নিরপেক্ষ হলে যেতাম, বিজেপির মঞ্চে নয় ! গীতাপাঠে অনুপস্থিতি বিতর্কে বার্তা মমতার
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আমি তো একটা পলিটিক্যাল পার্টি করি, আমার একটা নির্দিষ্ট আইডিওলজি বা আদর্শ আছে । আমি সব ধর্ম, বর্ণ ও জাতিকে সমান সম্মান করি।"

Published : December 8, 2025 at 3:13 PM IST
কলকাতা, 8 ডিসেম্বর: কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত 'লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ' কর্মসূচিতে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে । আয়োজকদের তরফে আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি সেই মঞ্চে উপস্থিত হননি, তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিরোধী বিজেপি নেতারা । সোমবার কোচবিহার রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে এই নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তাঁর সাফাই, "ওটা বিজেপির প্রোগ্রাম ছিল । অনুষ্ঠানটি ইমপার্শিয়াল বা নিরপেক্ষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলে আমি নিশ্চয়ই যেতাম ।"
এদিন এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতা নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই, আপত্তি আয়োজকদের রাজনৈতিক রঙ নিয়ে । গীতাপাঠের মঞ্চে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি তো একটা পলিটিক্যাল পার্টি করি, আমার একটা নির্দিষ্ট আইডিওলজি বা আদর্শ আছে । আমি সব ধর্ম, বর্ণ ও জাতিকে সমান সম্মান করি । কিন্তু যেখানে বিজেপি সরাসরি যুক্ত বা ডাইরেক্টলি ইনভল্ভড, সেই মঞ্চে আমি কী করে যাব ?"
রবিবারের গীতাপাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গেরুয়া শিবির রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছে, এদিন পরোক্ষে এমনই অভিযোগ তুলেছেন মমতা । তাঁর মতে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আড়ালে বিজেপি নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে । তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যাঁরা বলে আমরা নেতাজিকে ঘৃণা করি, গান্ধিকে মানি না - আমি তাঁদের সঙ্গে এক মঞ্চে বসতে পারি না ।"
বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার মণীষীদের ধারাবাহিক অবমাননার অভিযোগ তুলে এদিন আরও সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী । তিনি বলেন, "আমার বাবা-মা বা আমার শিক্ষকরা আমাকে এই শিক্ষা দেননি । বাংলার মাটি এই শিক্ষা দেয় না । যারা বাংলাকে অপমান করে এবং বাংলা-বিরোধী মনোভাব পোষণ করে, তাদের সঙ্গে আমি নেই ।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি হিন্দুত্ব আবেগকে শান দিতে গীতাপাঠের মতো কর্মসূচিকে হাতিয়ার করছে ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে তার কারণ হিসেবে 'আদর্শগত পার্থক্য' এবং 'বাঙালিয়ানার অপমান'-এর তত্ত্বকে সামনে আনলেন ৷
উল্লেখ্য, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রবিবার অনুষ্ঠিত হয় 5 লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান ৷ সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক সাধু-সন্ত উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা একযোগে গীতাপাঠ করেন ৷ সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও ৷ সেখানে 'ধর্মীয় ঔদ্ধত্য'কে বিনাসের কথা বলতে শোনা গেল রাজ্যপালকে ৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা ৷ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল এবং নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়রা উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডে ৷

