গণনায় ‘কারচুপি’ রুখতে কড়া নজরদারি, রাজীব কুমারকে সামনে রেখে কাউন্টিং অবজার্ভার নিয়োগ তৃণমূলের
ফল ঘোষণার আগে শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ তৃণমূল । 'সংগঠনই শক্তি', এই বার্তাকে সামনে রেখেই জেলাভিত্তিক নজরদারির জাল বিছিয়ে দিয়েছে তারা ।

Published : May 2, 2026 at 8:55 PM IST
কলকাতা, 2 মে: দু’দফার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে এখন গোটা রাজ্যের চোখ 4 মে-র ফলাফলে । আর সেই ফল ঘোষণার দিনকে ঘিরেই একেবারে সর্বশক্তি দিয়ে প্রস্তুত শাসক শিবির । গণনাকেন্দ্র থেকে স্ট্রং রুম, সব জায়গায় কড়া নজরদারি চালাতে জেলাভিত্তিক 'কাউন্টিং অবজার্ভার' নিয়োগ করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস । বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ওই তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্রাক্তন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের নাম, দমদম ও ব্যারাকপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে ।
শনিবার বিকেলে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ভার্চুয়াল বৈঠকের পরেই এই তালিকা প্রকাশিত হয় । উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । বৈঠকে কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, "এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া চলবে না, গণনার প্রতিটি ধাপ নজরে রাখতে হবে ।"
তৃণমূলের মুখপত্র-য় প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, গণনায় সম্ভাব্য কারচুপি রুখতে প্রথম সারির নেতা, মন্ত্রী ও সাংসদদের সরাসরি মাঠে নামানো হচ্ছে । ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং প্রশাসনিক প্রস্তুতিকেও একধাপ এগিয়ে রাখার চেষ্টা । গণনার দিন কোনও আইনি জটিলতা বা উত্তেজনা তৈরি হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৷ সে কারণেই এমন পদক্ষেপ ।
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ 24 পরগনার দায়িত্ব নিজের কাঁধেই রেখেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । অন্যদিকে উত্তর 24 পরগনায় দায়িত্বে রয়েছেন প্রবীণ সাংসদ সৌগত ও পার্থ ভৌমিক । বারাসতে রথীন ঘোষের উপর ভরসা রেখেছে দল । কলকাতার ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর, উত্তরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, দক্ষিণে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাস ।
জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ, সব জায়গাতেই ছড়ানো হয়েছে এই 'পর্যবেক্ষক বাহিনী' । পূর্ব বর্ধমানে কীর্তি আজাদ, পশ্চিম বর্ধমানে বাবুল সুপ্রিয়, মেদিনীপুরে দেব ও জুন মালিয়া, বীরভূমে শতাব্দী রায় অর্থাৎ তারকা ও অভিজ্ঞতার মিশেলে সাজানো হয়েছে তালিকা । উত্তরবঙ্গে গৌতম দেব, সামিরুল ইসলামদের মতো পোড়খাওয়া নেতাদের উপরেই ভরসা রেখেছে দল ।
এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আগেই তোলা একাধিক অভিযোগ । তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে । তাই গণনার দিন কোনোভাবেই যাতে 'অন্যায্য প্রভাব' না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে চাইছে দল ।
শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংগঠনিক দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে । কাউন্টিং এজেন্টদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, হালকা খাবার খাওয়া, বাইরের জল এড়িয়ে চলা, এমনকি পান-সিগারেট থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ । দলের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক ও শারীরিকভাবে সতর্ক থাকতে গেলে এই শৃঙ্খলা অত্যন্ত জরুরি ।
সব মিলিয়ে, ফল ঘোষণার আগে শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ তৃণমূল । 'সংগঠনই শক্তি', এই বার্তাকে সামনে রেখেই জেলাভিত্তিক নজরদারির জাল বিছিয়ে দিয়েছে তারা ।
আরও পড়ুন:

