মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার দায় কার? শাসক-বিরোধীদের তরজায় উত্তপ্ত বঙ্গ-রাজনীতি
মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে চরম অব্যবস্থা-বিশৃঙ্খলার দায় কার? দোষারোপের তরজায় জড়ালেন কুণাল ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী, সুজন চক্রবর্তী, সুমন রায় চৌধুরীরা

Published : December 13, 2025 at 8:19 PM IST
কলকাতা, 13 ডিসেম্বর: একটি ফুটবল ইভেন্টে তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে সামনে থেকে দেখতে না পেয়ে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে যে ক্ষোভ এবং তার থেকে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সরাসরি বেসরকারি আয়োজক সংস্থাকে দায়ী করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, কতিপয় ব্যক্তির দায়িত্বজ্ঞানহীন, অপরিকল্পিত আচরণের জন্যই টিকিট কেটে আসা সাধারণ দর্শকরা বঞ্চিত হয়েছেন, ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি এই ঘটনার সুযোগ নিয়ে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে বলেও গুরুতর অভিযোগ আনেন। এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং মেসি-প্রেমীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন বলেও জানান কুণাল ঘোষ।
শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া মারফত দেওয়া তাঁর বিবৃতিতে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, এটি সম্পূর্ণভাবে আয়োজকদের চরম অব্যবস্থাপনার ফল। তাঁর কথায়, "এটি সম্পূর্ণভাবে আয়োজকদের চরম অব্যবস্থাপনার ফল— যাঁরা একটি বেসরকারি সংস্থা। রাজ্য সরকারের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।"
তবে কুণাল ঘোষের অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিরোধী দল বিজেপিও। তাঁর দাবি, "আজ আমরা দেখেছি বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা মাঠে ঢুকে উসকানি দিতে ও অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে।" তিনি আরও জানান, এই দুষ্কৃতীরা গেরুয়া পতাকা বহন করছিল এবং স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দর্শকদের ক্ষোভের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। তিনি এই ঘটনাকে "শকুনের রাজনীতি" বলে আখ্যায়িত করেন। কুণাল ঘোষের বক্তব্য, "বাংলা-বিরোধী বিজেপি বাংলাকে বদনাম করতে যে কোনও সীমা ছাড়াতে পারে।"
এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "মেসির আসা অনেকদিন আগেই ঠিক করেছিল শতদ্রু৷ অনুমোদন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী-পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে৷ আয়োজক ছিল ক্রিড়া দফতর, ক্রিড়া সংস্থা ৷ শৃঙ্খলারক্ষার দায়িত্ব, নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, তাকে সহযোগিতা করেছে কলকাতা পুলিশ৷ এই অনুষ্ঠানে বিশ্ব বিখ্যাত তারকা মেসির সঙ্গে হাত মেলানোর কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর, সঙ্গে থাকার কথা ছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের৷ পুরো ব্যবস্থাপনা, অনুমোদন, ব্যবস্থাপক, নিয়ন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ সরকার৷ আর পশ্চিমবঙ্গ সরকার মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই বিশৃঙ্খলার জন্য শত শত কোটি টাকা মেসিকে দেখিয়ে লুঠ করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ি৷ এই দায় স্বীকার করে শুধু ক্ষমা চাইলে হবে না, তাঁর উচিত যদি লজ্জা থাকে, তাহলে পদত্যাগ করা৷"
কংগ্রেস নেতা সুমন রায়চৌধুরী বলেন, "মেসি কি আজ অরূপ বিশ্বাসের কোলে কোলে ঘুরতে এসেছিলেন? নির্লজ্জ তৃণমূলের মুখপাত্র বলছেন 'শকুনের রাজনীতি' হবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাসও একই ভাবে দায়ী বাংলাকে আবার কালিমালিপ্ত করার জন্য। রাজ্য চালানো দূরের কথা, ওনাদের একটা ইভেন্ট ম্যানেজ করার ও যোগ্যতা নেই৷"
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, "যুবভারতী ক্রিয়াঙ্গনে যা ঘটেছে সেটা কলকাতার লজ্জা। এই স্টেডিয়াম কলকাতার গর্ব ছিল। এই মাঠে বহু বিশিষ্ঠ মানুষ এসেছে। ফুটবল সম্রাট পেলে এসেছে তখনো হয়নি এমন। এখন কেন হলো বিশৃঙ্খলা? হাজার হাজার টাকা দিয়ে লোকে টিকিট কেটেছ সেখানে মেসিকে দেখতে পায়নি, নেতাদের দেখতে হচ্ছে। কেন? এই দায় তো সংগঠকদের। কিছু অপদার্থ সংগঠিত করেছে পিছনে তৃনমূল নেতার ছিল আর সরকার ছিল। সমস্ত ঘটনার দায় স্বীকার করতে হবে। আইএসএল, আই লিগ বন্ধ, সেখানে এত এত টাকা নিয়ে এই করছে। এর দায় সরকারের মাথা যারা এসবের মধ্যে ছিল তাদের। মমতা গেলে লোক হয় না, মেসি গেলে হাজার হাজার লোক। তদন্ত কমিটি না এটা মমতা কমিটি। তদন্তের নামে করে মানুষকে বিপদে ফেলবে। সত্যি তদন্ত হোক। এখনি সংগঠকদের জেল হোক। এতবড় লজ্জা বাংলার যারা দায়ী তাদের ছাড় হতে পারে না।"
কলকাতার যুবভারতীতে বেনজির বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেন, "আয়োজককে এখনই গ্রেফতার করতে হবে। যাঁরা কষ্টের উপার্জন দিয়ে হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেছিলেন তাঁদের টাকাও ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনের যে ক্ষতি হল, সেটির ক্ষতিপূরণও দিতে হবে আয়োজক সংস্থাকে।" যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার জন্য রাজ্যপাল অয়োজক এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷
যুব ভারতীতে অরাজকতা ও ভাংচুর চালানোর ঘটনায় এবার স্বতপ্রণোদিত মামলা রুজু করল বিধাননগর কমিশনারেট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিধাননগর কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, "আমরা তদন্তে নেমেছি। একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।"

