পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-আইএসএফ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র মিনাখাঁ, আহত 7
আইএসএফ কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ৷ আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি একজন ৷

Published : February 22, 2026 at 9:24 PM IST
মিনাখাঁ (উত্তর 24 পরগনা), 22 ফেব্রুয়ারি: ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি ৷ তার আগেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ৷ ভাঙড়ের ঘটনার রেশ কাটতে না-কাটতে এবার তৃণমূল-আইএসএফ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল উত্তর 24 পরগনার মিনাখাঁ ৷ অভিযোগ, দলের পতাকা লাগানোর সময় হঠাৎই আইএসএফ কর্মীদের উপর হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ৷ পালটা আইএসএফের লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুললে সংঘর্ষ বেঁধে যায় দু'পক্ষের মধ্যে ৷
অভিযোগ, রাস্তার উপরে মারপিটে জড়িয়ে পড়ে দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা ৷ বাঁশ, লাঠি নিয়ে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায় উভয় পক্ষকে ৷ ঘটনায় আইএসএফ-এর সাতজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ৷ আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে ৷ দু'পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছে ৷
আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, পতাকা লাগানোর সময় পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয় ৷ তৃণমূলের হামলায় তাঁদের দলের সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন ৷ এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ৷ পালটা শাসক শিবিরের তরফে দাবি করা হয়েছে, পায়ের তলার মাটি হারিয়ে আইএসএফ-এর লোকজন বিভিন্ন জায়গায় গন্ডগোল করছে ৷ মিনাখাঁর ঘটনাতেও আইএসএফ-এর বিরুদ্ধে হামলা অভিযোগ করেছে তৃণমূল ৷
তৃণমূলের দাবি, এই ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন দলের অঞ্চল সভাপতি, পঞ্চায়েত প্রধান-সহ আরও অনেকে ৷ আর এই চাপানউতরে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে মিনাখাঁ বিধানসভা এলাকায় ৷ এই নিয়ে বসিরহাট জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, "সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে ৷ অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে ৷ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে ৷"
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার দুপুরে মিনাখাঁর বাবুরহাট অঞ্চলে পতাকা লাগানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল আইএসএফের তরফে ৷ অভিযোগ, দলীয় কর্মীরা যখন পতাকা টাঙাচ্ছিলেন, তখনই তৃণমূল আশ্রিত সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা চড়াও হয় তাঁদের উপর ৷ ব্যাপক মারধর করা হয় আইএসএফ কর্মীদের ৷
অভিযোগ, প্রথমে পিছু হটলেও পরে পালটা হামলা চালায় আইএসএফ ৷ বাঁশ, লাঠি, লোহার রড নিয়ে পালটা শাসকদলের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে ৷ দু'পক্ষের সংঘর্ষে নিমেষে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ৷ মিনাখাঁ থানা থেকে পুলিশবাহিনী এসে পরিস্থিতির সামাল দেয় ৷ এই সংঘর্ষে মোট সাত জন আইএসএফ কর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ৷ কারও মাথা ফেটে গিয়েছে, তো আবার কারও হাত-পায়ে আঘাত লেগেছে ৷ আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে ৷ পরে, একজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ৷ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশবাহিনী ৷

এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজায় জড়িয়েছে তৃণমূল ও আইএসএফ ৷ এই বিষয়ে আইএসএফের রাজ্য নেতা পিয়ারুল ইসলাম বলেন, "পতাকা টাঙানোর সময় বাবুরহাট অঞ্চলে হামলা চালানো তো হয়েছেই ৷ সেই সঙ্গে মিনাখাঁ হাসপাতালে ঢুকেও মারধর করেছে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী ৷ চিকিৎসা যাতে না-হয়, তার জন্য হাসপাতাল ঘিরে রাখা হয়েছে ৷ পরে পুলিশ গিয়ে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে ৷ এটা কী ধরনের গণতন্ত্র ৷ এ রাজ্যে কী বিরোধী শিবির কোনও কর্মসূচি পালন করতে পারবে না ৷ আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি ৷ পাশাপাশি, পুলিশকে বলব হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় ৷"
হামলার ঘটনায় আহত আইএসএফ কর্মী মনোয়ার হোসেন বলেন, "কোনও কারণ ছাড়াই অতর্কিতে হামলা চালায় শাসকদলের লোকজন ৷ চিকিৎসা চলার সময় মিনাখাঁ হাসপাতালে ঢুকে মারধর করে আমাকে ৷ আমার গেঞ্জি ছিঁড়ে দেওয়া হয় ৷ মোবাইলও কেড়ে নেয় হামলাকারীরা ৷ হাসপাতালের এক মহিলা কর্মী এগিয়ে না-এলে, কী হতো তা ভেবেই ভয় লাগছে ৷"
যদিও, হামলার দায় ঝেড়ে আইএসএফের বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ করেছেন মিনাখাঁ বিধানসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল ৷ তিনি বলেন, "রাজনৈতিক জমি হারিয়ে আইএসএফের লোকজন এখন অশান্তি পাকাতে চাইছে বিভিন্ন জায়গায় ৷ ভাঙড়েও তারা একই ঘটনা ঘটিয়েছে ৷ ওদের না-আছে পায়ের তলার জমি, আর না-আছে লোকবল ৷ যে ক'জন আছে তারাও এখন শাসকদলের দিকে ঝুঁকছে ৷ দেখলাম আজকেও বসিরহাটে আইএসএফের কর্মী-সমর্থকরা দল ছেড়ে যোগ দিল তৃণমূলে ৷ নিজেরা হামলা চালিয়ে এখন আমাদের ঘাড়ে দোষ দেওয়া হচ্ছে ৷ এসব করে কোনও লাভ হবে না ৷"

