তৃণমূলে যাওয়াটা ছিল একটা অভিজ্ঞতা, আরও অনেকে কংগ্রেসে ফিরবেন, জানালেন মৌসম
কংগ্রেসে যোগদানের পর প্রথমবার মালদায় পা দিলেন মৌসম নুর৷ শনিবার কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীদের অভ্যর্থনায় কোতওয়ালির ভবনে ফেরেন তিনি৷

Published : January 10, 2026 at 9:31 PM IST
মালদা, 10 জানুয়ারি: যেন ঘরের মেয়ের ঘরে ফেরা৷ তৃণমূল থেকে মৌসম নুরের কংগ্রেসে ফেরাকে এই ভাষাতেই বর্ণনা করা যেতে পারে৷ শনিবার তার সাক্ষী থাকল মালদা৷ হাজার দশেক কংগ্রেস নেতা-কর্মীর উষ্ণ অভ্যর্থনায় কোতওয়ালির ভবনে ফিরলেন মৌসম৷
জানালেন, তৃণমূলে যাওয়াটা তাঁর একটা অভিজ্ঞতা৷ পাশাপাশি মৌসমের স্বীকারোক্তি, এখন তিনি বুঝতে পারছেন যে তাঁর তৃণমূলে চলে যাওয়াতে কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা কতটা কষ্ট পেয়েছিলেন৷
কোতওয়ালিতে ফিরলেন কংগ্রেসের মৌসম
কোতওয়ালির খান চৌধুরি পরিবারে এদিন সকালটা শুরু হয়েছিল একটু অন্যভাবে৷ সাতসকালেই ভবনের সামনে উপস্থিত হন জেলা কংগ্রেসের দুই সহ-সভাপতি মোত্তাকিন আলম ও ভূপেন্দ্রনাথ হালদার৷ খানিক পরেই হাজির হন মোস্তাক আলম-সহ আরও অনেকে৷ লেট রাইজার হিসাবে খ্যাত ইশা খান চৌধুরিও এদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়েছিলেন৷
তাঁরা সবাই ভবনের এক পাশে চলতে থাকা রান্নার তদারকিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন৷ খিচুড়ি, তরকারি, চাটনি-সহ নানা পদ তৈরি হয়েছিল এদিন৷ যাঁরা মৌসমকে স্বাগত জানাতে দূর থেকে আসবেন, তাঁদের তো আর খালি পেটে ফেরানো যায় না৷ তাঁদের জন্যই এই মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়৷

দুপুর 1টা 48 মিনিট৷ মালদা টাউন স্টেশনে দাঁড়াল শিয়ালদা-শিলচর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস৷ ট্রেন থেকে নেমে এলেন মৌসম৷ মুহূর্তের মধ্যে স্টেশন চত্বরে একটাই আওয়াজ, ‘মৌসম নুর, ওয়েলকাম টু কংগ্রেস’৷ স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসতেই পুষ্পবৃষ্টি৷ ব্যান্ডের বাদ্যি৷ তাঁকে একবার ছোঁয়ার জন্য হুড়োহুড়ি৷ ঠিক যেন সেই আগের মতো৷ মৌসমের প্রত্যাবর্তন দেখতে এদিন সুজাপুর থেকেও অসংখ্য মানুষ স্টেশনে এসেছিলেন৷ তাঁদের মধ্যে ছিলেন অনেক মহিলাও৷ অনেকেই বলে উঠলেন, “ঘরের মেয়ে শেষ পর্যন্ত ঘরে ফিরল৷ কংগ্রেসও অক্সিজেন পেল৷”
স্টেশন থেকে হুড খোলা জিপে দাদা ইশা খান চৌধুরির সঙ্গে কোতওয়ালি ভবনে ফেরেন মৌসম৷ গাড়ি থেকে নেমেই সোজা বরকত গনি খান চৌধুরির কবরে৷ সেখানে কবর জিয়ারতের পর বেরিয়ে আসতেই সংবাদমাধ্যম ছেঁকে ধরে তাঁকে৷
কংগ্রেসে ফিরে কী বললেন মৌসম?
মৌসম বললেন, “এত মানুষের ভালোবাসা, আবেগ এবং অভ্যর্থনা পাব, সেটা আমি নিজেও ভাবতে পারিনি৷ খুব ভালো লাগছে৷ মনে হচ্ছে, নিজের বাড়ি ফিরে এসেছি৷ এতে আমার দায়িত্বও বাড়ল৷ তবে আমরা সবাই খুশি, আনন্দিত৷ পরিবারের পাশে আবার ফিরে আসতে পেরেছি৷ এত মন খুলে আমাকে গ্রহণ করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বরকত সাহেবের কবরে আজ আবার কংগ্রেস পরিবারের সবাই একসঙ্গে দোয়া করলাম৷ আগামীতে যাতে আমরা একসঙ্গে কংগ্রস দলকে মজবুত করতে পারি৷ তৃণমূলে যাওয়া ভুল নাকি ঠিক ছিল, সেটা একটা অভিজ্ঞতা বলে আমি মনে করি৷ তবে আজ বুঝতে পারছি, আমি কংগ্রেস ছাড়ায় মানুষ কতটা দুঃখ পেয়েছিল৷ কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, বিজেপিকে আটকাতে আমার সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল৷ তাই আমি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম৷”

মৌসম আরও বলেন, “মালদার মানুষ, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চাইছে একটা পরিবর্তন আসুক৷ কংগ্রেস আরও এগিয়ে আসুক৷ মানুষের পাশে থাকুক৷ সরকারে আসুক৷ আজ আমি তৃণমূল নিয়ে কিছু বলতে চাইছি না৷ আজ কংগ্রেসের উপরেই ফোকাস রাখতে চাইছি৷ আজ বরকত সাহেবের কবরে সবাই একসঙ্গে ফুল দিলাম৷ আজই আমার যথার্থ কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন হল৷ আমি কোনও শর্ত আরোপ করে কংগ্রেসে ফিরে আসিনি৷ তাই ভোটে দাঁড়াব কি দাঁড়াব না, তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই৷’’
তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘কংগ্রেসকে মজবুত করাই আমার লক্ষ্য৷ প্রতিটি আসনে কাজ করব৷ আমার সঙ্গে যাঁরা তৃণমূলে গিয়েছিলেন, তাঁদের কাউকেই আমি কংগ্রেসে ফিরে আসার কথা জানাতে পারিনি৷ এর জন্য অনেকে দুঃখ পেয়েছেন৷ আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি৷ তাঁরা আমাকে দেখেই তৃণমূলে গিয়েছিলেন৷ তাঁরা যদি আমার সঙ্গে কংগ্রেসে ফিরতে চান, কংগ্রেস পরিবার সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছে৷ আমি আশা করছি, অনেকেই কংগ্রেসে ফিরে আসবেন৷”
তৃণমূলের কী বক্তব্য?
মৌসমের কংগ্রেসে ফেরা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই কার্যত নীরব তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকসি৷ এদিন তাঁর প্রতিক্রিয়া, “কে কোন দলে থাকবেন, তা ঠিক করার স্বাধীনতা প্রতিটি মানুষের রয়েছে৷ এটা তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার৷ ওঁর ভালো লেগেছিল বলে এখানে এসেছিলেন৷ উনি এখন বলছেন পরিবর্তন চাইছেন৷ উনি একাই পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তন করে দেবেন৷ আমরা আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি৷ কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে একটি আসনেও যখন জিততে পারছে না, তখন উনি কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসতে পারবেন? এটা আমার ঠিক জানা নেই৷ তিনি চেষ্টা করে দেখুন৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, তাঁর উন্নয়নকে সামনে রেখে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ভোট হয়৷ এখানে কোনও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভোট হয় না৷ এই দলটি যখন তৈরি হয়, তখন তিনি আমাদের দলের সঙ্গে ছিলেন না৷ তখন তিনি কংগ্রেসই করতেন৷ কংগ্রেস ছেড়ে তিনি এসেছিলেন৷ এখানে হয়তো তাঁর ভালো লাগেনি অথবা যে সুযোগ সুবিধে চেয়েছিলেন, তা পাননি৷ তাই ফের কংগ্রেসে চলে গিয়েছেন৷ ওঁর সম্পর্কে আমার কিছু বলার নেই৷ ছাব্বিশের নির্বাচনে মালদার মানুষ প্রমাণ করে দেবে, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছে৷ ওই নির্বাচনে আমরা আগের আটটি আসনের সঙ্গে বাকি চারটি আসনেও জিতব৷”

