অমর্ত্য সেনকে এসআইআর নোটিশ 'দেশের লজ্জা', কমিশনকে আক্রমণ শতাব্দী-অসিতের
মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্র 15 বছর হওয়ায় নোবেলজয়ীকে শুনানির নোটিশ ৷ ইআরও এবং বিএলও বোলপুরের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দিয়ে আসেন ৷

Published : January 7, 2026 at 6:43 PM IST
বোলপুর, 7 জানুয়ারি: 'দেশের লজ্জা', 'দেশকে অপমান' ৷ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ তথা ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনকে এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠানোকে কেন্দ্র করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে এভাবেই আক্রমণ করলেন তৃণমূলের দুই সাংসদ শতাব্দী রায় ও অসিত মাল ৷ সম্ভবত, প্রথম কোনও ভারতরত্নকে এসআইআর শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়েছে ৷
এই নিয়ে বীরভূমের সাংসদ তৃণমূলের শতাব্দী রায় বলেন, "এর থেকে লজ্জার আর কিছু হয় না ৷ আদতে বাংলার সম্পর্কে ওরা (বিজেপি) কিছু জানে না ৷ শুধু নির্বাচনের সময় ভোট চাওয়ার জন্য আসে ৷ আবার ভোট না-পেয়ে ফিরে যায় ৷ শুধু অমর্ত্য সেন কেন, এর আগে 'বঙ্কিম-দা', 'রবীন্দ্র সান্যাল' এই সব কিছুই অজ্ঞতার প্রমাণ ৷ বাংলা সম্পর্কে ওদের কোনও ধারণা নেই ৷ বাংলার কৃষ্টি, বাংলার মানুষের সম্মান সম্পর্কে কিছুই জানে না কিছু, বেচারারা ৷"
পরামর্শের সুরে শতাব্দী বলেন, "ওদের এত অজ্ঞতা যে, অমর্ত্য সেন নামটা সম্পর্কে জানে কিছু ! এখানকার একটা বাচ্চাও বলে দেবে অমর্ত্য সেন কে ৷ তাঁকে এসআইআর শুনানিতে ডাকায় বাচ্চারাও লজ্জা পাবে ৷"
অন্যদিকে, বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তৃণমূলের অসিত মাল বলেন, "এ লজ্জা শুধু বাংলা বা বীরভূমের নয় ৷ এ লজ্জা সারা ভারতবর্ষের ৷ যিনি ভারতবর্ষকে নোবেল এনে দিয়েছেন, তাঁকে এসআইআর-এর নোটিশ দিয়ে বিজেপি, কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিজেদের জঘন্যতম পরিচয় দিলেন ৷ এর প্রতিবাদ জানানোর ভাষা আমাদের নেই ৷"
তিনি আরও বলেন, "কত নির্লজ্জ হলে এই কাজ তারা করতে পারে ৷ সারা বিশ্ব দরবারে যাঁর নাম প্রতিষ্ঠিত ৷ ভারতবর্ষের মানুষ তাঁকে নিয়ে গর্বিত ৷ তাঁকে এসআইআর-এর নোটিশ দেওয়া দেশকে অপমান, বাংলাকে অপমান, দেশের মানুষকে অপমান ৷"
প্রসঙ্গত, অমর্ত্য সেন বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার ৷ শান্তিনিকেতনের শ্রীপল্লিতে তাঁর 'প্রতীচী' বাড়ি ৷ এসআইআর-এর এন্যুমারেশন ফর্মে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অমর্ত্য সেনের মায়ের সঙ্গে তাঁর বয়সের পার্থক্য মাত্র 15 বছরের ৷ বয়সের এই অপ্রত্যাশিত পার্থক্য কেন, এই প্রশ্নে তাঁকে শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়েছে ৷ পাশাপাশি, 2002 সালের এসআইআর-এর ভোটার তালিকার প্রেক্ষিতে নথিপত্র পেশ করতে বলা হয়েছে ৷
উল্লেখ্য, 6 জানুয়ারি বীরভূমের রামপুরহাটের জনসভা থেকে এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তারপরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ৷

