ETV Bharat / politics

দেড় কোটিকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত ! তালিকায় সেই নাম না-তোলা পর্যন্ত ধর্নার হুঁশিয়ারি মমতার

কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারির সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুস্থ বাঘের থেকে আহত বাঘ অনেক বেশি ভয়ংকর ৷

ETV BHARAT
কৃষ্ণনগরে প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী (চিত্র: ফেসবুক)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 11, 2025 at 3:23 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কৃষ্ণনগর, 11 ডিসেম্বর: বিধানসভা ভোটের দামামা বাজার আগেই ভোটার তালিকায় বিশেষ পরিমার্জন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে প্রশাসনিক সভার মঞ্চ থেকে তাঁর অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্য থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার গভীর চক্রান্ত করছে বিজেপি । আর এই কাজে নির্বাচন কমিশনকেও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর । তবে 'বাদ যাওয়া' নাম-না তোলা পর্যন্ত ধরনায় বসে থাকবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি ৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "দিল্লি থেকে বিজেপির কিছু কিছু লোককে পাঠানো হচ্ছে ডিএম-দের মাথার উপরে খবরদারি করবার জন্য । আর বলছে, দেড় কোটি লোকের নাম বাদ দিতে হবে । ওরা জানে না, বাংলা কারও কাছে ভিক্ষে চায় না । কারও নাম বাদ দিলে, ধরনা দিয়ে বসে থাকব ৷ যতক্ষণ না নাম-তুলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ধরনা দেবেন ৷" এদিন বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে বা তাঁর দলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হলে তিনি আরও বেশি করে গর্জে উঠবেন । তাঁর কথায়, "ভালো করে মনে রাখবেন, সুস্থ বাঘের চেয়ে আহত বাঘ অনেক ভয়ংকর ।"

বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরের সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী । তাঁর অভিযোগ, ভোট ঘোষণার অনেক আগে থেকেই জেলাশাসকদের অযথা ভয় দেখানো হচ্ছে । কমিশনের 'অতিসক্রিয়তা' নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "ইলেকশন এখনও ডিক্লেয়ার হয়নি । তুমি ডিএমদের ভয় দেখাচ্ছো কেন ? মানুষকে কি বন্ডেড লেবার বানাতে চাইছো ?" ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এত তাড়াহুড়ো কীসের, এদিন ফের সেই প্রশ্নও তোলেন মমতা । তাঁর কটাক্ষ, "আমরা তো বলেছিলাম, সময় নিয়ে এসআইআর করো, তাড়াহুড়ো কেন ? হোয়াই সো হাঙ্গরি (কেন এত খিদে) ?"

তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, দিল্লি থেকে লোক পাঠিয়ে বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার কাজ করানো হচ্ছে । বিশেষ করে সংখ্যালঘু বা বিরোধীদের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ যায়, সেই ছক কষা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি । কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কমিশনের কাছে বর্তমানে একমাত্র বিজেপির 'তাঁবেদারি'-ই মান্যতা পাচ্ছে । তাঁর প্রশ্ন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয়েও কমিশন কেন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করবে ?

ভোটার তালিকা এবং নাগরিকত্বের প্রশ্নে আধার কার্ডের গুরুত্ব নিয়ে কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধেও এদিন সরব হন মমতা । তাঁর বক্তব্য, ব্যাঙ্কের কাজ বা প্যান কার্ডের সংযোগের ক্ষেত্রে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক বা 'ইয়েস স্যার' হলেও, ভোট দেওয়া বা নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে কেন তা গ্রাহ্য হবে না ? তিনি বলেন, "আধার কার্ড কি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে চলবে ? ইয়েস স্যার । প্যান কার্ডে চলবো? ইয়েস স্যার । কিন্তু ভোট দিতে বা নাগরিকত্ব প্রমাণে চলবে ? নো স্যার ।" কেন্দ্রের এই অবস্থানকে সাধারণ মানুষের প্রতি বঞ্চনা হিসেবেই দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী ।

বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে 'চামচাগিরি' ও 'দালালি'-র মতো শব্দ ৷ তবে প্রশাসনিক সভার সৌজন্য বজায় রাখতে পরে তা প্রত্যাহার করে নেন তিনি । মমতার অভিযোগ, সারা দেশটাকে বিজেপির দেশে পরিণত করার চেষ্টা চলছে, আর নির্বাচন কমিশন সেই কাজে সহায়তা করছে ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নদিয়া জেলা তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । মতুয়া অধ্যুষিত এই এলাকায় সিএএ এবং এনআরসি ইস্যু বরাবরই প্রাসঙ্গিক । তার ওপর সামনেই বিধানসভা নির্বাচন । এই পরিস্থিতিতে কৃষ্ণনগরের সভা থেকে মমতার এই 'আহত বাঘ'-এর উপমা এবং ভোটার তালিকা নিয়ে আগাম সতর্কতা দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার কৌশল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল ।

আরও পড়ুন: