, খাগড়াগড়ের সময় তারা কোথায় ছিল। আসলে এই রাজ্য হচ্ছে জঙ্গিদের জন্য স্বর্গ। কারণ, এরা মনে করে যে পশ্চিমবঙ্গে এদের সেফ হাউস।’’
মহাকাল মন্দির নির্মাণ নিয়ে মমতাকে তোপ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়িতে 17.4 একর জমিতে মহাকাল মন্দির নির্মাণের ঘোষণা করেছেন সম্প্রতি৷ সেই নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দুদের সংঘবদ্ধ হতে দেখে এখন হিন্দু সাজার চেষ্টা করছেন। কিন্তু হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকৃত হিন্দু বলে মনে করে না। হিন্দুদের যে রীতিনীতি, তা তিনি মানেন না। দেখছেন যে মুসলমানদের এক করে ভোট নিয়েছি, এখন দেখছেন হিন্দুরা এক হচ্ছে। তাই এখন মন্দিরের রাজনীতি করছেন।"
স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিলা খুনে ধৃত কোচবিহারের তৃণমূল নেতা স্বপন সরকারের গ্রেফতারির বিষয়ে তিনি বলেন, "তৃণমূল মানেই তো খুনি, ধর্ষক। তৃণমূল মানেই তো খুন করবে স্বাভাবিক। মাথায় তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত রয়েছে।"

