স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক চোখে দুর্যোধন, অন্য চোখে দুঃশাসন, মমতার নিশানায় অমিত শাহ
নদিয়ার কৃষ্ণনগরে বৃহস্পতিবার জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেখানে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি বাংলা দখলের জন্য হ্যাংলা৷’’

Published : December 11, 2025 at 4:42 PM IST
কৃষ্ণনগর (নদিয়া), 11 ডিসেম্বর: বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়তেই ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে তিনি একযোগে নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ভারতীয় জনতা পার্টিকে। অমিত শাহকে ‘দুর্যোধন-দুঃশাসন’-এর সঙ্গে তুলনা করে বেনজির আক্রমণ শানান তৃণমূল সুপ্রিমো। একই সঙ্গে বাংলা দখলের জন্য বিজেপিকে ‘হ্যাংলা পার্টি’ বলেও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
এদিন সভার শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন মমতা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম না-করে তাঁর চেহারা ও বাচনভঙ্গি নিয়ে তোপ দাগেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এখানে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন। তিনি করতে পারেন না-এমন কোনও কাজ নেই। তাঁর দু'চোখ দেখলেই মনে হয় ভয়ঙ্কর। দুর্যোগের বার্তা। দুরভিসন্ধি। এক চোখে তাঁর দুর্যোধন, আরেক চোখে তাঁর দুঃশাসন।’’ শাহের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘‘তিনি বলে দেন, এদের সব বাংলাদেশি বলে বাদ দিয়ে দাও, এদের রোহিঙ্গা বলে বাদ দিয়ে দাও।’’
সিএএ ও এনআরসি ইস্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি কিছুতেই ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেবেন না। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের খতিয়ান তুলে ধরে নাগরিকত্ব প্রমাণের দাবিকে তিনি ‘নাকে খত’ দেওয়ার থেকেও অপমানজনক বলে মন্তব্য করেন। মমতা বলেন, ‘‘আমি এখনও ফর্ম ফিলআপ করিনি... তিনবার সেন্ট্রাল মিনিস্টার ছিলাম। সাতবার এমপি হয়েছি। আর আপনাদের আশীর্বাদে শুভেচ্ছায় এর মধ্যে তিনবার চিফ মিনিস্টার হয়েছি। আমাকে আজকে প্রমাণ করতে হবে আমি নাগরিক কি না? মাথায় নাকে খত দেওয়া ভালো এর থেকে।’’ বিজেপিকে ‘দাঙ্গাবাজ’ তকমা দিয়ে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘যারা হিংসা করে মানুষের রক্ত নেয়... তাদের কাছে আমাকে প্রমাণ করতে হবে আমি এই দেশের নাগরিক কি না?’’
বাংলার মনীষীদের অসম্মান ও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগেও এদিন সরব হন মমতা। রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি, মাতঙ্গিনী হাজরা থেকে রাজা রামমোহন রায় - বিজেপি কাউকেই সম্মান করে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘রবীন্দ্রনাথকে গালি দিয়ে, বঙ্কিমচন্দ্রকে অসম্মান করে... এ কোন ভারত? আমরা তো কাউকে অসম্মান করি না।’’
তবে রাজনৈতিক মহলে এদিন সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে মমতার ‘হ্যাংলা’ কটাক্ষ নিয়ে। বাংলা দখলের জন্য বিজেপির মরিয়া ভাবকে তুলে ধরে এদিন তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন। মমতা বলেন, ‘‘এদের এত লোভ হয়ে গিয়েছে বাংলা দখল করার জন্য... বিজেপিকে বলছি হ্যাংলা পার্টি। বাংলা দখল করার জন্য হয়েছে হ্যাংলা। যেন তেন প্রকারে, মেরে ধরে ভাগ করে, টাকা খাইয়ে, গদ্দারগিরি করে সারা ভারতবর্ষের থেকে হিংসাকারীদের আমদানি করে, সারা জেলায় জেলায় দেশ থেকে কমিশনের লোক এনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’
পরিশেষে, সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নাগরিকত্ব প্রমাণের ভয়ে ভীত হওয়ার কারণ নেই। রাজ্য সরকার মানুষের পাশে আছে। প্রয়োজনে ‘মে আই হেল্প ইউ’ বুথ খুলে মানুষকে আইনি ও কাগজপত্রের সহায়তা দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।

