বিজেপির নেতাদের 200 মিটারের মধ্যে তৃণমূল কর্মী-দুষ্কৃতী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে শুভেন্দু
শুক্রবার মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে৷ আগামী 12 নভেম্বর পরবর্তী শুনানি৷ তার আগে রাজ্য ও কেন্দ্র হলফনামা জমা দেবে৷


Published : October 31, 2025 at 7:48 PM IST
কলকাতা, 31 অক্টোবর: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ ভারতীয় জনতা পার্টির বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীদের উপর একাধিক জায়গায় হামলা বা আক্রমণের ঘটনায় এবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হল৷ মামলা দায়ের করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মামলায় আবেদন করা হয়েছে, বিরোধী দলনেতা এবং ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা-মন্ত্রীরা যেখানে যাবেন, সেই স্থানের 200 মিটারের মধ্যে তৃণমূল কর্মী ও দুষ্কৃতীদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুক পুলিশ।
এই ব্যাপারে রাজ্যের বক্তব্য জানতে চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা-সহ বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা যেহেতু কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন, সেই জন্য এই বিষয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য হলফনামা দিয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী 10 দিনের মধ্যে সবপক্ষকে তাদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 12 নভেম্বর এই বিষয়ে আবেদনের বিস্তারিত শুনানি করবে হাইকোর্ট।
এদিন মামলার শুনানিতে বিরোধী দলনেতার পক্ষের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বিজেপি নেতাদের উপরে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। সন্দেশখালিতে তল্লাশিতে গিয়ে ইডি অফিসাররা আক্রান্ত হন তৃণমূল নেতা-সমর্থকদের হাতে। একইভাবে বিজেপি নেতারা এখন দলীয় ও অন্য কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলেই আক্রান্ত হচ্ছেন। শুধু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা নেতা নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘নিরাপত্তা প্রোটোকল আছে, সেই বিধি নেতাদের ক্ষেত্রে কতটা মানা হচ্ছে কনভয় যাতায়াতের ক্ষেত্রে? কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যের কাছে এই বিধি মানা হচ্ছে কি না, সেই ব্যাপারে রিপোর্ট তলব করা হোক। একই সঙ্গে এখনও যত হামলা হয়েছে, তার সব ক’টির ক্ষেত্রে এনআইএ-কে নির্দিষ্ট (সিডিউল অফেন্সের) কারণে তদন্তভার দেওয়া হোক।পাশাপাশি সিবিআই-কেও তদন্তে রাখা হোক।’’
বিল্বদল ভট্টাচার্যের আরও বক্তব্য, ‘‘বিরোধী দলের সদস্যদের উপর হামলার ঘটনা এখন স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। বিরোধী দলনেতা কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পাওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের নিরাপত্তা পান। কিন্তু পুলিশের নিরাপত্তা কাজ না-করায় হামলার ঘটনা ঘটছে।’’
রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতে আনা হচ্ছে জনস্বার্থ মামলার মোড়কে। সন্দেশখালির ঘটনা একটা ঘটেছিল। সেটা সামনে রেখে বিজেপি গোটা রাজ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজ্য এই ব্যাপারে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে আগ্রহী৷’’
তার পরই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে রাজ্য ও কেন্দ্র হলফনামা দিয়ে তাদের বক্তব্য জানাবে। 12 নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।

