বাংলাদেশ থেকে মমতা সম্পর্কে কুমন্তব্য, প্রতিবাদে সরব নওশাদ
ভাঙড়ের বিধায়ক মনে করেন এই নিয়ে ভারত সরকারের উচিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া৷

Published : December 29, 2025 at 9:25 PM IST
কলকাতা, 29 ডিসেম্বর: রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে৷ আদর্শগত মতপার্থক্যও রয়েছে৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে একজন বাংলাদেশির কুমন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী৷ বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে সৌজন্যের অভাব থাকলেও তিনি বুঝিয়ে দিলেন, এক্ষেত্রে অনেকের থেকেই তিনি আলাদা৷
সোমবার এক প্রকাশ্য সভায় নওশাদ বলেন, “সম্প্রতি বাংলাদেশের এক বক্তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুমন্তব্য করেছেন৷ আমার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে৷ থাকবে৷ কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চোরগুলোকে প্রশ্রয় দিয়েছেন৷ আমরা চোরমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা চাইছি৷ ফলে দু’জনের আদর্শ এক হতে পারে না৷ দু’জনের মত এক জায়গায় থাকতে পারে না৷ সবসময় মতাদর্শগত সংঘাত লেগেই থাকবে৷ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মুখ্যমন্ত্রী৷ আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশের ওই বক্তা যে আজেবাজে মন্তব্য করেছেন, আমি পশ্চিমবঙ্গ থেকে ওই বক্তাকে ধিক্কার ও নিন্দা জানাচ্ছি৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য এখান থেকে বার্তা দিচ্ছি৷ একই সঙ্গে ভারত সরকারকে বলছি, এর জন্য কেন্দ্রের তরফে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হোক৷ দেশের একটি অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে যে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে, বাংলাদেশের সরকারকে তার জবাব ভারত সরকারকে দিতে হবে৷”
নওশাদ আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল করলে সমালোচনা করি, আগামীতেও করব৷ কিন্তু ব্যক্তিগত পরিসরে তাঁকে কোনও আক্রমণ আমরা মেনে নিতে পারি না৷ কারণ, তিনি একটি সাংবিধানিক পদে বসে রয়েছেন৷ আমি কিংবা আপনি যদি দেশের সংবিধান মেনে চলি, তাঁকে অবশ্যই সম্মান দিতে হবে৷ তাঁকে কোনও আক্রমণ মানে আমার দেশের সংবিধানকেই আক্রমণ৷ তাই তাঁকে আক্রমণের পর আমরা চুপ করে থাকতে পারি না৷”
মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে নওশাদের এদিনের বক্তব্য বাহবা কুড়িয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে৷ এমনও কথা উঠেছে, দেড় দশক আগেও পশ্চিমবঙ্গে যে রাজনৈতিক সৌজন্যতা দেখা যেত, এখন আর সেসব দেখা যায় না৷ ব্যক্তিগত কুৎসাই বর্তমান রাজনীতিতে প্রধান হয়ে দেখা দিয়েছে৷ অনেকে এর জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করেন৷ তবে এই অসৌজন্যতা থেকে এই মুহূর্তে মুক্ত নয় কোনও দলই৷ এই পরিস্থিতিতে নওশাদের এদিনের বক্তব্য যেন বাংলার রাজনীতিতে নতুন হাওয়া৷

