ETV Bharat / politics

ধর্মস্থান থেকে লাউডস্পিকার সরানোর পুলিশি নির্দেশের অভিযোগ, হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি নওশাদের

বুধবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ৷ সেখানে তিনি এই নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হন ৷

Naushad Siddiqui
আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 5, 2026 at 10:00 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 5 অগস্ট: ধর্মস্থানে লাউডস্পিকার বাজাতে দিচ্ছে না রাজ্যের পুলিশ, বুধবার এমনই অভিযোগ করলেন দক্ষিণ 24 পরগনার ভাঙড়ের বিধায়ক ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর নওশাদ সিদ্দিকী ৷ তাঁর দাবি, এই বিষয়ে তিনি উত্তর চেয়েছেন রাজ্য় পুলিশের ডিজির কাছে৷ অদূর ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ৷

এদিন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরে সাংবাদিক বৈঠক করেন নওশাদ সিদ্দিকী ৷ ওই সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি একাধিক ইস্যুতে সরব হন ৷ সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের ৷ তিনি যে যে ইস্যুগুলিতে এদিন কথা বলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ধর্মস্থান থেকে লাউডস্পিকার খুলে দেওয়ার বিষয়টি ৷

আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর সাংবাদিক বৈঠক (ইটিভি ভারত)

নওশাদের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন অংশে পুলিশ ধর্মস্থান থেকে লাউডস্পিকার খুলে দিচ্ছে ৷ এই নিয়ে তাঁর কাছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন এসেছে ৷ সাধারণ মানুষই তাঁকে ফোন করে এই নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন নওশাদ সিদ্দিকী ৷ তাঁর আরও দাবি, ‘‘পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত নির্দেশের কপি দেওয়া হয়নি ৷ পুলিশকে জিজ্ঞাসা করা হলে, তারা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে ৷ লিখিত কোনও কপি নেই বলে জানিয়েছে ৷ বলা হচ্ছে, শুনতে হবে ৷’’

নওশাদ আরও বলেন, ‘‘কিন্তু এভাবে হয় না ৷ আমরা সবসময় দূষণ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ৷ শব্দদূষণ হোক, আমরা কোনওভাবেই চাই না ৷ কিন্তু এই নিয়ে একাধিকবার কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছে ৷ সেখানে স্পষ্ট নির্দেশিকা আছে যে কোন জায়গায় কত ডেসিবেল শব্দ করা যেতে পারে ৷’’ তিনি শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনের উল্লেখ করেন ৷ নওশাদ জানান, দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইনে এলাকার চারটি ভাগ আছে ৷ সেগুলি হল - শিল্পাঞ্চল, বাণিজ্যিক এলাকা, বসবাসের এলাকা ও সায়েলেন্স জোন ৷

নওশাদ বলেন, ‘‘এই আইনে সকাল 6টা থেকে রাত 10টাকে দিন বলা হচ্ছে ৷ আর রাত 10টা থেকে সকাল 6টা পর্যন্ত সময়কে বলা হচ্ছে রাত ৷ এই সময়ে কত ডেসিবেল বাজানো যাবে, তা নির্দিষ্টভাবে জানানো আছে ৷ তার পরও প্রশাসেনর একটা অংশ যেভাবে ভয় দেখিয়ে, এক প্রকার হুমকি দিয়ে ধর্মস্থান থেকে লাউডস্পিকার খোলার চেষ্টা করছে, এর আমরা পরিপন্থী ৷ ইতিমধ্য়ে আমি রাজ্য পুলিশের ডিজি-র কাছে জানতে চেয়েছি ৷’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্য পুলিশের ডিজি-র কাছে স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছি, এই নিয়ে আপনাদের নির্দেশিকা আসলে কী আছে ? যদি এই ধরনের কিছু নির্দেশিকা থাকে, তাহলে আমাদের দিন ৷ এবং প্রতিটি ধর্মস্থানের কমিটিকে দিয়ে দিন ৷ তা না করে যেভাবে পুলিশ-প্রশাসনের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না ৷’’

নওশাদ আরও বলেন, ‘‘এই যে মাইক ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, এর বিরুদ্ধে আমি খুব তাড়াতাড়ি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব ৷ কারণ, এই নিয়ে আগেই মামলা আছে ৷ আদালতের নির্দেশও আছে ৷ তার পরও এই ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে কেন ? আমার মনে হচ্ছে, কোনও না কোনও জায়গাতে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে ৷ যে বিশৃঙ্খলা দিয়ে দেখানো হবে এটাই উন্নয়ন ৷’’

আরও পড়ুন -