ETV Bharat / politics

আইপ্যাকের সঙ্গে 16 কোটির লেনদেন ফাঁস ! শাহজাহানের উপমা টেনে মমতাকে 'গুন্ডি' সম্বোধন শুভেন্দুর

সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, "শাহজাহান যা করেছিল, মমতাও তাই করেছেন । শাহজাহানকে যদি গুন্ডা বলি, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে 'গুন্ডি' বলতেই পারি ।"

ETV BHARAT
বিধানসভার বাইরে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 9, 2026 at 2:49 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 9 জানুয়ারি: কলকাতায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি অভিযানে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং তৎপরবর্তী আইনি জটিলতা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি । সেই ঘটনায় শুক্রবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ।

ইডির কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে 'ক্রিমিনাল অফেন্স' বা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে শেখ শাহজাহানের সঙ্গেও তুলনা করেন । একইসঙ্গে, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের (PHE) বরাত পাওয়া এক ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে আইপ্যাকের (I-PAC) কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের নথি প্রকাশ্যে এনে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা ।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এবং তাঁর পরিবারের দুর্নীতি ঢাকতেই বারংবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বাধা সৃষ্টি করেন । সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "শাহজাহান যা করেছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাই করেছেন । শাহজাহানকে যদি গুন্ডা বলি, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা 'গুন্ডি' বলতেই পারি ।" তাঁর অভিযোগ, রাজীব কুমার থেকে শুরু করে শেখ শাহজাহান - যাঁরাই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত, তাঁদের বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী ঢাল হয়ে দাঁড়ান । গতকালের ঘটনাকে তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় 'সংবিধান বিরোধী' কাজ বলে অভিহিত করেছেন ।

কলকাতা হাইকোর্টে ইডির করা মামলার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু জানান, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সঠিক পথেই এগিয়েছে । তিনি বলেন, "ইডির তরফে কলকাতা হাইকোর্টে যে লিভ চাওয়া হয়েছিল, তা মঞ্জুর হয়েছে । অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ইডি তাদের পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'রেসপন্ডেন্ট নম্বর ওয়ান' (1 নম্বর বিবাদী) করেছে । তদন্তে বাধা দেওয়া এবং তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই এই পদক্ষেপ ।" বিরোধী দলনেতা আরও জানান, ইডি আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছে যাতে সিবিআই-কে (CBI) দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করানো হয় এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া নথিপত্র, যা গতকাল 'ছিনিয়ে' নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ, তা উদ্ধার করা হয় ।

এদিন আইপ্যাকের বিরুদ্ধে এক বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে আনেন শুভেন্দু । তিনি দাবি করেন, জল জীবন মিশনে দুর্নীতির টাকা সরাসরি ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে । সাংবাদিকদের সামনে একটি তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, "2021 সালে দক্ষিণ 24 পরগনার কাকদ্বীপের জেপি কনস্ট্রাকশন নামে এক সংস্থা পিএইচই (PHE) থেকে প্রায় 178 কোটি টাকার বরাত পেয়েছিল । 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ওই সংস্থা 16 কোটি টাকা সরাসরি আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে ।"

চেক নম্বর (001739) উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদার সংস্থা কেন একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থাকে এত টাকা দেবে ? শুভেন্দুর কটাক্ষ, "ব্যথাটা কোথায় বুঝেছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর ? কেন তিনি তড়িঘড়ি ছুটে গেলেন ? কারণ এই 16 কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য ইডির হাতে চলে আসতে পারে ।"

গতকাল ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআর প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন বিরোধী দলনেতা । তিনি বলেন, "এই মামলার কোনও ভিত্তি নেই । এর আগেও রাজীব কুমার বা কয়লা পাচার কাণ্ডে তদন্তকারী অফিসারদের বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর করেছিল, কিন্তু তার কোনও ফলাফল হয়নি । কারণ কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে কাজ করে ।" তাঁর মতে, পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা মুখ্যমন্ত্রীর 'গুড বুকে' থাকার জন্যই এই ধরনের মামলা রুজু করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত আদালতে টিকবে না ।

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের মন্তব্য প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যপাল যথার্থই বলেছেন 'বিনাশ কালে বুদ্ধিনাশ'। তিনি আরও বলেন, গতকাল পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর বাধার মুখে ইডি আধিকারিকরা যে সংযম দেখিয়েছেন, তা প্রশংসনীয় । ইডি পালটা বল প্রয়োগ করলে সন্দেশখালির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত এবং ইডি আধিকারিকরা আক্রান্ত হতেন বলে মনে করেন তিনি । গোটা ঘটনায় তিনি আদালতের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ।

তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই দুর্নীতির বিচার চায় । তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী চোরদের বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছেন, আর জনগণ চোরদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে । আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বাংলা ।" দিল্লি বা গোয়া নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে হাওয়ালার টাকা ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েও সরব হন তিনি। সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর 'হস্তক্ষেপের ঘটনা'কে কেন্দ্র করে দুর্নীতির নতুন খতিয়ান পেশ করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী ।

আরও পড়ুন: