ETV Bharat / politics

370 ধারা বিলোপেই শ্যামাপ্রদাসের স্বপ্নপূরণ, ‘ভারত কেশরী’ জন্মবার্ষিকীতে মোদির নিশানায় কংগ্রেস

বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও জাতীয় শিক্ষানীতি থেকে শুরু করে কাশ্মীরে 370 ধারা বিলোপের মতো একাধিক ইস্যুতে ‘শ্রেষ্ঠ ভারতে’র ছবি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

PM Modi
370 ধারা বিলোপেই শ্যামাপ্রদাসের স্বপ্নপূরণ: মোদি (পিটিআই)
author img

By PTI

Published : July 6, 2026 at 9:38 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

জাকার্তা, 6 জুলাই: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আজ, 6 জুলাই প্রথমবার বাংলায় মহাসমারোহে পালিত হল ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সোমবার বিদেশ সফরের মাঝেই ভিডিয়োবার্তায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের 125তম জন্মবার্ষিকীতে দেশবাসীকে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জম্মু-কাশ্মীরে 370 ধারা বাতিলের মাধ্যমে ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণের কথা । মোদি জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ ও নীতি আজও বিজেপি'র শাসন পরিচালনার রূপরেখা নির্ধারণ করে এবং ‘নতুন ভারত’-এর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। এদিন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরের মধ্যেই ঐতিহাসিক দিনে শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অতীত স্মরণ করিয়ে কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ।

সোমবারই ত্রিদেশীয় সফরে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে তাঁর গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। বিদেশ সফরে থাকাকালীনই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সাহস ও দূরদর্শিতাকে কুর্নিশ জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেন তিনি। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও জাতীয় শিক্ষানীতি থেকে শুরু করে কাশ্মীরে 370 ধারা বিলোপের মতো একাধিক ইস্যুতে ‘শ্রেষ্ঠ ভারতে’র ছবি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, একসময় বাংলাকে ভারত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ডক্টর মুখোপাধ্যায় সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেন। তিনি মানুষের মধ্যে জনমত তৈরি করেন এবং তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন ৷ তাঁর সেই অদম্য লড়াইয়ের জন্যই যে আজ বাংলা ভারতের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত রয়েছে, তা স্পষ্ট করে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "1947 সালে যখন দেশভাগের সময় বাংলাকেই ভারত থেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্র চলছিল। তখন ডক্টর মুখোপাধ্যায় এই ষড়যন্ত্রের সামনে পাহাড়ের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।"

কংগ্রেসকে নিশানা করে দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতার কথা বলতে গিয়ে খোদ ‘ভারত কেশরী’র একটি উক্তি বাংলায় তুলে ধরেন তিনি। মোদি বলেন, "ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়েছিলেন। তাঁর শব্দ ছিল, 'কংগ্রেস দেশ ভাগ করেছে, আমি পাকিস্তানের ভাগ করেছি'।" প্রধানমন্ত্রী জানান, এই হুঙ্কারের মধ্যে যে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির দর্শন মেলে, বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালেও আমরা তা সহজেই বুঝতে পারি।

​কাশ্মীর ইস্যুতেও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দেন, "এক দেশে দুই বিধান, দুই প্রধান এবং দুই নিশান আমরা কখনও মেনে নেব না।" শ্যামাপ্রসাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, 370 ধারা বিলোপ করে তাঁর অখণ্ড ভারতের স্বপ্নপূরণ করা হয়েছে। স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে ডক্টর মুখোপাধ্যায় যে দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, মোদির বক্তব্যে তাও উঠে আসে। চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস বা দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আত্মনির্ভরতার বীজ বপন করেছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় শিক্ষানীতির প্রসঙ্গে মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রসারে শ্যামাপ্রসাদের ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মাতৃভাষা প্রসঙ্গে ডক্টর মুখোপাধ্যায়ের কথা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, "বঙ্গ জাতির আত্মসম্মান, পুনরুদ্ধার এবং মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার— এই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।" তরুণ প্রজন্মকে শ্যামাপ্রসাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়ে ভাষণের শেষে তাঁরই একটি উক্তি স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, "যে কাজ এই হাতে নাও না কেন, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে করতে হবে। যে কাজই আরম্ভ কর, তা সম্পূর্ণ গাম্ভীর্যের সঙ্গে কর, তন্ময়তার সঙ্গে কর, সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে কর, কোনও কাজ অসম্পূর্ণ ছেড় না। তাকে অবশ্যই পূর্ণ কর।"