ETV Bharat / politics

গীতাপাঠের জন্য জনসভার কী প্রয়োজন, প্রশ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

রবিবার গীতাপাঠের আসর সংলগ্ন এলাকায় দুই হকারকে নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে৷ সেই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

Mamata Banerjee
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 11, 2025 at 6:14 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 11 ডিসেম্বর: গত রবিবার কলকাতার ব্রিগেডে 5 লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করা হয়েছিল৷ এভাবে জনসভার আয়োজন করে গীতাপাঠের প্রয়োজনীয়তা কি বৃহস্পতিবার সেই প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিন নদিয়ার কৃষ্ণনগরে জনসভা করেন তিনি৷ সেখানেই তিনি এই প্রশ্ন করেছেন৷

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘গীতাপাঠ তো আমরা সবাই বাড়িতে করি, যার যখন প্রয়োজন হয়। তার জন্য পাবলিক মিটিং করার কি দরকার আছে? ঠাকুর দেবতা হৃদয়ে থাকে। যে আল্লাহর কাছে দোয়া চায়, সে মনে মনে চায়।’’

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে৷ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ধর্ম মানে কী? আপনারা চৈতন্যদেবের দেশের মানুষ। চৈতন্যদেবের পদধূলিতে স্বর্ণখচিত হয়ে আছে নদিয়ার রাস্তাঘাট।’’ শ্রীকৃষ্ণের বাণীর উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘‘শ্রীকৃষ্ণ কী বলেছিলেন ধর্মের মানে? তিনি বলেছিলেন, ধর্ম মানে হচ্ছে ধারণ করা... ধর্ম মানে পবিত্রতা। ধর্ম মানে মানবতা। ধর্ম মানে মনুষ্যত্ব। ধর্ম মানে শান্তি। ধর্ম মানে হিংসা নয়।’’

ওইদিন ব্রিগেডে দু’জন হকারকে নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে৷ সেই নিয়েও কৃষ্ণনগরের মঞ্চ থেকে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, ‘‘একটা গরিব হকার, তার জিনিস বিক্রি করতে গিয়েছিল৷ সব মিটিংয়েই কেউ না-কেউ বিক্রি করতে আসে। কেউ চা বিক্রি করে, কেউ সিঙারা বিক্রি করে... সে তার মতো বিক্রি করতে গিয়েছে, তার মাথায় তখন ওটা আসেনি যে আমি এটা বিক্রি করব না, ওটা বিক্রি করব? ধরে মেরেছো। কাল সবকটাকে অ্যারেস্ট করেছি। সবকটাকে কাল অ্যারেস্ট করেছি, যারা গায়ে হাত দিয়েছে।’’ বিজেপির নাম না-করে তাঁর হুঙ্কার, ‘‘এটা বাংলা, এটা ইউপি নয়। এখানে তোমাদের গদ্দারি চলবে না। আর এখানে তোমাদের হুকুমও চলবে না... মনে রাখবেন, বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না, হবে না, হবে না।’’

বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসতেই রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি মাথা চাড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ বা নেতাজি - বাংলার মনীষীরা কেউই বিভাজনের কথা বলেননি। সেখানে দাঁড়িয়ে বিজেপি ভোটের জন্য মিথ্যাচার করছে। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘যাদের না-আছে মাথা, না-আছে ছাতা। একেকজন একেক রকম বলে যাচ্ছে। ভোট করছে লুট, আর বলছে ঝুট। কে কী খাবে, কী পড়বে সেটা নাগরিকের নিজস্ব ব্যাপার। কেউ তা ঠিক করে দিতে পারে না।’’

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলাকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে। তবে তিনি যে শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির রক্ষা করবেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমি বাংলার মাটিতে জন্মেছি, আমি বাংলা ভাষায় কথা বলব একবার নয়, লক্ষবার, কোটিবার... তাতে যদি গলাও কেটে দাও, আমার কিছু যায় আসে না।’’

এই মঞ্চ থেকে বিজেপিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন, আঘাত করলে প্রত্যাঘাত আসবেই। রবীন্দ্রনাথের কবিতার পংক্তি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা দেশের পরিবেশ বিষিয়ে দিচ্ছে, তাদের মানুষ ক্ষমা করবে কি না? বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, ‘‘মনে রাখবেন, সুস্থ বাঘের থেকেও আহত বাঘ ভয়ঙ্কর। আমাদের আঘাত করলে আমরা প্রত্যাঘাত করতে জানি। আমরা অন্যায় অবিচারে প্রতিরোধ করতে জানি।’’

আরও পড়ুন -

  1. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক চোখে দুর্যোধন, অন্য চোখে দুঃশাসন, মমতার নিশানায় অমিত শাহ
  2. দেড় কোটিকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত ! তালিকায় সেই নাম না-তোলা পর্যন্ত ধর্নার হুঁশিয়ারি মমতার