ETV Bharat / politics

SIR: 6 মার্চ মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় মমতা-অভিষেক, কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

অভিষেকের কথায়, নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত এই তালিকায় বিপুল সংখ্যক বৈধ ও প্রকৃত ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

Mamata Banerjee
কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 1, 2026 at 8:13 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

​কলকাতা, 1 মার্চ : স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR)-এর মাধ্যমে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বেআইনিভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগে এবার সরাসরি রাজপথে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আগামী 6 মার্চ, শুক্রবার কলকাতার এসপ্ল্যানেড সংলগ্ন মেট্রো চ্যানেলে ধর্না-অবস্থানে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে এই মেগা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও । রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন অভিষেক ।

​সাড়ে 63 লক্ষ নাম বাতিল, নিশানায় কমিশন
শনিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকার (SIR Final List 2026) প্রথম দফা প্রকাশ করা হয় । তালিকা সামনে আসতেই তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে 63 লক্ষ ভোটারের নাম এক ধাক্কায় তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে । এর পাশাপাশি আরও প্রায় 60 লক্ষ ভোটারের নাম বর্তমানে 'বিবেচনাধীন' বা 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' (Under Adjudication) অবস্থায় রাখা হয়েছে । রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করে অভিষেক বলেন, কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফর্ম 7 (Form 7) ব্যবহার করে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কাজ চলেছে ।

​টার্গেট প্রান্তিক মানুষ ও বিরোধী ভোটার
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কোনও প্রশাসনিক গাফিলতি হয়নি, এসআইআর-এর নামে সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষের নাম কাটা হয়েছে । অভিষেকের কথায়, নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত এই তালিকায় বিপুল সংখ্যক বৈধ ও প্রকৃত ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ ব্যাপারে সরাসরি কমিশনের 'নিরপেক্ষতা' নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেকের অভিযোগ, "যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেন না, বেছে বেছে তাঁদের নামই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ।"

তৃণমূলের বক্তব্য়, রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষেরাই কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন । সাধারণ মানুষকে তাঁদের মৌলিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার এই চক্রান্তের প্রতিবাদেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান অভিষেক ।

​মুখ্যসচিব থেকে মন্ত্রী—বিচারাধীন ভিআইপিরাও!
এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের সংঘাত অব্যাহত । সময় যত গড়িয়েছে, সেই সংঘাতের পারদ ততই চড়েছে । শাসকদলের অভিযোগ, এই 'বিবেচনাধীন' ভোটারের তালিকায় শুধু যে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন তা নয়, বাদ যাননি হেভিওয়েটরাও । খোদ রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেন এবং আমডাঙার তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমানের মতো পরিচিত মুখদের নামও বিবেচনাধীন ভোটারের তালিকায় রাখা হয়েছে । তৃণমূলের প্রশ্ন, যেখানে রাজ্যের শীর্ষ আমলা বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটাধিকার নিয়েও টালবাহানা করা হচ্ছে, সেখানে সাধারণ গরিব মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের নিরাপত্তা কোথায় ? শাসকদলের অভিযোগ, গোটা প্রক্রিয়াটিই কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে পরিচালিত হচ্ছে ।

​মমতার আশঙ্কা ও আগামী দিনের ব্লু-প্রিন্ট
গত বৃহস্পতিবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়া নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন । সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে, এক লক্ষ কুড়ি হাজার ভোটার বাদ যেতে পারেন । শনিবার প্রথম দফার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, সংখ্যাটা সাড়ে 63 লক্ষ ! শাসকদলের বক্তব্য, বেছে বেছে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে ৷ এর প্রতিবাদেই আগামী শুক্রবার দুপুর 2 টো থেকে মেট্রো চ্যানেলে অবস্থান বিক্ষোভে বসবেন তৃণমূল নেত্রী ।

​অভিষেক জানিয়েছেন, ওই ধর্না মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে বাদ পড়া সমস্ত ভোটারের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানানো হবে । ওই দিন ধর্না মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের আগামী দিনের বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন বলেও এদিন ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিষেক । অর্থাৎ, এসআইআর ইস্যুতে এবার আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে চলেছে রাজ্যের শাসকদল৷