ETV Bharat / politics

বিজেপির দখলে থাকা বিধানসভাগুলিতেই বাদ সবচেয়ে বেশি নাম ! অন্তর্ঘাত ?

প্রাথমিক পর্যায়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মালদা জেলা থেকে বাদ পড়েছে 18 হাজার 282 জন ভোটারের নাম ৷

ETV BHARAT
বিজেপির দখলে থাকা বিধানসভাগুলিতেই বাদ সবচেয়ে বেশি নাম ! (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 1, 2026 at 4:37 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 1 মার্চ: বিষয়টা কি নিছকই কাকতালীয় ? গেরুয়া শিবির কিন্তু অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা করছে ৷ গতকালই এসআইআর-এ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন ৷ প্রাথমিক পর্যায়ে মালদা জেলা থেকে বাদ পড়েছে 18 হাজার 282 জন ভোটারের নাম ৷ তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে আরও আট লাখ আঠাশ হাজার আশিজনের ৷ দেখা যাচ্ছে, মালদা জেলার যে চারটি আসনে বিজেপির বিধায়করা রয়েছেন, সেই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রেই সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৷ এনিয়ে পদ্ম শিবিরের তরফে এখনও প্রকাশ্যে কেউ মুখ না-খুললেও বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে শুরু হয়েছে চর্চা ৷

গতকাল নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত নতুন ভোটার তালিকায় মালদা জেলার হবিবপুর কেন্দ্রে বাদ পড়েছে চার হাজার 49 জন ভোটারের নাম ৷ গাজোল কেন্দ্রে নাম বাদ গিয়েছে 5 হাজার 263 জনের, চাঁচল কেন্দ্রে 498 জনের, হরিশ্চন্দ্রপুর কেন্দ্রে 603 জনের, মালতীপুর কেন্দ্রে 226 জনের, রতুয়া কেন্দ্রে 252 জনের, মানিকচক কেন্দ্রে 694 জনের, মালদা কেন্দ্রে চার হাজার 53 জনের, ইংরেজবাজার কেন্দ্রে এক হাজার 415 জনের, মোথাবাড়ি কেন্দ্রে 315 জনের, সুজাপুর কেন্দ্রে 68 জনের এবং বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রে 846 জনের নাম বাদ গিয়েছে ৷ বর্তমানে হবিবপুর, গাজোল, মালদা ও ইংরেজবাজার বিধানসভা কেন্দ্র বিজেপির দখলে ৷ এনিয়েই এখন আলোচনা চলছে পদ্ম শিবিরে ৷

ETV BHARAT
প্রাথমিক পর্যায়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মালদা জেলা থেকে বাদ 18 হাজার 282 জন ভোটারের নাম (কমিশন থেকে প্রাপ্ত চিত্র)

বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, "বিএলওরা যে স্বচ্ছভাবে এসআইআর হতে দেবেন না, তা নিয়ে আগে থেকেই আমাদের আশঙ্কা ছিল ৷ আমরা সচেতনও ছিলাম ৷ যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বিজেপির বিধায়ক রয়েছেন, সেই কেন্দ্রগুলিতে বিএলওরা যে কারচুপি করবেন তা নিয়ে আমরা প্রায় নিশ্চিতই ছিলাম ৷ তাঁরা যে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করবেন, আমরা সেই অনুমান করেছিলাম ৷ নতুন ভোটার তালিকায় যে ছবি দেখা যাচ্ছে, তাতে আমাদের সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ৷ জেলা প্রশাসনের মদতেই পরিকল্পিতভাবে এই কাজ হয়েছে ৷ তবে নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা ৷ তাদের কাজের উপর আমাদের ভরসা রয়েছে ৷ তারা নিশ্চয়ই নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই কাজ করেছে ৷ কিন্তু এই ছবি নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে ৷ গতকালই তালিকা প্রকাশিত হয়েছে ৷ এনিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসছি ৷ তারপর আমরা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানাব ৷"

গেরুয়া শিবিরের উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রতাপ সিং-এর বক্তব্য, "যাঁরা নির্বাচন সংক্রান্ত কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা প্রত্যেকেই রাজ্য সরকারের অধীনে ৷ এসআইআর নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসকদলের তৃণমূল স্তরের লোকজন প্রথম থেকে যে ভাষায় সরকারি কর্মীদের ধমক, চমক দিয়েছেন, তাতে আমরা নিশ্চিত, এঁদের অঙ্গুলিহেলনেই সবকিছু হয়েছে ৷ এই রাজ্যে সাধারণ মানুষের যেমন কোনও গণতান্ত্রিক অধিকার নেই, সরকারি কর্মীদেরও কোনও স্বাধীনতা নেই ৷ আরও 10টি রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে ৷ কোনও রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের মতো ঘটনা ঘটেনি ৷ আমরা চাই, বৈধ নাগরিকদের প্রত্যেকেই নিজেদের নাগরিক অধিকার ভোগ করুন ৷ নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক পদ ৷ কমিশনের কাছে আমাদের আর্জি, মানুষ যেন নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে ৷ আর সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের আবেদন, কমিশনের গাইডলাইন মেনে তাঁরা নির্দিষ্ট জায়গায় আবেদন করুন ৷ আশা করি, সমস্যা মিটে যাবে ৷ তবে অবৈধ নাগরিকদের নাম নিশ্চিতভাবেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে ৷"

বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি শুভময় বসু বলেন, "বিজেপির কথায় রোল অভজারভাররা এসআইআর-এ যত অবাঞ্ছিত কাজ, সব করেছেন ৷ বিএলও থেকে শুরু করে ইআরওরা সঠিকভাবেই এসআইআর-এর কাজ করেছেন ৷ তাঁদের তালিকা থেকে বিজেপির কথামতো রোল অবজারভাররা নাম বাদ দিয়েছেন অথবা শুনানিতে ডেকেছেন ৷ তবে যে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁরা আজ থেকেই জেলাশাসকদের কাছে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন ৷ জেলাশাসকরাই এক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ করবেন ৷"