জেলায়-জেলায় জন্মের জাল শংসাপত্র করিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল, অভিযোগ শুভেন্দুর
মঙ্গলবার কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বিজেপির প্রতিনিধি দল নিয়ে সাক্ষাৎ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ সেখানে তিনি এই নিয়ে অভিযোগ করেন৷

Published : November 4, 2025 at 5:42 PM IST
কলকাতা, 4 নভেম্বর: জালিয়াতি করে ভোটার তালিকায় অবৈধ ভোটারদের নাম রেখে দিতে ষড়যন্ত্র করছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠল মঙ্গলবার৷ অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ তাঁর দাবি, একাধিক জেলায় শাসক দল মানুষকে জন্মের জাল শংসাপত্র তৈরি করিয়ে দিচ্ছে৷
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যান বিরোধী দলনেতা৷ সেখানে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করেন৷ পরে বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি৷ সেখানেই তিনি শাসক দলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন তিনি৷ শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য জানান, এত চেষ্টা করেও শাসক দলের কোনও লাভ হবে না৷
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR-এর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে৷ বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনামুরেশন ফর্ম দিতে শুরু করেছেন৷ সেই দিনই দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে হাজির হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷
কমিশনের সঙ্গে আলোচনা সেরে এসে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের কিছু বেশ কিছু জায়গায় বার্থ সার্টিফিকেট নিয়ে জালিয়াতি হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস আইপ্যাকের চক্রান্তে শাসক দল মৃত ব্যক্তিরদের নাম ঢোকানোর কাজ করছে। এই বিষয়টি সিইও-তে জানানো হয়েছে। ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র তৈরি করিয়ে সেটার থেকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট তৈরি করা হচ্ছে। আর এভাবেই জালিয়াতি হচ্ছে।’’

তবে জন্মের শংসাপত্র জমা দিয়ে কেউ ভোটার তালিকায় নাম তুলতে যায়, সেক্ষেত্রে কী হতে পারে সেই সংক্রান্ত আইন সিইও মনোজ আগরওয়াল তাঁদের এই বিষয় বুঝিয়েছেন বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতা বলেন, "সিইও আমাদের বলেছেন যে পূর্ণ হওয়া ফর্মগুলো ফেরত এলে তাঁরা বিষয়টি দেখবেন। বাবা-মা আর দাদু দিদা অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আত্মীয়ের নাম ছাড়া আর কোনও আত্মীয়ের নাম ফর্মে দেওয়া যাবে না। আর তেমনটা হলে ইলেকশন কমিশনের নয়া সফটওয়্যার সেটা বাউন্স করাবে। তাই নতুন বার্থ সার্টিফিকেট কাজে লাগবে না।"

তিনি আরও জানান, জন্মের নতুন শংসাপত্র করানোর জন্য বর্তমানে যে কলকাতা পুরনিগম ও পুরসভাগুলির সামনে লম্বা লাইন পড়ছে, তাতে কোনও লাভ হবে না। কারণ, কোনও ব্যক্তিকে পুনর্জীবিত করা বা অনুপ্রবেশকারীদের কোনও সুবিধা হবে না। বিরোধী দলনেতার দাবি, দক্ষিণ 24 পরগনা, উত্তর 24 পরগনা, কোচবিহার-সহ আরও বেশ কিছু জায়গায় জালিয়াতি হচ্ছে। এর পাশাপাশি তিনি এও দাবি করেন যে অনেক জায়গায় মিড ডে মিলের রাঁধুনিদেরও বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

বিরোধী দলনেতা আরও জানান, তাঁরা প্রায় 60 হাজার বিএলএ-2 দেবেন। এর আগেই বিজেপি প্রায় 5700 বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। ওই অভিযোগগুলোর কী হলো সেই বিষয়টি বিজেপিকে তিনদিনের মধ্যেই জানাবে কমিশন।

