বিজেপি ক্ষমতায় এলেই মালদা-মুর্শিদাবাদে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা, আশ্বাস মোদির
শনিবার মালদার আম আর রেশম শিল্পকেও চাঙ্গা করার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷

Published : January 17, 2026 at 7:59 PM IST
মালদা, 17 জানুয়ারি: এই প্রথম নরেন্দ্র মোদির গলায় মালদার গঙ্গা-ফুলহরের ভাঙন প্রসঙ্গ৷ দাবি করলেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলেই মালদা-মুর্শিদাবাদে নদী ভাঙন সমস্যার সমাধান করা হবে৷ পাথরের বোল্ডার দিয়ে পাড় বাঁধিয়ে দেওয়া হবে৷ শুধু ভাঙন সমস্যা সমাধানই নয়, নির্বাচনে জিতলে মালদার রেশম আর আম নিয়েও একাধিক কাজ করার প্রতিশ্রুতি শোনা গিয়েছে তাঁর এদিনের নির্বাচনী সভায়৷
গঙ্গা-ফুলহরের ভাঙনে জেরবার মালদা৷ একই ছবি মুর্শিদাবাদেও৷ প্রতি বছর দুই জেলার আয়তন একটু একটু করে কমে যাচ্ছে৷ নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বাড়ি, স্কুল, এমনকি মন্দির-মসজিদও৷ দুই নদীর দাপটে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে কালিয়াচক 3, মানিকচক ও রতুয়া 1 নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা৷ ইতিমধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে কালিয়াচক 2 নম্বর ব্লকের একটা বড় অংশ৷

ভিটেমাটি হারিয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ৷ আমীর পরিণত হয়েছেন ফকিরে৷ একসময় যাঁদের বিঘার পর বিঘা জমি ছিল, এখন তাঁরা হয় অন্যের জমিতে মুনিষ খাটছেন অথবা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে গিয়েছেন৷ ফি বছর বর্ষা এলেই ঘুম ওড়ে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের৷ দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দাবি করে আসছেন, বিহারের মতো এখানেও পাথর দিয়ে নদীর পাড় বাঁধাই করা হোক৷ নদী বিশেষজ্ঞরাও জানিয়ে দিয়েছেন, বিহারের শকরিগলি থেকে মানিকচক পর্যন্ত গঙ্গার পাড় পাকাপোক্তভাবে বেঁধে না-দিলে মালদা জেলার অস্তিত্বই অদূর ভবিষ্যতে থাকবে না৷
শনিবার নরেন্দ্র মোদিকে জেলার ছ’টি বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার জন্য চিঠি দিয়েছেন মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রের সাংসদ ইশা খান চৌধুরি৷ সেই চিঠিতেও তিনি গঙ্গা ভাঙনের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন৷ জানিয়েছেন, 2014 সাল পর্যন্ত মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গার 120 কিলোমিটার পাড় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল ফরাক্কা ব্যারেজ অথরিটি৷ কিন্তু 2014 সালের পর কেন্দ্রীয় সরকার ফরাক্কা ব্যারেজ অথরিটির হাতে মাত্র 18 কিলোমিটার পাড় রক্ষার দায়িত্ব দেয়৷
2014 সাল থেকে রতুয়া 1, মানিকচক, কালিয়াচক 1 ও 2, ফরাক্কা এবং সামশেরগঞ্জ/ধুলিয়ান ব্লক বারবার গঙ্গার বিধ্বংসী বন্যা ও ভাঙনের মুখে পড়েছে৷ ভূতনি চরের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে৷ তাই কেন্দ্রীয় সরকার যেন দ্রুত মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার জন্য ভাঙনরোধের প্রকল্প গ্রহণ করে৷

এদিন মোদি বলেন, “গঙ্গা আর ফুলহরের ভাঙনে প্রতি বছর শয়ে শয়ে বাড়ি নদীতে চলে যাচ্ছে৷ লাখ লাখ মানুষ রাজ্যের তৃণমূল সরকারের কাছে আর্তি করছে, পাথর দিয়ে নদীর পাড় বাঁধাই করা হোক৷ কিন্তু কিছু কাজ হয় না৷ প্রতি বছর বন্যার সময় মানুষ আতঙ্কে ভোগে৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘কিছুদিন আগে আমি মালদার বন্যার ক্যাগ রিপোর্ট দেখেছি৷ বন্যাদুর্গত মানুষকে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়নি৷ অথচ তৃণমূলের লোকজনের লোকজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে 40 বার সেই টাকা ঢুকেছে৷ অর্থাৎ যাঁরা বিপদে পড়েছেন তাঁদের কিছু দেওয়া হয়নি, সব টাকা তৃণমূলের লোকজন লুটে নিয়েছে৷ আজ বলছি, বাংলায় বিজেপির সরকার হলেই তৃণমূলের এসব কালো-কাজ বন্ধ করা হবে৷ এখানে গঙ্গা, ফুলহর ও মহানন্দার বন্যা ও ভাঙন রোধে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ এটা মোদির গ্যারান্টি৷”
নমো এদিন আরও অভিযোগ করেন, এই রাজ্যে কলকারখানা নেই৷ কৃষকরা কোনও সুবিধে পাচ্ছেন না৷ মালদা ও মুর্শিদাবাদের প্রচুর মানুষ এখানে কাজ না-পেয়ে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে যাচ্ছেন৷ মালদার রেশম ও আমচাষিদের এখন বেহাল পরিস্থিতি৷ তৃণমূল সরকার আম নিয়ে কিছু ভাবেনি৷ আমকে কেন্দ্র করে এখানে কোনও শিল্প গড়ে তোলা হয়নি৷ মালদার রেশমকে আরও কীভাবে উন্নত করা যায় তা নিয়েও তাদের কোনও চিন্তাভাবনা নেই৷ কৃষকদের হকের টাকাও দেয়নি৷
তিনি বলেন, “এখানে বিজেপির সরকার বানান৷ মালদা তথা এই রাজ্যের পুরনো গৌরব ফের ফিরে আসবে৷ মালদার সিল্ক আর ম্যাঙ্গো ইকোনমিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়া হবে৷ বাংলাতেও কোল্ড স্টোরেজের সুবিধে বাড়ানো হবে৷ নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন নতুন প্রকল্প নিয়ে আসা হবে৷ এসবের জন্য এক লাখ কোটি টাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, রেশম ও পাটের সুতো নিয়েও কাজ চলছে৷ রেশম শিল্পের বিকাশে বিজেপি সরকার কোটি কোটি টাকার প্রকল্প চালাচ্ছে৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘পাটের জন্যও প্রকল্প চালানো হচ্ছে৷ গত 11 বছরে পাটের সহায়ক মূল্য অনেক বাড়ানো হয়েছে৷ ইউপিএ সরকারের আমলে পাটের সহায়ক মূল্য ছিল 2400 টাকা৷ এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে 5500 টাকারও বেশি৷ পাটচাষিদের আগে দেওয়া হত 4000 কোটি টাকা৷ এখন দেওয়া হচ্ছে 1300 কোটি টাকারও বেশি৷ বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার কৃষকরাও এসবের সুবিধে পাবেন৷ এটাও মোদির গ্যারান্টি৷”

