মেসি-কাণ্ডে মমতা-সহ তৃণমূলকে তুলোধনা, নিন্দার ঝড়কে প্রতিবাদে পরিণত করার ডাক শুভেন্দুর
রবিবার এই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ সেখানেই তিনি এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করেন৷

Published : December 14, 2025 at 9:28 PM IST
কলকাতা, 14 ডিসেম্বর: ভোটের মুখে গরম মশলা তিলোত্তমায় মেসি কাণ্ড৷ এমন হাতে গরম ইস্যু মোটেই হাতের বাইরে যেতে দিতে রাজি নয় বিজেপি৷ রবিবার দলের রাজ্য দফতরে এনিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ প্রাক্তন ফুটবলার তথা এআইএএফ প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে ও সঞ্জয় হালদারকে পাশে বসিয়ে গতকালের মেসি-কাণ্ড পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশনের মাধ্যমে তুলে ধরে রাজ্যকে তুলোধনা করেছেন তিনি৷
শুভেন্দুর বক্তব্য, “গতকালের ঘটনা শুধু রাজ্য কিংবা জাতীয়স্তরে সীমাবদ্ধ নেই৷ গোটা পৃথিবী জেনে গিয়েছে৷ পৃথিবীর সমস্ত সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে৷ এতে শুধু খেলার মাঠ নয়, গতকালের ঘটনা আমাদের প্রত্যেককে অপমানিত, লজ্জিত করেছে৷’’
তিনি বলেন, ‘‘গতকালের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার থেকে শুরু করে ক্রীড়ামন্ত্রী এবং দমকলমন্ত্রী পরিবারের যোগ প্রমাণিত হয়েছে৷ এছাড়াও গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ কীভাবে যুব প্রজন্মের আবেগকে মর্যাদা না-দিয়ে তাঁদের কীভাবে পশুর মতো পিটিয়েছে, তারও প্রমাণ রয়েছে৷ এই ঘটনায় ধৃত মূল সংগঠক শতদ্রু দত্তকে পুলিশ আদালতে নিজেদের হেফাজতে চায়নি৷ তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে৷ এর মানে এই ঘটনার পুলিশি তদন্ত সম্পূর্ণ৷ শতদ্রুও শেখ শাহজাহান, অনুব্রত মণ্ডল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রেসিডেন্সির কেবিনে থেকে রসমালাই খাবেন, ফোন ব্যবহার করবেন৷ এই ঘটনায় এফআইআর-এ কীভাবে ফাঁক রাখা হয়েছে সেটাও আমরা দেখেছি৷” যদিও এদিন আদালত শতদ্রু দত্তকে পুলিশি হেফাজতেই পাঠিয়েছে৷
শুভেন্দু আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারকা ফুটবলারকে এরা রাজ্য এবং নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেছিল৷ সিটি অফ জয়ের সঙ্গে ফুটবলের আবেগ কতটা জড়িয়ে, সেটা সবাই জানেন৷ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ওরা এই আবেগের অপব্যবহার করতে চেয়েছিল৷ আর যুব সম্প্রদায় দামি টিকিট কেটে মেসিকে দেখতে গিয়ে আশাহত ও প্রতারিত হলেন৷ এনিয়ে গতকাল থেকেই নিন্দার ঝড় বইছে৷ আমরা সেই নিন্দাকে প্রতিবাদে পরিণত করার দাবি করছি৷ বিরোধী দলনেতা হিসাবে আমি রাজ্যপালের কাছে আর্জি জানিয়েছি, পাড়ার লোক দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকদেখানো তদন্ত নয়, কোনও বর্তমান বিচারপতিকে দিয়ে এবং রাজ্যের সমস্ত পুলিশকে সরিয়ে রেখে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন৷ অবিলম্বে সুজিত বসু এবং অরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতারির কথা বলার পাশাপাশি প্রত্যেক দর্শককে টিকিটের দাম ফেরত দেওয়ার দাবিও জানিয়েছি৷”
নন্দীগ্রামের বিধায়কের প্রশ্ন, “20 টাকার জলের বোতল 150-200 টাকায় কারা বিক্রি করল? পুলিশ এবং সংগঠকদের তরফে যে নিয়মাবলী দেওয়া হয়েছিল, তাতে জলের বোতল নিয়ে মাঠে ঢোকা যাবে না বলে জানানো হয়েছিল৷ মুখ্যমন্ত্রী কোথাও সভা করতে গেলে সরকারি পয়সায় পিএইচই থেকে জলের পাউচ দেওয়া হয়৷ মেসির মতো তারকাকে দেখতে 50 হাজার থেকে এক লাখ মানুষ আসবেন জানা ছিল৷ তাহলে সেখানে কেন পিএইচই’র পানীয় জলের পাউচের ব্যবস্থা করল না? স্টেডিয়ামে 20 টাকার জলের বোতল 200 টাকায় বিক্রি করার ছবি এখন ভাইরাল৷ একই পরিস্থিতি চিপসের প্যাকেট কিংবা চাউমিনের ক্ষেত্রেও৷ এই বিক্রেতারা কার লোক? এনিয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন৷”
মেসি কাণ্ডের এফআইআর নিয়েও এদিন প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু৷ তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজীব কুমার এফআইআর-টা শেষ করে দিয়েছেন৷ যেভাবে তিনি সারদার ডিভাইস শেষ করে মমতাকে জেলের বাইরে বাঁচিয়ে রেখেছেন৷ সুয়োমোটো এই এফআইআর রেজিস্ট্রেশনের সময় দেখানো হচ্ছে সন্ধে 6টা 35৷ এফআইআর দায়ের করেছেন বিধাননগর দক্ষিণ থানার আইসি৷ ঘটনার সময় দেখানো হয়েছে বেলা সাড়ে 12টা থেকে বিকেল চারটে৷ অথচ বেলা সাড়ে 12টায় গোটা ঘটনা কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে৷’’
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, ‘‘এফআইআর-এ এন্ট্রি নম্বর দেওয়া রয়েছে সাত৷ আর যিনি এই এফআইআর করছেন, তিনি 12 নম্বর এন্ট্রির দায়িত্বে ছিলেন৷ এই রাজ্যে কোনও বড় ঘটনার তদন্তে একজনের কাঁধে পুরো দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়৷ আগেও তার প্রমাণ মিলেছে৷ এখানেও শতদ্রুর কাঁধে সবকিছু চাপানোর চেষ্টা চলছে৷ এই এফআইআর মন্ত্রীদের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য এবং অন্যান্য তৃণমূল নেতাদের বাঁচাতে করা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, এফআইআর-এ সিআরপিফকে দায়ীও করা হয়েছে৷ তাঁরা নাকি 12 নম্বর এন্ট্রিতে বাধা সৃষ্টি করেছেন৷”
শুভেন্দুর অভিযোগ, “এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম বেলা 2টো 49 মিনিটে সাংবাদিক বৈঠকে বলছেন, শতদ্রুকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ অথচ এফআইআর করা হচ্ছে সন্ধে 6টা 35 মিনিটে৷ অর্থাৎ অভিযোগ দায়েরের আগেই শতদ্রুকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ তাই আমরা পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি৷ আসলে এটা ভোটের আগে মেসির মতো তারকাকে দিয়ে খেলা হবে বলিয়ে নেওয়ার কৌশলমাত্র৷ কিন্তু উলটো খেলা হয়ে গিয়েছে৷ তাই গত 15 বছরে এই প্রথম রাজ্যের মহারানিকে গাড়ি ঘুরিয়ে পালাতে হয়েছে৷ আমরা এই ইস্যু ছাড়ছি না৷ আজ যুবমোর্চা রাস্তায় নামছে৷ আগামিকালও হবে৷”
শুভেন্দুর দাবি, “এই ঘটনার প্রথমে অরূপ বিশ্বাস, তারপর সুজিত বসু, তারপর শতদ্রুকে গ্রেফতার করা উচিত ছিল৷ এবার দর্শকদেরও গ্রেফতার করা হতে পারে৷ আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়াব৷ তবে কোনও কিছু এখানেই ইতি হবে না৷ যা করার আমরা করব৷ তবে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া আগামী 50 বছর আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে৷”

