ETV Bharat / politics

ঘরে বসে ডিলিমিটেশন-সেনসাসের রাজনীতি চলছে, অনেকের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা: মমতা

সাধারণ মানুষের রুটিরুজি থেকে শুরু করে ধর্মীয় স্থান - সর্বত্রই গেরুয়া শিবির গায়ের জোরে নিজেদের অধিকার কায়েম করতে চাইছে বলে মারাত্মক অভিযোগ মমতার ।

ETV BHARAT
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক লাইভ (চিত্র: সোশাল মিডিয়া)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 4, 2026 at 7:49 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 4 অগস্ট: ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে লাগাতার সুর চড়াচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । মঙ্গলবার সমাজ মাধ্যমে ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করে ফের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী । এদিনের বার্তায় তাঁর নিশানায় ছিল মূলত সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন, জনগণনা এবং স্থানীয় স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ । সাধারণ মানুষের রুটিরুজি থেকে শুরু করে ধর্মীয় স্থান - সর্বত্রই গেরুয়া শিবির গায়ের জোরে নিজেদের অধিকার কায়েম করতে চাইছে বলে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন তিনি ।

রাজ্যের পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং জেলা পরিষদগুলি জোর করে দখল করা হয়েছে বলে এদিন দাবি করেন মমতা । তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে প্রশাসনিক কাজ চালাচ্ছে বর্তমান সরকার । অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী বলেন, "জোর করে পঞ্চায়েতগুলো দখল করা হয়েছে, মিউনিসিপ্যালিটিগুলো দখল করা হয়েছে, জেলা পরিষদগুলো দখল করা হয়েছে এবং ঘরে বসে ডিলিমিটেশন করছে ।"

জনগণনার কাজ নিয়েও গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি । তাঁর মতে, সেনসাসের কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধীদের ব্রাত্য রাখা হয়েছে । রাজ্যে গোপনে সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন এবং জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী । তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলিকে না জানিয়েই ঘরে বসে এই কাজ করছে সরকার । ফলে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে । এমনিতেই 32 লক্ষ মানুষের নাম এখনও ওঠেনি বলে দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণনায় কার নাম থাকবে আর কার নাম বাদ যাবে, তা নিয়ে গভীর চক্রান্ত চলছে ।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সেনসাসের কাজ শুরু হয়েছে, কিন্তু কোনও পলিটিক্যাল পার্টিকে ইনভলব করা হয়নি, অন্তত আমাদের তো হয়নি । তাহলে বুঝুন সেনসাসে কার নাম থাকবে আর জনগণনায় কার নাম বাদ যাবে ।" তিনি দাবি করেন, এমনিতেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কারণে 32 লক্ষ মানুষের নাম এখনও ওঠেনি । এই পরিস্থিতিতে জনগণনার নামে আদতে বড়সড় রাজনৈতিক চক্রান্ত চলছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি ।

প্রশাসনিক গাফিলতি এবং শাসকদলের নেতাদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটির এক আশা কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রসঙ্গও এদিন টেনে আনেন মমতা । ওই আশা কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপির বিধায়ক ও নেতাদের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন তিনি । ক্ষুব্ধ তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "গঙ্গাজলঘাঁটির আশা কর্মী, যেভাবে তিনি মারা গেছেন, বিজেপির এমএলএদের ঔদ্ধত্য, বিজেপির নেতাদের অভদ্র আচরণ, অসৌজন্যমূলক কথাবার্তা যা দেখছি ।" মৃত আশা কর্মীর শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই সেখানে দলের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবেন । সব আশা কর্মীদের পাশেই তিনি রয়েছেন বলে এদিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ।

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামে ভাওতা এবং স্থানীয় স্তরে বেনজির দুর্নীতির অভিযোগে এদিন রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেছেন মমতা । তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় স্থানগুলিকেও দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছে শাসকদল । তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "এরা রাম মন্দির থেকে শুরু করে, পানিহাটির মন্দির থেকে শুরু করে, বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির থেকে শুরু করে, আরও অনেক মন্দির থেকে, বেনারস থেকে শুরু করে, মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে, অসম থেকে শুরু করে প্রণামী বাক্স লুট করছে ! ভাবছে প্রণামী বাক্সটাও বিজেপির অধিকার !"

জনগণের সম্পত্তি জবরদখল করার অভিযোগও তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী । বর্ধমানের একটি পুকুর সংস্কারের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জায়গায় জোর করে গেরুয়া বাহিনী গিয়ে উদ্বোধনের নামে অধিকার ফলাচ্ছে । মানুষের রুটিরুজি কেড়ে বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না-করায় লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ দিশেহারা । বিরোধী আসনেই বসুন বা যেখানেই থাকুন, মানুষের উপর হওয়া এই ধরনের অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি যে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাবেন, এদিন ফেসবুকে সেই বার্তাই দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো ।