সেচ দফতরের জমি দখল করে মালদায় তৃণমূলের জেলা সভাপতির স্কুল! মুখ্যমন্ত্রীকে অভিযোগ আরএসপি-র
মালদায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকসি৷ তিনি সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন৷

Published : May 29, 2026 at 5:34 PM IST
মালদা, 29 মে: কয়েকদিন আগেই মালদায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকসির দুই স্কুলে বিপুল পরিমাণে বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকার খবর ইটিভি ভারতে প্রকাশিত হয়েছিল৷ এবার সেই দু’টি স্কুলের মধ্যে একটির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে৷
অভিযোগ, ওই স্কুলটি নির্মিত হয়েছে বেআইনিভাবে সেচ দফতরের দখল করা প্রায় দু’শতক জমিতে৷ এই নিয়ে জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে জেলা আরএসপি নেতৃত্ব৷ বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা৷ তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি জেলাশাসক৷

রহিম বকসিদের মালিকানাধীন স্কুলটির অবস্থান রতুয়া-বাহারাল রাজ্য সড়কের ধারে রতুয়া 1 নম্বর ব্লক অফিসের উলটোদিকে৷ নর্থ মালদা শিক্ষা নিকেতন নামাঙ্কিত ওই স্কুলে নার্সারি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠনের ব্যবস্থা রয়েছে৷ আগে ওই জমিতে সেচ দফতরের গ্যারেজ ও একটি ছোট ঘর ছিল৷ বাম আমলে রহিম বকসি স্ত্রী আয়েশা বিবির নামে নর্থ মালদা রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি তৈরি করেন৷
2008 সালে ওই সোসাইটির নামেই জমিটি সেচ দফতরের কাছ থেকে লিজে গ্রহণ করেন তিনি৷ তারপর ওই জমিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু হয়৷ রাজ্যের তৎকালীন সেচমন্ত্রী সুভাষ নস্করের সহযোগিতায় রহিম বকসি এই কাজ করেছিলেন৷ 2011 সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়৷ তবে রহিম সাহেব সেবার আরএসপি প্রার্থী হিসাবে মালতিপুর কেন্দ্রে জয়ী হন৷ 2016 সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর 2019 সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন৷ পরবর্তীতে তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদে আসীন হন৷

অভিযোগ, ওই জমির লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি নিজের ক্ষমতার প্রভাবে লিজের নবীকরণ ছাড়াই জমির দখল রেখে দিয়েছেন৷ শুধু তাই নয়, ওই জমি ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা সেচ দফতরের পুরোনো একটি বাংলো তাঁর স্ত্রী আয়েশা বিবি এবং দুই ছেলে রিয়াজুল করিম বকসি ও সামিউল আখতার বকসির নামে ভুয়ো রেকর্ড বের করেছেন বলেও অভিযোগ৷

বিষয়টি নিয়ে আরএসপি-র জেলা সম্পাদক সর্বানন্দ পাণ্ডে বলেন, “এই নিয়ে তৃণমূলের আমলে আমরা একাধিকবার জেলাশাসক, জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর ও সেচ দফতরে অভিযোগ দায়ের করেছি৷ কিন্তু বিগত সরকারের আমলে কোনও তদন্ত হয়নি৷ রাজ্যের শাসক দলের জেলা সভাপতির ক্ষমতাবলে রহিম বকসি নিজের বেআইনি কাজকর্ম চালিয়ে গিয়েছেন৷ তবে রাজ্যে এখন নতুন সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, বেআইনি কাজকর্মের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলবে৷ তাই গত বুধবার আমি গোটা বিষয়টি জানিয়ে তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি৷ আশা করি এবার আইন সঠিক পথেই চলবে৷”

আবদুর রহিম বকসির দাবি, “সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে৷ আমি সেচ দফতরের কোনও জমি দখল করিনি৷ ওই জমিটি রায়তি সম্পত্তি৷ আমি স্থানীয় একজনের কাছ থেকে কিনেছি৷ আমার কাছে ওই জমির সমস্ত নথিপত্র রয়েছে৷ জমির রেকর্ডও রয়েছে৷ যে বা যাঁরা এসব অভিযোগ করছেন, তাঁদের কাছে সঠিক তথ্য নেই৷”
মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর প্রতিক্রিয়া, “এই রাজ্য সরকারের কাছে অনৈতিক কোনও কাজ করে পার পাওয়া যাবে না৷ যদি ওই জমি সংক্রান্ত অভিযোগ সঠিক বলে প্রমাণিত হয়, রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ করবে৷ এনিয়ে কোনও দ্বিধা নেই৷”

