ETV Bharat / politics

গদ্দার বলুন ঠিক আছে, লোকে তো চোর বলে না ! বহিষ্কারের পর ঋতব্রতর নিশানায় অভিষেক

সই জালিয়াতির অভিযোগ থেকে উলুবেড়িয়ার দুর্নীতি ! একের পর এক বিস্ফোরক দাবি বহিষ্কৃত বিধায়কের, কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারিও

Ritabrata Banerjee
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : June 1, 2026 at 9:38 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 1 জুন: 80 জন বিধায়ক নিয়েও যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস । এমনই রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা । বহিষ্কারের পরই সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ঋতব্রত ।

তাঁর দাবি, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে সই জালিয়াতি । ঋতব্রতের অভিযোগ, 19 তারিখের বৈঠকে কোনও প্রস্তাব গৃহীত হয়নি । অথচ পরে 6 তারিখের তারিখ দিয়ে একটি নথিতে সই করতে বলা হয় । সেখানে এমন কয়েকজনের নাম ও স্বাক্ষর ছিল, যাঁরা ওই বৈঠকে উপস্থিতই ছিলেন না ।

Ritabrata Banerjee
সদ্য বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক (নিজস্ব চিত্র)

নিজের দাবির পক্ষে ঋতব্রত বলেন, "আমাদের একজন বিধায়ক বাহারুল ইসলাম ওই দিন ক্যানিংয়ে ছিলেন । কিন্তু তাঁর সই রয়েছে । অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের যে সমস্ত লোক খাতা নিয়ে ঘুরছিল, সিআইডির তদন্তের আওতায় তাঁদেরও আনা হোক । আমি নিজে দেখেছি, তাঁদের হাতেই খাতা ছিল । বিধায়ক নন, এমন লোকের হাতে খাতা থাকবে কেন ?"

তাঁর দাবি, ফলতা উপনির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলাতেই দলের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে ও সন্দীপন সাহাকে । ঋতব্রতর কথায়, "আমরা জানতে চেয়েছিলাম, জাহাঙ্গীরকে কেন 'এক্সপেল' করা হচ্ছে না । উত্তরে বলা হয়েছিল, টুইট করেছি, দেখে নিন । কোনও প্রশ্নের উত্তর যদি টুইট দেখে জানতে হয়, তা হলে বৈঠকে গিয়ে লাভ কী ?"

এদিন উলুবেড়িয়ার দলীয় সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি । অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় তাঁকে এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল । বারবার দলীয় নেতৃত্বকে জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি । উলুবেড়িয়ায় দুর্নীতি, আবাসন প্রকল্পে অনিয়ম এবং একাংশ নেতার বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধির অভিযোগও তোলেন তিনি ।

ঋতব্রতের কথায়, "নির্বাচনে ঘুরে দেখেছি, মানুষের প্রধান ইস্যু দুর্নীতি । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল আর বর্তমান তৃণমূল এক নয় । এটা একটা কর্পোরেট এজেন্সি চালিত তৃণমূল ।"

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনার পথে হাঁটেননি তিনি । সিপিএম থেকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে ঋতব্রত বলেন, "দিদি সম্মানীয় নেত্রী । তাঁকে কিছু বলব না । কিন্তু দিদির তৈরি তৃণমূল আর এই তৃণমূল এক নয় ।"

প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজ মাধ্যমে দাবি করেছেন, ঋতব্রতকে সিপিএম দল থেকে তাড়িয়ে ঠিক করেছিল । তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ করেছিল বিধায়ক করেছে, আজ তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে গিয়েছে বলে অন্য সুর গাইছে ।

নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা এই 'গদ্দার' তকমারও পালটা জবাব দেন তিনি । ঋতব্রতের কথায়, "আমাকে গদ্দার বলা হচ্ছে, ঠিক আছে । কিন্তু চোর তো বলা হচ্ছে না । আমি উলুবেড়িয়ায় একা যাই, কোথাও আমাকে চোর-চোর শুনতে হয় না । বাস্তব হল, তৃণমূলের অনেককেই এখন চোর-চোর শুনতে হচ্ছে ।"

একইসঙ্গে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি । জানিয়েছেন, আইনজীবীর সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা হয়েছে । কটাক্ষের সুরে বলেন, "কুণাল ঘোষ একটা ব্রেক ফেল হওয়া গাড়ি ।"