মমতার ডাকা বৈঠকে গরহাজির কর্পোরেশনের 40 তৃণমূল কাউন্সিলর
পুরনিগমের অধিবেশন স্থগিত করা নিয়ে যে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রতিবাদে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ধরনা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

Published : May 22, 2026 at 9:29 PM IST
কলকাতা, 22 মে: কর্পোরেশন নিয়ে সকাল থেকেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার পুরনিগমের অধিবেশন স্থগিত করার নির্দেশের পর আজ শুক্রবার অধিবেশন কক্ষের বাইরে মালা রায়দের ‘অধিবেশন’ এবং তার প্রেক্ষিতে বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষদের প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। সেই উত্তাপের আবহেই এদিন কলকাতা পুরসনিগমের কাউন্সিলরদের নিয়ে কালীঘাটের কার্যালয়ে বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে 40 জন কাউন্সিলর উপস্থিতই হননি বলে তৃণমূল সূত্রে খবর৷ যার জেরে তৈরি হল নতুন বিতর্ক৷
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্পোরেশনের মোট 136 জন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন 96 জন। 40 জন কাউন্সিলরকে এদিনের বৈঠকে দেখা যায়নি। অনুপস্থিতদের তালিকায় রয়েছেন মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, জীবন সাহা ও তারক সিং। এছাড়াও গরহাজির ছিলেন বরো চেয়ারম্যান দেবলীনা বিশ্বাস, অনিন্দ্য কিশোর রাউত, জুঁই বিশ্বাস, সুশান্ত ঘোষ, কাকলি সেন, বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত, কৃষ্ণা সিং, ইলোরা সাহার মতো পরিচিত মুখেরা।

সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত কাউন্সিলরদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আজ পুরনিগমে যেভাবে ঘরেও ঢুকতে দেয়নি, এটা অবৈধ। ববি, তুমি ডোরিনা ক্রসিংয়ে একটা ধরনার জন্য ডেট ঠিক করো। কাউন্সিলররা থাকবে। পুলিশ কেস দিলে দিক, দল আইনজীবী দিয়ে লড়াই করবে।"
বেআইনি নির্মাণ ভাঙা প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, "এভাবে চলতে পারে না। নোটিস দিলেই যে এসে ভেঙে দেবে, তা নিয়ম না। ভাঙারও প্রসেস আছে। আগে প্রমাণ করতে হয়।" পাশাপাশি বিজেপির চাপের মুখে কাউকে পদত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়ে তৃণমূল নেত্রী আশ্বাস দেন যে দল তাঁদের পাশে রয়েছে। একই সুরে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে বলেন, "আপনাদের মানুষ পাঁচ বছরের জন্য জিতিয়েছে। আপনারা আপনাদের কাজ করুন। মানুষ ঠিক করবে আপনাদের রাখবে কি না, বিজেপি নয়।"

অন্যদিকে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে পুরসভার সচিবকে হুমকির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি শিবির। পুর কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিজেপি নেতা সজল ঘোষ অভিযোগ করেন, "বিদায়ী এবং নতুন দুই সচিবের সঙ্গেই আমরা দেখা করেছি। তৃণমূল কংগ্রেসের যে দল এসেছিল, তারা সচিবকে থ্রেট করেছে। ভয় দেখিয়েছে, হুমকি দিয়েছে এবং বাইরে গেলে দেখে নেওয়ার কথা বলেছে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং পুলিশে অভিযোগ জানাতে বলেছি। মক পার্লামেন্টের নামে যে মকারি করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি।" সজল ঘোষ জানান, আজকের এই অধিবেশনের কথা কমিশনার জানতেন না এবং তিনি পুরসভার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে পুরসভার দখল এবং অধিবেশন ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের দ্বন্দ্বে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।

