ETV Bharat / politics

12 ফেব্রুয়ারি শ্রম কোডের বিরোধিতায় ডাকা ধর্মঘটে ছাড় বাংলার গণপরিবহণকে

10টি’রও বেশি বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের ডাকে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক ৷ কেন্দ্রের লাগু করা চার শ্রম কোডের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ৷

STRIKE AGAINST LABOUR CODES
12 ফেব্রুয়ারি শ্রম কোডের বিরোধিতায় ডাকা ধর্মঘটে বাংলার গণপরিবহনকে ছাড়ের সিদ্ধান্ত ৷ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 11, 2026 at 5:50 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 11 জানুয়ারি: চার শ্রম কোড বাতিল-সহ একাধিক দাবিতে আগামী 12 ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে 10টিরও বেশি বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন ৷ এই ধর্মঘটের সমর্থনে আগামী 16 জানুয়ারি রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে প্রতিরোধ দিবস পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে ৷ সিআইটিইউ, এআইইউটিইউসি, আইএনটিইউসি-সহ দশটিরও বেশি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন ও কর্মচারী ফেডারেশন, অ্যসোসিয়েশন এই কর্মসূচি নিয়েছে ৷

শনিবার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারও শুরু হয়েছে এই ধর্মঘটের ৷ তবে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই ধর্মঘটে গণপরিবহণকে ছাড় দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে সংগঠনগুলির তরফে ৷ ফলে এই ধর্মঘটের প্রাসঙ্গিকতা কী, সেই নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে একাংশ ৷ যদিও, সেই প্রশ্নকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্ব ৷ বরং রাজ্যের শাসকদল তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করেছেন তাঁরা ৷

শ্রম কোডের বিরোধিতায় ডাকা ধর্মঘটে বাংলার গণপরিবহণকে ছাড়ের সিদ্ধান্ত (নিজস্ব চিত্র)

সিআইটিইউ-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সভাপতি অনাদি সাহু বলেন, "ধর্মঘটে শ্রম কোড বাতিলের দাবি ছাড়াও, জিরামজি আইন বাতিল করে মনরেগা ফের চালু করা, বীজ বিল, বিদ্যুৎ বিল বাতিল করা ইত্যাদি দাবি তোলা হবে ৷ কলকারখানা, উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যকরের দাবিও তোলা হবে ৷ কিন্তু, ছাড় দেওয়া হবে গণপরিবহণে ৷"

কেন গণপরিবহণে ছাড় ? বিশেষত, তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের কট্টর বিরোধী বামেরা নরম মনোভাব দেখাচ্ছে কেন ? জবাবে অনাদি সাহু বলেন, "রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা, পড়ুয়াদের ভবিষ্যত লাটে তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কিন্তু, আমরা সে কাজ করতে পারি না ৷ ধর্মঘটে গণপরিবহণ ছাড় দেওয়ার অন্যতম কারণ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ৷ নতুন প্রজন্মকে বিপদে ফেলে আমরা সবকিছু স্তব্ধ করে দিতে পারি না ৷ বহু গ্রাম-প্রান্তিক এলাকার ঘরের ছেলেমেয়েরা গণপরিবহণে পরীক্ষা কেন্দ্রে যায় ৷ স্বাভাবিকভাবে তাদের কথা চিন্তা করে গণপরিবহণে ছাড় দেওয়া হচ্ছে ধর্মঘটের দিনে ৷"

ধর্মঘট আহ্বানকারীদের অভিযোগ, "শ্রমিক সংগঠন শ্রম কোড বাতিলের বারবার দাবি জানিয়ে আসছে ৷ সেই দাবিতে আমল দেয়নি কেন্দ্রের মোদি সরকার ৷ বরং, খসড়া শ্রম নীতি এবং শ্রম বিধি তৈরির মাধ্যমে দেশে শ্রম কোড চালুর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ৷ কেন্দ্র শ্রমকোড বাতিল না-করলে লাগাতার ধর্মঘটে যেতেও শ্রমিকরা পিছপা হবেন না ৷"

এআইইউটিইউসি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব বসু বলেন, "বাংলায় মমতার নেতৃত্বে সরকার গড়ার পর, যতবারই ধর্মঘট হয়েছে ততবারই তার বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ সরকারি কর্মচারীদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে ছুটি বাতিল করা হয়েছে ৷ ধর্মঘটের আগের দিন বিজ্ঞপ্তি জারি করে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷ এবারের ক্ষেত্রে তারা তাই করবে ৷ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, এখানে ওই চারটি শ্রম কোড চালু না-হলেও সেই নিয়ম নীতি ঘুরপথে চাপিয়ে দিচ্ছে এই সরকার ৷"

এ রাজ্যে পালাবদলের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাধিক ধর্মঘট হয়েছে ৷ মহিলা শ্রমিক সংগঠনের নেত্রী ছিলেন তিনি ৷ 2011 সালের পালা বদলের আগে প্রদেশ কংগ্রেস শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি মমতাকে সমর্থন করেছিল ৷ তারা ভেবেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এলে রাজ্যের কলকারখানা চালু হবে ৷ শ্রমিকদের স্বার্থে নতুন কারখানা খুলবে ৷ কিন্তু, তার কোনওটিই হয়নি বলে অভিযোগ আইএনটিইউসি নেতা কামরুজ্জামান কামারের ৷

তিনি বলেন, "বামফ্রন্ট আমলে বহু ছোট-বড় কলকারখানা বন্ধ হয়েছে ৷ সে সবের বিরুদ্ধে তখন থেকে আন্দোলন চলছে ৷ তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কংগ্রেসও আন্দোলনে সামিল হয়েছিল ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গড়ে উঠলে শ্রমিক কৃষকদের সুবিধা হবে বলেই আমরা আশা করেছিলাম ৷ কিন্তু, তার উল্টোটা হল ৷ তারপর একাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে ৷ শ্রমিক স্বার্থে কলকারখানা বাঁচাতে আন্দোলন করলে মমতার নির্দেশে পুলিশ আমাদেরকে বাধা দিয়েছে ৷ পরিস্থিতি বদলায়নি ৷"