সিঙ্গুর থেকে টাটাদের তাড়াতে আঁতাতের কথা কি স্বীকার করবেন মোদি-মমতা, প্রশ্ন সেলিমের
পূর্ব ভারতের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে জগৎ শেঠ এবং মীরজাফরের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনা টানলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক ৷

Published : January 10, 2026 at 9:35 PM IST
কলকাতা, 10 জানুয়ারি: 2008 সালে সিঙ্গুর থেকে টাটাদের গাড়ি কারখানা গুজরাতে চলে যাওয়াকে বাংলার বড়-শিল্পের ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় কালো অধ্যায় বলে মনে করে বাণিজ্যমহল ৷ প্রায় দু-যুগ পরে ফের আলোচনায় সেই সিঙ্গুর ৷ কারণ, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সিঙ্গুরেই জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ আর সেই প্রসঙ্গেই, সিঙ্গুর থেকে টাটাদের তাড়ানো ও বর্তমান শিল্পসমৃদ্ধ গুজরাতের পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আঁতাতের অভিযোগ করলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ৷
মোদির সিঙ্গুরের জনসভার প্রসঙ্গে, সেলিম টাটাদের সিঙ্গুর থেকে টাটা ন্যানো গাড়ি প্রকল্প সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি টেনে আনেন ৷ অভিযোগ করলেন, তৎকালীন রাজ্যের বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আঁতাতের কারণেই টাটারা রাজ্য ছেড়েছিল ৷ আর গুজরাতে ন্যানো কারখানা গড়ে উঠেছিল ৷
সেলিম অভিযোগ করেছেন, বর্তমান গুজরাত গড়ে ওঠার পিছনে মমতার সায় ছিল ৷ তিনিই মোদিকে সাহায্য করেছিলেন ৷ সেলিম বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গুরে যাওয়ার আগে কালীঘাটের কালী মন্দিরে যাওয়ার নাম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা উচিত ৷ তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত ৷ কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির উৎসাহে সানন্দে গাড়ি কারখানা গুজরাতে পাঠিয়েছিলেন ৷"
বর্তমান শিল্পোন্নত গুজরাত হওয়ার পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান রয়েছে বলে দাবি করেছেন সেলিম ৷ তিনি বলেন, "মোদি, মোদি হয়ে উঠেছে ৷ গুজরাত, গুজরাত হয়ে উঠেছে, তার পিছনেও মমতার সায় আছে ৷ এটা স্বীকার করবেন ? সত্য কথা বলবেন ? আপনারা আশা করেন প্রধানমন্ত্রী সত্যি কথা স্বীকার করবেন ৷"
এখানেই সেলিম সিঙ্গুর আন্দোলনে বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ৷ তিনি বলেন, "বিজেপির ভূমিকা কী ছিল ? ওরা সত্যি কথা বলবে ! আমাদেরই বলতে হবে, আপনাদের বলতে হবে, আর্কাইভ থেকে বের করুন ৷ ইতিহাসকে এত সহজে ভুলিয়ে দেওয়া যায় না ৷"
এদিন সরাসরি পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে নষ্ট করার পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক ৷ সেই সঙ্গে পশ্চিম ভারতকে শিল্প সমৃদ্ধ হতেও সাহায্য করার অভিযোগ মমতার বিরুদ্ধে তুলেছেন তিনি ৷ সেলিমের দাবি, "পশ্চিম ভারতের ইন্ডাস্ট্রি লবির হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব ভারতের ক্ষতি করেছেন ৷ অটো মোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে ভারত গত কয়েকবছরে যে উন্নতি করেছে, তার কোথাও পূর্ব ভারত নেই ৷ পুরোটাই পশ্চিম ভারত ৷ আমরা শুধু কনজিউমার ৷ হাইওয়েতে দেখবেন, বড়-বড় কন্টেনারে করে উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারত থেকে ছোট গাড়ি পূর্ব ভারতে ঢুকছে ৷"
এই সূত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাধীন ভারতের জগৎ শেঠ, মীরজাফরের সঙ্গে তুলনা করেছেন সেলিম ৷ তিনি বলেন, "ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে যেমন জগৎ শেঠ, উমি চাঁদ, মীরজাফর দালালি করেছিল, তেমনই 'ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'র হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কাজই করেছে ৷"
উল্লেখ্য, 2006 সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল কংগ্রেস এনডিএ জোটের অংশ ছিলেন ৷ তখন সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় মমতার অনশন ভাঙাতে মঞ্চে উঠেছিলেন বিজেপির শীর্ষনেতা রাজনাথ সিং ৷ সেই সূত্রেই বামেদের তরফে বারেবারে বিজেপিকেও দায়ী করা হয়েছে, টাটাদের সিঙ্গুর ছাড়ার কারণ হিসেবে ৷
উল্লেখ্য, এই নিয়ে বিজেপি-কে নিশানা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী ৷ তিনি বলেন, "আজকে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে হবে না ৷ ভারতীয় জনতা পার্টির অনুপ্রেরণাতেই তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম ৷ আরএসএস-এর স্কুলিং দু’জনেরই ৷ বিজেপির একটু বেশি, তৃণমূলের একটু কম ৷ স্বাভাবিকভাবেই আরএসএস-এর 'দুর্গা'-কে ক্ষমতায় আনতে হবে, সেকারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা-যা অন্যায় করেছেন, তার সমর্থন করেছে বিজেপি ৷ আজকে আবার মনে হচ্ছে, 'সমর্থন করে ভুল করেছিলাম' ৷ সত্যিই তো শিল্পোন্নতি হওয়া উচিত ছিল বাংলার ৷ এবার আমাদের গালগাল দেবে ৷ একটা সর্বৈব মিথ্যাবাদী রাজনৈতিক দল ৷ শুধু সম্প্রদায়িক রাজনীতি করে ৷ কখন কী করে, কখন কী বলে, তা বোঝা বড় মুশকিল ৷ বাংলার মানুষকে বিজেপি থেকে সাবধান থাকতে হবে ৷"

