শাড়ি-টিপ ছেড়ে নয়া লুকে দিল্লিতে সায়নী ! জল্পনা উসকে বললেন 'সময় এলে সব বলব'
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সায়নীর এই নয়া 'লুক' শুধুই ব্যক্তিগত পছন্দের পরিবর্তন নয়, বরং তা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত হতে পারে ।

Published : June 14, 2026 at 5:05 PM IST
কলকাতা, 14 জুন: একসময় শাড়ি, কপালে টিপ, খোঁপা আর আগ্রাসী রাজনৈতিক ভাষণের জন্য তাঁকে অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মিনি ভার্সন' বলে অভিহিত করতেন । সেই সায়নী ঘোষকেই রবিবার দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য অবতারে । জিন্স-কুর্তি, ছোট করে কাটা চুলে দিল্লির বিমানে ওঠার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন যাদবপুরের সাংসদ । আর তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে ।
"এখন বলব না । যখন বলার সময় আসবে, বলব । ধীরে ধীরে সব জানতে পারবেন । সাংবাদিকদের জবাব দেব না, জবাব দিতে হলে আমার সংসদীয় এলাকার মানুষকে দেব", বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে এতটুকুই বলেন সায়নী । কিন্তু এই কয়েকটি বাক্যই যেন আরও উসকে দিল তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা ।
রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই কার্যত জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না তৃণমূলের প্রাক্তন যুবনেত্রীকে । সমাজমাধ্যমেও ছিলেন প্রায় নিষ্ক্রিয় । দলের অন্দরের বৈঠক থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, সর্বত্রই তাঁর অনুপস্থিতি নজরে পড়েছিল । এবার সামনে এল তাঁর পরিবর্তনের ছবি ।
এমন এক সময়ে সায়নীর এই প্রকাশ্য আবির্ভাব ঘটল, যখন তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের সুর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে । লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে একাধিক সাংসদ মূল দলের অবস্থান থেকে সরে এসে পৃথক ব্লক গঠনের পথে হাঁটছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা । সূত্রের খবর, লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে ওই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তালিকায় সায়নীর নামও রয়েছে ।
চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দলের অন্দরে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে । ইতিমধ্যেই যুব তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ হারিয়েছেন তিনি । তার পর থেকে দীর্ঘ নীরবতা বজায় রাখলেও রবিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়া এবং রহস্যময় মন্তব্যে নতুন করে জল্পনার আগুনে ঘি পড়েছে ।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সায়নীর এই নয়া 'লুক' শুধুই ব্যক্তিগত পছন্দের পরিবর্তন নয়, বরং তা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত হতে পারে । যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে এখনও নারাজ তিনি ।
সোমবার দিল্লিতে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সম্ভাব্য কর্মসূচির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের । সায়নীর মন্তব্যের পর এখন একটাই প্রশ্ন, ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কি আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের দিকে এগোচ্ছে ? উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।

