ব্রাত্যর বিরুদ্ধে কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা চুরির অভিযোগ, প্রতিবাদে বিকাশ ভবন অভিযানে এসএফআই
রাজ্যের স্কুলগুলিতে বর্ধিত ফি নেওয়ার অভিযোগ ৷ নেপথ্যে কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা না-দেওয়ার অভিযোগ এসএফআই-এর ৷

Published : January 11, 2026 at 8:26 PM IST
কলকাতা, 11 জানুয়ারি: এবার রাজ্য শাসকদল তৃণমূল তথা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির জন্য বরাদ্দ 'কম্পোজিট গ্রান্ট' চুরির অভিযোগ আনল এসএফআই ৷ আর সেই কারণেই, পড়ুয়াদের কাছে সরকার নির্ধারিত ফি-র থেকে বর্ধিত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করল এই বাম ছাত্র সংগঠন ৷
তাদের অভিযোগ, রাজ্যে একের পর এক সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ৷ পর্যাপ্ত শিক্ষক-পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে বহু স্কুল ৷ আবার বহু স্কুলে পরিকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে নানান জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে ৷ এরকম অবস্থায় নতুন করে ভর্তি ফি বৃদ্ধির জেরে বিভিন্ন স্কুলে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে ৷
সিপিআইএম-এর ছাত্র সংগঠন এসএফআইয-এর অভিযোগ, রাজ্য সরকার তথা স্কুল শিক্ষা দফতর কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা না-দেওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষগুলি ফি বৃদ্ধি করতে বাধ্য হচ্ছে ৷
এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, "আগে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় টাকার বিনিময়ে স্কুলগুলিতে অযোগ্যদের নিয়োগ করেছিলেন ৷ এখন ব্রাত্য বসু শিক্ষা ব্যবস্থাকে রসাতলে পাঠিয়ে দিয়েছেন ৷ একের পর এক স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ৷ সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে কম্পোজিট গ্রান্টার টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৷ সেই টাকা চুরি করেছেন ব্রাত্য বসু ৷ আমরা খুব শীঘ্রই সেই টাকার হিসাব চাইতে যাব ৷ বিকাশ ভবন অভিযানে যাব আমরা ৷"
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার দুরাবস্থা নিয়ে একাধিকবার বিকাশ ভবন অভিযান থেকে শুরু করে শিক্ষা দফতরে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল এসএফআই ৷ সে প্রসঙ্গ তুলে দেবাঞ্জন দে বলেন, "এর আগে ব্রাত্য বসুর হাতে মার্কশিট ধরিয়েছিলাম আমরা ৷ সেই মার্কশিটের প্রত্যেকটি বিষয়ে শূন্য পেয়ে নজির গড়েছিলেন ব্রাত্য বসু ৷ এখনকার জন্য মহাশূন্যের দিকে এগোচ্ছেন ৷ সরকারি স্কুলের ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়ে, বেসরকারি স্কুল গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন ৷ আর যে জায়গা থেকে প্রান্তিক গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হবে ৷ তা আমরা হতে দেব না ৷"
এরপরে ফি বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে দেবাঞ্জনের হুঁশিয়ারি, "240 টাকার বেশি ভর্তির ফি নেওয়া যাবে না ৷ ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গোটা রাজ্যজুড়ে আন্দোলন করছে এসএফআই ৷ কয়েকদিন আগে মুর্শিদাবাদে ডিআই অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে ৷ বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কম্পোজিট গ্রান্ট না-পাওয়ায় অতিরিক্ত ফি নিতে হচ্ছে ৷ আমরাও প্রত্যেকের কাছে আহ্বান করছি, সঠিক সময় এই গ্রান্ট পাওয়ার জন্য বৃহত্তর আন্দোলনে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষকেও আসতে হবে ৷ আমরা খুব তাড়াতাড়ি ফের বিকাশ ভবন অভিযান করব ৷ আর উত্তর চাইব, কম্পোজিট গ্রান্ট কোথায় ?"
শুধু রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাযই যে বেহাল এমনটা নয় ৷ সিপিআইএম-এর ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের অভিযোগ, গোটা দেশের প্রায় 70 হাজার স্কুলে পড়ুয়া নেই ৷ এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি বলেন, "নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি লাগু হওয়ার পর প্রায় 67 লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী স্কুলছুট হয়ে গিয়েছে ৷ প্রায় 70 হাজার স্কুলে পড়ুয়া নেই ৷ দেশের বহু স্কুলে শৌচালয়, পরিশোধিত পানীয় জল ও বিদ্যুতের সংযোগ পর্যন্ত নেই ৷ এটাই কি মোদি সরকারের বিকশিত ভারত ? এটাই বিকশিত ভারতের অবস্থা ? এসএফআই কেন্দ্রীয় কমিটি গোটা দেশে স্কুল বাঁচাও আন্দোলন করছে ৷ আরও বিভিন্ন ধাপে এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে ৷"

