SIR : নতুনদের স্বাগত, কিন্তু ‘বাদ’ তালিকায় ন্যায্য ভোটার নেই তো? চিন্তায় শশী পাঁজা
তৃণমূল সূত্রের দাবি, প্রথম প্রকাশিত তালিকায় বাদ গিয়েছে প্রায় 1 কোটি 20 লক্ষ নাম । এর মধ্যে উত্তর কলকাতাতেই বাদ গিয়েছে 4 লক্ষের বেশি ।

Published : February 28, 2026 at 2:59 PM IST
কলকাতা, 28 ফেব্রুয়ারি: নির্ধারিত সময়ের আগেই শনিবার প্রকাশিত হল এসআইআর-পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা । আর তালিকা সামনে আসতেই শুরু হল নতুন বিতর্ক । প্রকাশিত তালিকায় যাঁদের নাম যুক্ত হয়েছে, তাঁদের স্বাগত—কিন্তু যাঁদের নাম বাদ গেল, তাঁরা কারা ? তাঁদের মধ্যে কোনও ন্যায্য ভোটার বঞ্চিত হলেন না তো ? এই প্রশ্নই তুললেন শ্যামপুকুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ।
তাঁর কথায়, "নতুন যারা যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের স্বাগত । কিন্তু কাদের নাম বাদ দেওয়া হল, সেটা খতিয়ে দেখব । কোনও যোগ্য ভোটারের নাম ছাঁটাই হলে তা মেনে নেওয়া হবে না । সেটা হয়ে থাকলে মানুষ নির্বাচন কমিশনের উপর থেকে বিশ্বাস হারাবে ।”
তৃণমূল সূত্রের দাবি, প্রথম প্রকাশিত তালিকায় আপাতত বাদ গিয়েছে প্রায় 1 কোটি 20 লক্ষ নাম । উত্তর কলকাতাতেই বাদ পড়া নামের সংখ্যা 4 লক্ষের বেশি বলে অভিযোগ । এই বিপুল সংখ্যক বাদ পড়া নাম নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শশী ।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস । দলীয় নেতৃত্বের দাবি, মাঠে আন্দোলনের পাশাপাশি আদালতের লড়াইও চালানো হয়েছে । ভোটারদের নাম যাতে অযথা বাদ না যায়, সেই দাবিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন বলে দলীয় সূত্রের বক্তব্য । সেই টানা চাপানউতোরের পর অবশেষে প্রকাশিত হল চূড়ান্ত তালিকা ।
শশীর অভিযোগ, 2002 সালের তালিকায় আত্মীয়-পরিজনের নাম থাকলে শুনানিতে না ডাকার নির্দেশ থাকলেও, সেই নিয়ম মানা হয়নি । তাঁর প্রশ্ন, "দেশের অন্যান্য রাজ্যে এক নিয়ম, বাংলার ক্ষেত্রে অন্য নিয়ম কেন ? এসআইআর পর্বে বেছে বেছে বাংলার জন্য নতুন নতুন নিয়ম জারি করা হল কেন ? ভাই-বোন বেশি—এই অজুহাতে মানুষকে শুনানি কেন্দ্রে ডেকে হয়রানি করা হল কেন ? যে নামগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে, ঠিক কোন ভিত্তিতে তা করা হল, আমরা খতিয়ে দেখব ।"
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তৃণমূল এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধী নয়। আপত্তি ছিল সময়সীমা ও পদ্ধতি নিয়ে। শশীর কথায়, "এত গুরুত্বপূর্ণ কাজ এত কম সময়ে শেষ করার তাড়াহুড়ো থেকেই জটিলতা তৈরি হয়েছে । দেশের নাগরিকরা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চান । সেখানে কমিশন যেন ঠিক করছিল, কাকে ভোটাধিকার দেবে আর কাকে দেবে না—পুরো প্রক্রিয়াটাই উল্টে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল ।"
তৃণমূলের আরও অভিযোগ, জটিল আবেদনপত্র পূরণ করতে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ । বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে 20-30 কিলোমিটার দূরের শুনানি কেন্দ্রে যেতে হয়েছে । নির্দেশ বারবার বদলানোয় বিভ্রান্তি বেড়েছে । প্রায় 1 কোটির বেশি মানুষকে 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র তালিকায় ফেলা হয়েছে বলেও দাবি শাসকদলের । শ্যামপুকুর বিধানসভা এলাকাতেই 1630 জনের নাম বাদ গিয়েছে বলে জানান শশী ।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলেও বিতর্ক যে থামেনি, তা স্পষ্ট । এখন নজর, বাদ পড়া নামগুলির পর্যালোচনায় কী উঠে আসে এবং নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয় । ভোটের আগে তালিকা ঘিরে এই টানাপোড়েনই আপাতত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ বাড়াচ্ছে ।

