স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সামনে ধর্নার পালটা এবার নবান্ন, ছাড়পত্র না-মেলায় হাইকোর্টের পথে শুভেন্দু!
আগামী 15 বা 16 জানুয়ারি - এই দু'দিনের মধ্যে যে কোনও একদিন নবান্নের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসতে চান বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু ।

Published : January 11, 2026 at 4:51 PM IST
কলকাতা, 11 জানুয়ারি: দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অফিসের সামনে তৃণমূল সাংসদের ধর্না কর্মসূচির পালটা হিসেবে এবার রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে বড়সড় কর্মসূচির পথে হাঁটতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তৃণমূলের দিল্লির আন্দোলনের জবাব দিতে এবার খাস নবান্নের সামনে ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি । তবে পুলিশি অনুমতি না-মেলায় শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক । আগামী 15 বা 16 জানুয়ারি - এই দু'দিনের মধ্যে যে কোনও একদিন তিনি নবান্নের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসতে চান বলে জানিয়েছেন ।
সম্প্রতি ইডি অভিযানের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে দিল্লির নর্থ ব্লকে অমিত শাহের মন্ত্রকের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন তৃণমূল সাংসদরা । সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায় । এবার সেই কৌশলকেই হাতিয়ার করতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি । শুক্রবার থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দফতরের বাইরে তৃণমূলের ধর্নার পালটা কৌশল সাজাতে শুরু করেন শুভেন্দু । তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল যদি দিল্লিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসের সামনে বিনা অনুমতিতে ধর্না দিতে পারে, তবে তিনি কেন নবান্নের সামনে বসতে পারবেন না ? এই প্রশ্ন তুলেই এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সচিবালয়ের সামনে ধর্নামঞ্চ বাঁধতে চাইছেন বিরোধী দলনেতা ।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে ধর্নায় বসার অনুমতি চেয়েছিলেন । কিন্তু পুলিশের তরফে এখনও কোনও সদর্থক উত্তর মেলেনি । সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, "তাঁরা (তৃণমূল) না বলে অমিত শাহজির অফিসে গিয়েছিলেন । ফাইল চুরি করেছে, তাই আমি নবান্নের সামনে বসব । আমি চেয়েছি 15 বা 16 তারিখ, যে কোনও একদিন সারাদিন আমি বসতে চাই । পুলিশকে জানিয়েছি, পুলিশ রেসপন্স করেনি, তাই আমি কোর্টে যাব । পারমিশন নিয়েই যাব ।"
বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই কর্মসূচি নিয়ে পিছু হটতে নারাজ । প্রশাসন অনুমতি না দিলেও আদালতের নির্দেশ নিয়ে তিনি নবান্ন অভিযানের বা ধর্নার সিদ্ধান্তে অনড় । তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধীদের কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করছে, যেখানে শাসকদল দিল্লিতে গিয়ে বিনা অনুমতিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে ।
এদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর এই 'নবান্নে ধর্না'র কর্মসূচিকে আমল দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস । ঘাসফুল শিবিরের দাবি, মমতাকে নকল করেই রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন শুভেন্দু । এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা দলীয় মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বিরোধী দলনেতাকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, "ক্লাসের ফেল করা ছাত্র যেমন ফার্স্ট বয়কে দেখে যতই টুকলি করে পরীক্ষা দিতে চাক না কেন, সে ক্লাসে কখনও ফার্স্ট হয় না । ফেলুরাম ফেলটুই থাকে ।"
তৃণমূলের অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর নিজস্ব কোনও রাজনৈতিক সত্তা নেই । অরূপ চক্রবর্তী আরও বলেন, "ওঁর রাজনীতি দাঁড়িয়ে রয়েছে তৃণমূলকে নকল করা, মমতাদিকে নকল করা এবং অভিষেককে নকল করার মধ্যে । চাঁদের যেমন নিজস্ব আলো থাকে না, সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়, তেমনই শুভেন্দু জানেন মমতাদিকে নকল করলে তবেই রাজনীতিতে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা থাকবে ।"
পাশাপাশি বিজেপির অন্দরের সমীকরণ নিয়েও খোঁচা দিতে ছাড়েনি তৃণমূল । অরূপ চক্রবর্তীর কথায়, দিলীপ ঘোষ বা সুকান্ত মজুমদার বর্তমানে লাইমলাইটে চলে আসায় এবং শুভেন্দুর টিআরপি কমে যাচ্ছে, তাই তিনি ফুটেজ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন । যাদবপুর থেকে মিছিল হোক বা নবান্ন অভিযান - সবকিছুই আসলে প্রচারের আলোয় থাকার চেষ্টা এবং মমতাকে অন্ধ অনুকরণ মাত্র ।

